‘সংগীতে হাতেখড়ি হয়েছে বড় বোনের কাছে’

সাজিয়া সুলতানা পুতুল
সাজিয়া সুলতানা পুতুল

  • ০৯ নভেম্বর ২০২০, ২১:১০

ক্লোজআপ তারকা ও জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সাজিয়া সুলতানা পুতুল। পাশাপাশি একজন উপস্থাপক ও লেখক। গানের পাশাপাশি বইমেলাতেও প্রকাশিত হচ্ছে বই, সঙ্গে উপস্থাপনা তো আছেই। গান, লেখালেখি, উপস্থাপনাসহ সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাক্ষাত্কারে তার সঙ্গে কথা বলেছেন- রুহিত সুমন

গানের ব্যস্ততা...
বর্তমানে স্টুডিওতে এখন বেশি সময় দেয়া হচ্ছে। নতুন বেশ কিছু কাজ হচ্ছে অনেকের সঙ্গেই। নতুন বেশ কিছু অপ্রকাশিত গান রয়েছে সেগুলো ভিডিও আকারে প্রকাশিত হবে বিভিন্ন সময়ে। আমার নিজস্ব কম্পোজিশনে যেটা ‘পুতুলগান’ সেটাও বেশ কিছু নতুন গান ‘পুতুলগান পুনরুত্থান’ অ্যালবাম নিয়ে উপস্থিত হব আশা করছি। লেখালেখির ব্যস্ততাটাও অনেক বেশি। সেখানেও সময় দিতে হচ্ছে। তাই আমার কম্পোজিশনের কাজটা একটু ধীর গতিতে এগোচ্ছি। তবে কাজ যহেতু শুরু করতে পেরেছি দ্রুত শেষও করে ফেলতে পারব ইনশা আল্লাহ ।

নতুন বই...
লেখালেখি চলছে পূর্ণগতিতে যেহেতু বইমেলার আর বেশি সময় নাই। পাণ্ডুলিপিও সহসা জমা দিতে হবে। তো এই মুহূর্তে ব্যস্ততাটা বেশি লেখালেখি নিয়েই। এছাড়া যেহেতু ‘আত্মজৈবনিক’ উপন্যাসটি লিখছি আমি এই বছর, মানে আগত বইমেলায় প্রকাশিত হতে যাচ্ছে উপন্যাসটি। তাছাড়া একটি কাব্যগ্রন্থসহ বইমেলায় দুটো বই নিয়েই আমি আসতে পারব। তবে কাব্যগ্রন্থটির নাম এখনো ঠিক হয়নি। আশা করছি আমি আগামী মাসে বইটির নাম চূড়ান্ত করতে পারব।

উপস্থাপনা...
আপাতত কোন টিভি প্রোগ্রাম উপস্থাপনা করছি না। আমার উপস্থাপনার বয়সও প্রায় একযুগ। আমার উপস্থাপনায় দেশ-বিদেশের স্বনামধন্য মানুষ অতিথি হয়েছেন। আমি মনে করি, এটা আমার অর্জন বা সমৃদ্ধির কজ্ঝারিয়ার, যেটা আমার অতিথিদের কারণেই সম্ভব হয়েছে। এই মুহূর্তে টিভিতে খুব বৈচিত্র্যময় কিছু না হলে আপাতত করছি না। আর ফেসবুক আইডি থেকে ‘পুতুল কথন’ নামে একটি লাইভ প্রোগ্রাম করছি যেটা একেবারেই নারীদের একটি মঞ্চ, যেখানে ইতোমধ্যে অনেক গুণী ব্যক্তিবর্গ অতিথি হিসেবে ছিলেন।

সংগীতে আগমন...
সংগীতে আমার হাতেখড়ি হয়েছে বড় বোনের কাছে। সংগীত মনস্ক পরিবারেই আমার জন্ম। সেখানে পরিবার থেকেই সংগীতটা পাওয়া। আমার শৈশব কেটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সেখানে আমার সংগীত জীবনের শুরু। শৈশব থেকেই সংগীতকে সঙ্গে নিয়েই আজকের আমার এই পর্যন্ত পথচলা এবং পথচলা আরো দীর্ঘ হবে সেই স্বপ্নই আমি দেখি। এরপর ধাপে ধাপে সংগীতের নানা প্রতিযোগিতায় আমি জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করা, স্বর্ণপদক প্রাপ্তি তার মধ্যে নতুন কুঁড়ি পুরস্কার উল্লেখযোগ্য। সর্বশেষ আমার অংশগ্রহণ করা প্রতিযোগিতা হলো ‘ক্লোজআপ ওয়ান-২০০৬’।

মজার স্মৃতি...
ক্লোজআপ ওয়ান পুরোটাই আমার জীবনের একটি স্মৃতি বা অধ্যায়। সেই অধ্যায়টিই সহায়ক হয়েছে আমার পরিচয় তৈরিতে। তারপরেও আমার শীর্ষ দশের দেশের বাইরে বা বিভিন্ন জায়গায় একসাথে যাওয়ার জন্য যাত্রা করতাম সেই সময় অনেক ঘটনা ঘটেছে। এখন মনে পড়লে খুব ভালো লাগে। সবাইকে খুব মিস করি।

বড় প্রাপ্তি...
আমার শৈশবের বড় প্রাপ্তির কথা যদি বলি তাহলে সেটা পুরস্কার প্রাপ্তি তো অবশ্যই আছে। নতুন কুঁড়ি ২০০৩-এ আমি পুরস্কার পেয়েছি, সেটা আমার কাছে অনেক স্মৃতিবহুল ও সম্মানের ব্যাপার ছিল শৈশবে। আর পরবর্তী সময় এসে এখন তো মানুষের ভালোবাসা সবচেয়ে বড় অর্জন, সবচেয়ে বড় পাওয়া। শ্রোতাদের ভালোবাসার জন্যই কিন্তু মূলত গান গাই। একটা কাজের পরে যখন মানুষের মূল্যায়ন পাই সেটাই আমার কাছে বড় প্রাপ্তি বলে মনে হয়।

স্টেজ শো...
আমি মঞ্চটা ভীষণ উপভোগ করি। কারণ মঞ্চে অল্প সময়ে আমার অনেক অজানাকে জানা, অচেনাকে চেনা হয়। আমার পরিবেশনার মাধ্যমে অনেক অজানা মানুষ আমার কাছের মানুষে পরিণত হন। যখন এটা অটোগ্রাফ বা একটা ছবির জন্য জন্য যখন মুখিয়ে থাকেন দর্শক-শ্রোতারা অনুষ্ঠানের আগে বা পরে সেই মুহূর্তগুলো আমাকে আরো বেশি দায়বদ্ধ করে শিল্পের প্রতি, গানের প্রতি।

অবসরে...
আমার পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাই। পেশাগত কাজের পরে যেটুকু সময় পাই সেটা আমার বাড়িতেই কাটে, পরিবারের সঙ্গেই কাটে। আর বাইরে ঘুরতে যাওয়ার বিষয় হলে সেখানেও পরিবার আমার সঙ্গে থাকে। তো অবসরটা সেভাবেই বেশি কাটানো হয় ।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা...
আমার ‘পুতুল গান’ যে ধারাটি নিয়ে আমি দশটা বছর কাজ করছি সেটা নিয়ে আমার পরিচিত বা অনুরাগীরা অবগত। আমার গান বা কবিতা দিয়ে হারমোনিয়ামের মাধ্যমে নতুন কিছু তৈরির একটা প্রচেষ্টা থাকে। এই ধারাটি সবাই ভালোবেসেছেন এবং এই ভালোবাসাটি সামনেও অব্যাহত থাকবে এটি আমার বিশ্বাস। পরিকল্পনা বলতে এই ধারাটি একটি পরিচিত বা প্রতিষ্ঠিত ধারা হবে এটাই স্বপ্ন। গান নিয়েই থাকতে চাই, গান নিয়েই মরতে চাই এটুকুই বলতে পারি আরকি।

মানবকণ্ঠ/এইচকে



poisha bazar

ads
ads