অভিনয় আমার দ্বিতীয় জীবন

- ফাইল ছবি

poisha bazar

  • ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১৩:৫২,  আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১৩:৫৪

নতুন প্রজন্মের জনপ্রিয় নায়ক জয় চৌধুরী। তিনি ইতোমধ্যে অভিনয়ে যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেই বেশ নজর কেড়েছেন দর্শকদের। এবার খ্যাতনামা নির্মাতা মনতাজুর রহমান আকবরের নতুন সিনেমা ‘আয়না’য় আঁচলের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করছেন জয়। নতুন ছবি ‘আয়না’ ও অভিনয় জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। কথা বলেছেন- অচিন্ত্য চয়ন

শুরুর গল্প বলুন...
আমার শোবিজে আসার গল্পটা একটু অন্যরকম। ২০০৫ থেকে র‌্যাম্পে অনেক শো করেছি। আমার মডেল হওয়ার ইচ্ছে ছিল কিন্তু আমি সিনেমায় যে ঢুকবো সে ইচ্ছে আমার কোনদিন ছিল না। আমার কখনো মাথায় আসেনি কিন্তু আমি যখন এমবিএর মাঝামাঝি আমাকে নিয়ে শ্রদ্ধাভাজন মনোয়ার হোসেন ডিপজল একটি সিনেমা বানানোর পরিকল্পনা করলেন। পরবর্তীতে ওনার ফুলবাড়িয়াতে একটি শুটিং স্পষ্ট আছে সেখানে আমাকে রেখে অ্যাকটিং, ড্যান্স, ফাইটিং শিখিয়ে এফ আই মানিককে দিয়ে ‘এক জবান’ ছবির মাধ্যমে আমাকে ছিনেমা জগতে আনেন।

অভিনয় পেশা, নেশা নাকি শখ...
অভিনয়ই আমার নেশা ও পেশা এটা এখন আমার রক্তের সঙ্গে মিশে গেছে ২০১২ সালে যখন আমার একজবান ছবিটি মুক্তি পায় তারপর আর ইচ্ছে ছিল না যে আমি আবার অভিনয় করি পরবর্তীতে ২০১৪ সালে আমি আবার ফিরে আসি বা অন্য সিনেমাতে সাইন করি তখন আমার মনে হলো যে সিনেমা অনেক বড় একটা ম্যাটার এর ভিতরে আমি ঢুকে যাচ্ছি সুতরাং এখন মনে হচ্ছে রক্তের সঙ্গে মিশে গেছে সিনেমার মানুষগুলো আমার সিনেমার জগৎ টাকে আমার দ্বিতীয় হোম মনে হয়। আমার মনে হয় এটাই আমার আরেকটা সংসার সবাইকে আমি অনেক বেশি ভালোবাসি সবাই আমাকেও অনেক ভালোবাসে সুতরাং এটাই এখন আমার পেশা।

প্রথম সিনেমায় অভিনয়...
সিনেমায় অভিনয়ের জন্য আমার যতটুকু তৈরি হওয়া দরকার আমি তৈরি হয়ে ছিলাম এক বছর যাবৎ আমি প্রস্তুত হচ্ছিলাম কারণ আমার সিনেমাতে অনেক বড় বড় সুপারস্টারটা ছিলেন সাদেক বাচ্চু, মিশা সওদাগর, আনোয়ারাদের মতো অভিনেত্রীরা ছিলেন সুতরাং সবার সঙ্গে আমার একটা সুসম্পর্ক হয়েছিল প্রথম যখন ক্যামেরার সামনে দাড়াই তখন ভয় লাগছিল। ক্যামেরার বাহিরে কথা বলা আর ক্যামেরার সামনে কথা বলা এক নয় এখানে ভয়ের একটা ব্যাপার আছে ক্যামেরার সামনে অভিনয় করা অত সহজ নয়।

‘আয়না’য় আপনার চরিত্র...
আয়না চলচিত্রে আমার চরিত্রটা একটু অন্যরকম অনেক নায়কেরা এ ধরণের চরিত্রে অভিনয় করে না একদম অজপাড়াগাঁয়ের খেটে খাওয়া একজন ছেলে। সে সব সময় প্রতিবাদী। গ্রামের মানুষ অনেক ধরনের কুসংস্কার নিয়ে বসবাস- যা আমাদের বিশ্বাস করা উচিৎ না, যেটা বিশ্বাস করলে কিছু মানুষ ও পরিবার ধংস হয়ে যেতে পারে। এই গল্পে আমার যে চরিত্র তুলে ধরা হয়েছে- আমি সব সময় গরীবের পাশে দাঁড়াই। নিজেও কষ্টে থাকি তবু অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই। মূলত গল্পের মধ্যে যতগুলো কুসংস্কার ব্যবহৃত হয়েছে সেগুলোর বিপরীতে আমাদের যে কাজগুলো করা উচিত সেগুলো করতে, কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়- সেই চিত্র আমার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

‘আয়না’র গল্প ভালো লাগার কারণ...
ছটকু আহমেদের প্রতিটি গল্পের ভিন্নতা আছে- তাই ‘আয়না’ গল্পটি ভালো না লাগার কারণ নেই। সঙ্গে গুণী পরিচালক মনতাজুর রহমান আকবরের কাজগুলো সবার থেকে একটু আলাদা হয়। এটি অনেকটাই সোশ্যাল অ্যাকশন মুভি। সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয়েছে দর্শকদের ভালো লাগবে।

আপনার দৃষ্টিতে বাংলা চলচ্চিত্র...
বাংলা চলচ্চিত্রকে আমি দ্বিতীয় জীবন মনে করি। কারণ এটা আমার আরেকটা জীবন। এখানকার মানুষ গুলো আমার আরেকটা পরিবার। চলচিত্রের বর্তমান অবস্থা ভালো না। তবে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুনজর অনেকটা প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আমি চাই সিনেমার পরিবেশটা অনেক ভালো হবে করোনা আমাদেরকে শিখিয়েছে- সবকিছু শেষ হওয়ার পরেও কিভাবে বাঁচা যায়!

আপনার অবস্থান...
বর্তমানে শুধু আমার নয়, চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সকলেরই অবস্থা ভালো না। তবে চলচ্চিত্র আবার হারানো গৌরব ফিরে পাচ্ছে। আবার সচল হবো আমরা- সবকিছু মিলিয়ে যখন মনে হয় নতুন সূর্য উঠবে। আমরা আশা করছি- অবশ্যই চলচ্চিত্র হারানো গৌরব ফিরে পাবে।

প্রতিবন্ধকতার গল্প...
শোবিজে প্রতিবন্ধকতা নেই- এমন কোনো শিল্পী আছে বলে মনে হয় না। প্রতিবন্ধকতা না থাকলে শিল্পীই হওয়ার কথা না। শুধু শিল্পী নয়, সবাইকে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। সুতরাং আমরা চাইলেই তো থামিয়ে রাখতে পারব না, এসব মেনে নিয়েই আমাদের এগোতে হবে- এটাই আমাদের জীবন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা...
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আমি সিনেমাকে নিয়েই ভাবতে চাই। দর্শকদের ভালো ভালো কিছু সিনেমা উপহার দিতে চাই।

মানবকণ্ঠ/এসকে






ads