বলিউডে বিউটি কুইন

রেজাউল করিম খোকন

বলিউডে বিউটি কুইন

poisha bazar

  • ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৪৭

গত বছর বলিউডের শীর্ষস্থানীয় চলচ্চিত্র প্রযোজনা, প্রতিষ্ঠান ইয়াশ রাজ ফিল্মস বেশ ঘটা করে অক্ষয় কুমারের জন্মদিনে ‘পৃথ্বিরাজ’ ছবিটি নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিল। ঐতিহাসিক পটভূমির এ ছবিতে নামভূমিকায় অক্ষয় কুমার অভিনয় করছেন। রাজপুত রাজা পৃথ্বিরাজের স্ত্রী সংযুক্তা চরিত্রে রূপদানের মাধ্যমে রুপালি পর্দায় অভিনেত্রী হিসেবে অভিষেক হচ্ছে ২০১৭ সালে মিস ওয়ার্ল্ড শিরোপা জয়ী ভারতীয় সুন্দরী মানুষি চিল্লারের। হারিয়ানা রাজ্যের মেয়ে মানুষি ঐ একই বছরে ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সেরা সুন্দরী বিবেচিত হয়েছিলেন।

এ বছরেই ‘পৃথ্বিরাজ’ ছবির কাজ শেষ হয়ে মুক্তির জন্য প্রস্তুত হওয়ার কথা থাকলেও বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে এ ছবির কাজ থেমে গেছে। পরিবেশ পরিস্থিতি অনুক‚লে এলে আবার ঐতিহাসিক এ ছবির কাজ শুরু হবে। মিস ওয়ার্ল্ড শিরোপাজয়ী মানুষি নিজেকে একজন অভিনেত্রী হিসেবে গড়ে তুলতে বেশ কিছুদিন ধরে নানা কসরত করেছেন। অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, নাচ শিখেছেন। কারণ, রাজকুমারি সংযুক্তা চরিত্রটি যথাযথ রূপদানের মাধ্যমে বলিউডে বেশ ভালোভাবে অভিষিক্ত হতে চান এই বিশ্বসুন্দরী। কাজটিকে দারুণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন ভারত সুন্দরী ২৩ বছর বয়সী এই তরুণী। বলিউড এখন মানুষি চিল্লারের রুপালি পর্দায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। বিশ্বসুন্দরীর তকমা নিয়ে বলিউডে নায়িকারূপে আত্মপ্রকাশ নতুন কোনো ঘটনা নয়। এটা দীর্ঘদিন থেকে চলা একটি নিয়মে কিংবা ব্যাপারে পরিণত হয়েছে বলা যায়।

১৯৭০ সালে দ্বিতীয় রানারআপ মিস ইন্ডিয়া শিরোপা জয় করে জাপানে অনুষ্ঠিত মিস এশিয়া প্যাসিফিক সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়েছিলেন জিনাত আমান। সেই প্রতিযোগিতায় তিনিই ছিলেন প্রথম ভারত সুন্দরী, এর পরপরই জিনাত আমানের বলিউডে অভিষেক হয়েছিল। নায়িকা হিসেবে হিন্দি চলচ্চিত্রে একজন সফল গ্ল্যামারাস, সুন্দরী অভিনেত্রী হিসেবে খ্যাতি ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছেছিলেন তিনি। ১৯৯৪ এ ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া শিরোপা জয় করে বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতার আসরে গিয়েছিলেন বাঙালি সুন্দরী সুস্মিতা সেন। তখন তার বয়স ছিল ১৮।

মিস ইউনিভার্স শিরোপা জয় করে সুস্মিতা বলিউডে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন সাইকো থ্রিলার ‘দাস্তাক’ ছবির মাধ্যমে। একই বছর মিস ওয়ার্ল্ড শিরোপা জয় করেছিলেন ঐশ্বরিয়া রাই। তামিল ছবি ‘ইরুভার’ এর মাধ্যমে সিনেমায় অভিনয় শুরু করলেও বলিউডে তার অভিষেক হয়েছিল ‘আউর পেয়ার হো গ্যায়া’ ছবির মাধ্যমে। সমসাময়িক দুই বিশ্বসুন্দরী প্রায় একই সময়ে হিন্দি সিনেমার অঙ্গনে পা রাখলেও তুলনামূলক বিচারে ঐশ্বরিয়া সুস্মিতার চেয়ে বেশি এগিয়ে ছিলেন। সুস্মিতাকে বলিউডি সিনেমায় অনেকদিন ধরে দেখা যায়না। অবশ্য অনেকদিন পর হালে তাকে একটি ওয়েব সিরিজ ‘আরয়া’তে নাম ভ‚মিকায় দেখা গেছে।

ঐশ্বরিয়া রাই বলিউডে খ্যাতি ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে অভিষেক বচ্চনকে বিয়ে করে সংসারি হয়েছেন। বিয়ের পর থেকে অভিনয়ে ব্যস্ততা কমিয়ে দেন ক্রমেই। এক কন্যার জননী ঐশ্বরিয়াকে সর্বশেষ দেখা গেছে বলিউডি সিনেমা ‘ফ্যানি খান’ এ। অনেকদিন বিরতির পর তামিল ঐতিহাসিক সিনেমা ‘পন্নিয়িন সেলভান’ এ অভিনয় করছেন তিনি এখন । বর্তমানে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে এ ছবির শুটিং বন্ধ রয়েছে।

ঐশ্বরিয়া-সুস্মিতার পর ১৯৯৭ এ আরেক ভারতসুন্দরী মিস ওয়ার্ল্ড শিরোপা জয় করেছিলেন ডায়না হেইডেন। ‘তেহজিব’ ছবির মাধ্যমে ২০০৩ সালে বলিউডে তার অভিষেক হয়েছিল। তবে অভিনেত্রী হিসেবে এই মিস ওয়ার্ল্ডের ক্যারিয়ার মোটেও এগোয়নি। ১৯৯৯ সালে মিস ওয়ার্ল্ড শিরোপা জয় করেছিলেন ভারত সুন্দরী যুক্তামুখী। বলিউডে তার ক্যারিয়ারও মোটেও এগোয়নি, গত বছরে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘গুড নিউজ’ ছবিতে তাকে খুব ছোট একটি চরিত্রে দেখা গেছে অনেকদিন পর।

২০০০ সালে মিস ইউনিভার্স হয়েছিলেন লারা দত্ত। একই বছরে মিস ওয়ার্ল্ড শিরোপা জিতেছিলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। খুব কাছাকাছি সময়ে এই দুই বিশ্বসুন্দরী বলিউডে পা রেখেছিলেন। ২০০৩ সালে ‘আন্দাজ’ ছবিতে এই দুই বিউটি কুইনকে একসঙ্গে পরস্পরের মুখোমুখি হতে দেখা গিয়েছিল। প্রিয়াঙ্কা ও লারা বলিউডে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে এক সঙ্গে যাত্রা শুরু করলেও প্রিয়াঙ্কার তুলনায় লারা অনেকটা পিছিয়ে ছিলেন। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া তার খ্যাতি, পরিচিতি ও জনপ্রিয়তার গণ্ডি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন। ‘বিশ্বসুন্দরী’ কিংবা ‘প্রাচ্য সুন্দরী’ নয়তো ‘ভারত সুন্দরী’র খেতাব নিয়ে বলিউডে পা রেখেছেন আরো অনেকেই। সুন্দরীতমা হিসেবে শিরোপা জয় করে স্বাভাবিকভাবে জনমনে আগ্রহ কৌত‚হলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। গ্ল্যামার জগতে নিজেদেরকে অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগও চলে আসে। চিত্রনির্মাতারা শিরোপা জয়ী সুন্দরীদের রুপালি পর্দায় নতুন পরিচয়ে উপস্থাপন করে তাদের বাণিজ্যিক সাফল্য নিশ্চিত করতে চান।

এভাবেই বলিউডে গত বেশ কয়েক দশকে ম্যালা সুন্দরীর পদচারণা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অভিনেত্রী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করে হয়তো বাজিমাত করেছেন। আবার কেউ একটি দুটি সিনেমায় মুখ দেখিয়ে ব্যর্থ তারকার তকমা নিয়ে দ্রুতই বিদায় নিয়েছেন। ১৯৮৪ সালে ‘মিস ইন্ডিয়া’ শিরোপা জয় করেছিলেন জুহি চাওলা। ভারত সুন্দরীর তকমা নিয়ে ১৯৮৬ সালে ‘সালতানাত’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে তার অভিষেক হয়েছিল। তবে ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ ছবির নায়িকা হিসেবে রীতিমতো ক্রেজ সৃষ্টি করেছিলেন জুহি। এরপর তাকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। একটানা অনেক দিন কাজ করেছেন বলিউডে।

বিভিন্ন সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সেরা সুন্দরী বিবেচিত হওয়া তেমনি আরো অনেকেই বলিউডে তাদের ভাগ্য পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তাদের কেউ অল্পবিস্তর ছবিতে কাজ করেছেন। নায়িকা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। আবার কেউ তাদের বলিউড মিশনে সফলতা পাননি। চরম ব্যর্থতার প্রমাণ দিয়েছেন। সফল-ব্যর্থ বিউটিকুইন বলিউড অভিনেত্রীদের প্রসঙ্গ উঠলে মিনাক্ষী শেষাদ্রি, নম্রতা শিরোদগার, পূজা বাত্রা, সেলিনা জেটলি, তনুশ্রী দত্ত, নেহা ধুপিয়া, দিয়া মির্জা, পূজা চোপড়া, সারা জেন ডায়াস, গুল পানাঙ, সঙ্গীতা বিজলানি, নাতাশা সুরি, স্বরূপ সম্পাত, শায়ালি ভাগত, পার্বতী ওমানকুটুম, সিমরান কাউর, নিহারিকা সিং, পূজা গুপ্তা, তানভি ভায়াস, উর্বশী রাওতেলা, পূজা হেগড়ের নাম আলোচনায় চলে আসে। শারীরিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি অভিনেত্রী হিসেবে যোগ্যতা প্রমাণ করতে পেরেছেন যারা, তারাই টিকে যেতে পেরেছেন রুপালি পর্দায়। শ্রীলঙ্কান সুন্দরী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ বলিউডে নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করতে এসে শেষ পর্যন্ত টিকে যেতে পেরেছেন।

যদিও নায়িকাদের ইঁদুর দৌড়ে এখনও অন্য অনেকের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছেন তিনি। এখন হিন্দি সিনেমায় অভিনেত্রী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার হাতছানি উপেক্ষা করতে পারেন না শিরোপা জয়ী কোনো সুন্দরী। যদি কোনোভাবে কপাল খুলে যায়। অর্থ, বিত্ত, প্রভাব, প্রতিপত্তি, খ্যাতি, জনপ্রিয়তা সবই হাতের মুঠোয় চলে আসবে- তেমন স্বপ্ন নিয়েই ভীরু পায়ে পদার্পণ করেন তারা বলিউডের আলো ঝলমল জগতে। সবার স্বপ্ন হয়তো শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি সফল হয় না, তবুও স্বপ্ন হাতছানি দেয় সবাইকে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads







Loading...