‘‘নানাবিধ চমক রয়েছে ‘বীরত্ব’ সিনেমার গল্পে’’

নিশাত নাওয়ার সালওয়া
নিশাত নাওয়ার সালওয়া

poisha bazar

  • অচিন্ত্য চয়ন
  • ১৬ অক্টোবর ২০২০, ১১:৪৭,  আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২০, ১২:২০

নিশাত নাওয়ার সালওয়া হালের জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী। তিনি মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৮-এর চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে নজর কেড়েছিলেন। সেখান থেকে বেরিয়ে কাজ করেছেন টেলিভিশন বিজ্ঞাপন, মিউজিক ভিডিওতে। সম্প্রতি মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত ‘স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা’ সিনেমার কাজ শেষ করেছেন। কাজ করছেন সরকারি অনুদানে নির্মিত সিনেমা ‘এই তুমি সেই তুমি’তে। এটি পরিচালনা করছেন গুণী অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী। ‘বীরত্ব’ তার তৃতীয় ছবি। বর্তমান ব্যস্ততা ও অভিনয় জীবনরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয় এই তরুণ অভিনেত্রীর সঙ্গে। কথা বলেছেন- অচিন্ত্য চয়ন

শুরুর গল্প...
মূলত মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৮-এর পর থেকে পুরোপুরিভাবে এ প্রফেশনের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়া। এর আগে শুধু পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম।

অভিনয় আপনার পেশা, নেশা নাকি শখ?
সত্যি বলতে শুরুতে আমি অভিনয়কে কখনোই প্রফেশন হিসেবে নিতে চাইনি। কোনো পরিকল্পনাও ছিল না যে, আমি শোবিজে কাজ করব। শুরু করার পর আমার কাজের প্রতি অসম্ভব ভালোলাগা সৃষ্টি হয়েছে।

প্রথম সিনেমার অভিজ্ঞতা...
অসাধারণ। পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক ভাইসহ পুরো ইউনিট আমাকে অসম্ভব সহযোগিতা করেছেন। নতুন হিসেবে আমি অনেক লাকি।

‘বীরত্ব’ সিনেমায় আপনার চরিত্র নিয়ে বলুন...
আমি একজন ডাক্তারের চরিত্রে অভিনয় করছি। মফস্বল অঞ্চলে সেবা দিতে গিয়ে নানা রকম ঘটনাপ্রবাহের সৃষ্টি হয়। তৈরি হয় ভিন্নচিন্তার জগৎ।

‘বীরত্ব’ সিনেমার গল্প ভালোলাগার কারণ...
ভালো সিনেমা তৈরিতে একটি শক্তিশালী স্ক্রিপ্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গল্পটিতে ভিন্নতা ও নানাবিধ চমক রয়েছে। সেই কারণেই গল্পটি আমার ভালো লেগেছে।

অভিনয় পেশাকে আপনি কিভাবে দেখেন?
শিল্পের সৃষ্টি যেখানে সেটি তো অবশ্যই সুন্দর। তবে সকলের সহযোগিতায় মাধ্যমটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে হবে। তাহলে দর্শক আকৃষ্ট হবে।

বর্তমান সময় আপনার জন্য অনুকূলে?
২০২০ সাল প্রত্যেকের জন্যই প্রতিকূল। চিকিৎসা, অর্থনীতি, শিক্ষা, বিনোদন প্রতিটা সেক্টরেই করোনাকালে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আশা করছি দ্রুতই এ মহামারীর অবসান ঘটবে এবং মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হবে।

প্রতিবন্ধকতা...
প্রতিবন্ধকতা শুধু শোবিজে নয়, জীবনে চলার পথে প্রতিক্ষেত্রেই থাকে। নিজের মূল্যবোধ ও বুদ্ধি দিয়ে সেসব সমস্যা মোকাবিলা করা কোনো ব্যাপারই নয়।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা...
আমি কখনোই পরিকল্পনা করে জীবনে কোনো সিদ্ধান্ত নেই না। সময় ও অবস্থার উপর নির্ভর করে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

ওয়েব সিরিজ নিয়ে কিছু বলুন...
প্রত্যেকের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। সব কন্টেন্ট যে সবাই একইভাবে গ্রহণ করবে এমন নয়। এটি নির্ভর করে কোন শ্রেণির দর্শকের কথা চিন্তা করে কন্টেন্ট নির্মাণ করা হচ্ছে তার উপর। নেতিবাচকতা এড়িয়ে দর্শকপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে এ রকম কিছুই নির্মাণ করা উচিত।

বাংলা চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ ...
অতীতে বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালী যুগ ছিল। আমি বিশ্বাস করি অবশ্যই সেটি ফিরে আসবে। হাল ছেড়ে দিলে চলবে না। তবে চলচ্চিত্রের উন্নয়নের জন্য সার্বিক কিছু জিনিস আধুনিকায়ন করতে হবে। হলগুলো সংস্কার অতিসত্বর প্রয়োজন। অনেকেই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও হলগুলোর যথাযথ পরিবেশ না থাকার কারণে সিনেমা দেখতে যায় না। এ ব্যাপারগুলো উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তিকে এগিয়ে আসতে হবে।

মিডিয়ার ভূমিকা কতটুকু...
মিডিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের নতুন কাজের আপডেট সম্পর্কে সংবাদকর্মীরা দর্শকদের অবগত করেন। একে অপরের পরিপূরক বলা যায়। কেননা তাদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের উপর ভিত্তি করে দর্শকদের কাছে শিল্পীর গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়।

পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কিছু বলুন...
জীবনে চলার পথে অনেকে বাধাগ্রস্ত হবে প্রতিনিয়ত। তবে কখনোই ধৈর্য্যহারা হলে চলবে না। নিজ কাজের প্রতি সততা ও মনোযোগ থাকলে দেরিতে হলেও সাফল্য আসবে। যারা সবকিছুতে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন, তাদের সঙ্গ এড়িয়ে চলতে হবে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads