‘আমার স্বপ্নের মূল কেন্দ্রবিন্দু গান’

মৌমিতা বড়ুয়া
মৌমিতা বড়ুয়া

poisha bazar

  • অচিন্ত্য চয়ন
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:০২

বাবা ত্রিদিব বড়ুয়া রানা একজন বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক। মেয়ে মৌমিতা বড়ুয়া সংগীতাঙ্গনে স্বাক্ষর রাখবেন এটাই স্বাভাবিক। বাবার কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়েই তার সংগীতচর্চা শুরু। চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠ প্রতিযোগিতায় ২০১৭ সালে অংশ নিয়ে মিডিয়ায় আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এরপর থেকে এগিয়ে যাচ্ছেন তার কণ্ঠের জাদু দিয়ে। ক্রমাগত শ্রোতাদের প্রিয় শিল্পী হয়ে উঠছেন মৌমিতা। এ প্রজন্মের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মৌমিতা বড়ুয়ার বর্তমান ব্যস্ততা ও গানজীবন নিয়ে কথা হয় ‘৭ প্রশ্নে তারকাজীবন’ বিভাগে। কথা বলেছেন- অচিন্ত্য চয়ন

শুরুর গল্পটা বলুন।
সংগীত আমাদের পুরো পরিবারের কাছে ঈশ্বরের আরাধনার মতো। ফলে আমার পরিবার কাছ থেকে যথেষ্ট সহযোগিতা পাব এটাই স্বাভাবিক। চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠ প্রতিযোগিতার পর প্রফেশনাল ক্যারিয়ার শুরুর সময় পরিবার সাপোর্ট করেছে। মা পেশায় একজন আইনজীবী। ব্যস্ততার মাঝেও আমার আর আমার বোনের গানের জন্য প্রচুর সময় ব্যয় করতেন। আজকে এই জায়গা আসার পেছনে পরিবারের বড় অবদান রয়েছে।

করোনাকালে আপনার গানজীবন কেমন কাটছে?
করোনাকে আমি শিল্পী জীবনের বিশেষ একটা পর্যায় হিসেবে ধরে নিয়েছি। অনেক ক্ষতির পাশাপাশি, করোনা আমাদের আরো মনোযোগী করতে পেরেছে। যেটা একটা বিশাল বড় দিক। আমার ক্ষেত্রেও সেই ঘটনা ঘটেছে- করোনা আমাকে আরো মনোযোগী করেছে।

নতুন কাজ নিয়ে বলুন।
মৌলিক গানের কাজ করছি। যেগুলোর অনেকটা জুড়েই বিশিষ্ট কবি, গীতিকার, সুরকার, শিল্পী লুৎফর হাসানের নামটা থাকবে। যেগুলো খুব সম্প্রতি শেষ হবে। রজনীকান্ত সেনের একটা গান কভার করেছি। যেটা আমার শ্রোতাদের জন্য একটা বিশাল চমক হতে পারে। সেটার মিউজিক ভিডিও অচিরেই প্রকাশ হবে।

প্রতিবন্ধকতার কথা বলুন।
আমাদের দেশে অগ্রজরা নতুনদের কাজ দিতে ভয় পান। গান শোনার আগেই আস্থা হারিয়ে ফেলেন। ভরসা পান না। তবে তার উল্টোটাও হয়েছে আমার জীবনে। অনেকেই ভরসা করে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। তখন ভালো কাজ করতে পারার জন্য আলাদা আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। সর্বোপরি নিজেকে তৈরি করতে হবে। তবেই প্রতিবন্ধকতা ক্রমশ দূর হবে।

প্রথম ও প্রিয় গান নিয়ে কিছু বলুন।
আমার প্রথম মৌলিক গান ‘গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি’। যেটি ইমপ্রেসের ব্যানারে মুক্তি পায়। আর প্রিয় গানের তালিকা বিশাল। এক কথায় বলা কঠিন।

গানের বাইরে কিছু করার ইচ্ছে আছে কি?
গানের বাইরে আপাতত তেমন কিছু ভাবছি না। তবে যে বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেছি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, তা নিয়ে আরো উচ্চতর গবেষণা ও লেখালেখির ইচ্ছে আছে ভবিষ্যতে।

প্রতিদিনের কাজের কথা বলুন।
প্রতিদিনের কাজের ক্ষেত্রে বলব- আমি ভীষণ অগোছালো। ধরা বাঁধা জীবনযাপন আমার খুব একটা পছন্দ হয় না। আমি থাকি মুক্ত পাখির মতো। যেটাকে অনেকে বিলাসিতা করে ফ্লেক্সিবল লাইফস্টাইলও বলে। তবে শুটিং বা রেকর্ডিংয়ে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করি অন টাইমে পৌঁছানোর। মানে আমার ফ্লেক্সিবল জীবন যাপনের কোনো বাজে প্রভাব আমার কাজে পড়তে দেই না।

আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কথাটার অনেক ব্যাপকতা আছে। আমি আসলে স্বপ্ন দেখি। ছোট স্বপ্ন, বড় স্বপ্ন। যে স্বপ্নের মূল কেন্দ্রবিন্দু গান। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গান নিয়ে বাঁচা আমার স্বপ্ন।

বাংলা গানের ভবিষ্যৎ নিয়ে বলুন।
বাংলা গানে হঠাৎ করে একটা অস্থিরতা চলে এসেছে। তবে আশার বাণী হলো এতো কিছুর মধ্যেও ভালো কাজ হচ্ছে। এই ভালো কাজগুলোর জন্যই বাংলা গানের ভবিষ্যৎ নির্মল, সুন্দর।

পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কিছু বলুন।
বর্তমান বেশ প্রতিযোগিতার যুগ। মেধাযুদ্ধে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন পরিশ্রম। তাই নিজের ত্রুটিগুলোর দিকে নজর দিয়ে ক্রমাগত নিজেকে তৈরি করতে হবে। নিজেকে ভাঙতে হবে, আবার গড়তে হবে। তবেই সফলতা আসতে পারে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে 





ads







Loading...