‘বাংলা চলচ্চিত্রকে স্বপ্নের রাজ্য হিসেবে দেখি’


poisha bazar

  • অচিন্ত্য চয়ন
  • ১৭ অক্টোবর ২০২০, ১৪:৪১,  আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২০, ১৭:২১

চিত্রনায়িকা শিরিন শিলার শুরু মডেলিং দিয়ে। তারপর নাচ দিয়ে পা রাখেন চলচ্চিত্রে। তিনি এ প্রজন্মের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা। ওয়াজেদ আলী সুমন পরিচালিত ‘হিটম্যান’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন। পরে পেছন ফেরাতে হয়নি। সময়ের সঙ্গে তার অভিনীত চলচ্চিত্রের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। শিলা বর্তমান অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বর্তমান ব্যস্ততা ও অভিনয় জীবনরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। কথা বলেছেন— অচিন্ত্য চয়ন

শুরুর গল্প...
আমার ছবিতে শুরুটা হয়েছিল নাচ দিয়ে এবং আমি ছোটবেলা থেকে নাচ করতাম আর নাচের মাধ্যমে আমার অভিনয়ে আসা তো শখ করে অভিনয়ে এসেছি তারপর অভিনেত্রী হয়ে গেছি।

অভিনয় পেশা, নেশা নাকি শখ?
অভিনয় আমার প্রথমে শখ ছিল, এখন আমার নেশা-পেশা দুটোই।

প্রথম অভিনয়ের অভিজ্ঞতা...
প্রথম অভিনয় করার অভিজ্ঞতা খুবই মজার ছিল। যেহেতু আমি নাচের শিল্পী। নাচের মেয়েরা অভিনয়ে এত ভয় পায় না, আমি যখন প্রথম সিনেমায় অভিনয় করি ‘হিটম্যান’ চলচ্চিত্রে তখন আমার মোটেও মনে হয়নি যে আমি প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছি, প্রথম ছবি করছি বা প্রথম কোনো বড় পর্দায় কাজ করছি— মনেই হয়নি। খুব স্বাভাবিকভাবে কাজ করেছি। সবার সঙ্গে খুব মিলেমিশে কাজ করার কারণে কিছুই মনে হয়। অনেক বড় সুপারস্টাররা আমার সঙ্গে ছিল— শাকিব খান, মিশা সওদাগর, অপু বিশ্বাস এত বড় তারকাদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করেছি খুব ভালো লেগেছে।

বাংলা চলচ্চিত্রকে কিভাবে দেখেন?
অবশ্যই বাংলা চলচ্চিত্রকে স্বপ্নের রাজ্য হিসেবে দেখি। আমি বাংলা চলচ্চিত্রের একজন অভিনেত্রী। এ চলচ্চিত্র দিয়েই মানুষ আমাকে চেনেন। আমি চলচ্চিত্রকে নিজের পরিবারের মতো দেখি। আমার পরিবারকে যতটুকু ভালোবাসি, চলচ্চিত্রকেও ততটুকুই ভালোবাসি।

বর্তমান আপনার অবস্থান...
আমি সন্তুষ্ট কারণ বর্তমানে যে পরিস্থিতি চলছে এখন এই পরিস্থিতির মধ্যে টিকে আছি এটাই অনেক বেশি। আলহামদুলিল্লাহ এখনো মানুষ আমাকে চেনে যে শিরিন শিলা এখনো বর্তমানে কাজ করে যাচ্ছি দাপটের সঙ্গে এটাই অনেক বড় পাওয়া। বাংলা চলচ্চিত্র থেকে বড় পাওয়া আর আমার নেই। আমার অবস্থান নিয়ে অবশ্যই অনেক বেশি সন্তুষ্ট।

প্রতিবন্ধকতার গল্প...
হ্যাঁ অবশ্যই আছে— শোবিজ তারকার ক্ষেত্রে হয় যেমন নতুন কোনো পরিচালক আমার সঙ্গে এসে কাজ করতে চান, তিনি যদি কাউকে জিজ্ঞেস করেন শিরিন শিলাকে নিয়ে কাজ করতে চাই কেমন কাজ করে? যারা চায় না যে আমি কাজ করি, তারা অবশ্যই ডিরেক্টরদের আগেই ঘাবড়াইয়া দেবেন— ভাই শিরিন শিলা তো আপনার সিডিউল ফাঁসাইয়া দেবে, ওকে নিয়েন না, অনেক ঝামেলায় পড়বেন— এ রকম অনেক কথাই বলে। তবে আমি একটি কথা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি— ‘বৃক্ষ তোমার নাম কি ফলে পরিচয়’। তাই আমার যোগ্যতা অনুযায়ী নীরবে কাজ করে যাচ্ছি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা...
বর্তমানে আমি একজন তারকা, ভবিষ্যতে কারও ঘরের বউ হব, বাচ্চাকাচ্চা নেব, সংসার করব—এটাই তো ভবিষ্যৎ।

বাংলা চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ...
বাংলা চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ আমি নিজেও জানি না। এখন পুরো পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নিয়েই তো আমরা কনফিউজড। করোনা ভাইরাসের বিষয়ে দেশ কোথায় গিয়ে থামবে। চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলাটা বোকামি হয়ে যাবে, সময়ই বলে দেবে চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ কী?

সামাজিক অস্থিরতা...
সামাজিক অস্থিরতা রোধ করতে আমি শিল্পী হিসেবে আমার এতটুকু দায়িত্ব আছে আমি মানুষকে সচেতনতামূলক বক্তব্য দিতে পারি। কারণ দর্শকরা সব সময় সেলিব্রেটিদের কথায় গুরুত্ব দেয়। আমি চেষ্টা করি সামাজিক এই অস্থিরতা রোধ করতে মানুষকে সচেতন করব। এভাবে আমি সচেতনতা দিয়ে মানুষকে সহযোগিতা করতে পারি।

পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কি বলবেন?
আমাদের আগে যে প্রজন্ম ছিল তাদের দেখে আমি অনেক কিছুই শিখেছি। অগ্রজরা অবশ্যই কাজের প্রতি অনেক মনোযোগী ছিলেন, তারা কাজটাকে অনেক শ্রদ্ধা করত। কাজের জায়গায় গুরুজনদের প্রতি অনেক শ্রদ্ধা ছিল, আছে, থাকবে। আমি বলব পরবর্তী প্রজন্ম যারা আসবে তারা আমাদের থেকে শিখবে। সুতরাং আমাদের অবশ্যই অনেক বুঝে-শুনে চলেতে হবে। কতটুকু সাকসেস হবে আমি চলচ্চিত্রের দিক থেকে যদি বলতে যাই তাহলে বলব যে, বর্তমানে হলের সংখ্যা কমেছে। যারা আসবে তারা হয়তো আরও ভালো ভালো কাজ করতে পারবে। চলচ্চিত্র অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াবে, পরবর্তী প্রজন্ম আরও অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads