'পড়াশোনা না করে কখনো বড় হওয়া যায় না'

মানবকণ্ঠ
মুমতাহিনা টয়া - ফাইল ছবি

  • অচিন্ত্য চয়ন
  • ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:২৫,  আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০৯

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মুমতাহিনা টয়া। ছোট পর্দার বাইরে কাজ করেছেন একটি সিনেমায়। নাটকের পাশাপাশি এখন টয়ার দেখা মিলছে ইউটিউবেও। বর্তমান ব্যস্ততা ও অভিনয় জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘ সময় কথা হয় টয়ার সঙ্গে। দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের সংক্ষিপ্ত অংশ মানবকণ্ঠের পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো। তার সঙ্গে কথা বলেছেন- অচিন্ত্য চয়ন

নতুন কাজের কথা বলুন...
এখন নতুন কাজ রেগুলার নাটক যেগুলো সিরিয়াল সেগুলোর কাজ করছি।

করোনাকালেও ঈদে ১৬টি নাটকে অভিনয় করেছেন, নিরাপত্তা কেমন ছিল?
নিজের নিরাপত্তার দিকটি নিজেকেই দেখতে হবে। আমার দিক থেকে যতটা সতর্ক থাকা সম্ভব, ততটা সতর্ক থেকেই কাজ করছি। যখন দেখলাম, সহকর্মীদের অনেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজে ফিরতে চাইছেন, তখন আমিও সাহস পেয়েছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সতর্ক হয়ে ঈদের নাটকে অভিনয় করেছি।

নাটকের স্ক্রিপ্ট নিয়ে বলুন
নাটকের জন্য স্ক্রিপ্ট অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তা ছাড়াও অনেক সময় দেখা যায় স্ক্রিপ্ট দুর্বল হলেও চিন্তা করে কাজ করতে পারলে নাটক দর্শকপ্রিয়তা পায়। তদ্রুপ স্ক্রিপ্ট ভালো হলেও শুটিং মনের মতো না হলে নাটক দর্শকপ্রিয়তা পায় না। সবকিছু নির্ভর করছে কাজ কেমন করছেন সেটার ওপর। শুধু স্ক্রিপ্ট ভালো হলেই ভালো কাজ সম্ভব নয়।

কেমন স্ক্রিপ্টে অভিনয় করে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন?
আমি স্ক্রিপ্ট পড়েই অভিনয় করার সিদ্ধান্ত নিই। বিষয়টি এমন হয় যে আমার একটি স্ক্রিপ্ট পছন্দ হলো সেটা আরেকজনের পছন্দ নাও হতে পারে। এটি নির্ভর করে নিজের রুচিশীলতার ওপর।

স্ক্রিপ্ট পড়ে না করে দেয়ার ঘটনা...
এ রকম তো প্রায়ই হয়। এটা তো খুব সাধারণ ঘটনা। শুধু এটা না, প্রতিটা আর্টিস্ট এটা করে। আমাদের হাতে অনেক স্ক্রিপ্ট থাকে সেগুলো আমরা কাজ করি। আমার কাছে যেটা ভালো লেগেছে সেটা অন্য আরেকজনের কাছে ভালো নাও লাগতে পারে। ব্যাপারটা এমন যে আমি যেটাতে কাজ করছি না অন্য আরেকজন সেটাতে কাজ করছে। এটাই আমি আপনাকে বললাম সবার পছন্দই আলাদা।

‘পরের মেয়ে’ নাটকে চরিত্র ও গল্প নিয়ে বলুন
অন্যসব নাটকের চেয়ে এই নাটকের চরিত্র একটু ভিন্ন মনে হয়েছে। নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে ধারাবাহিক নাটকের গল্প তুলে ধরা হয়। যে জন্য একেক সময় একেক চরিত্র গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ নাটকে গল্পে আমরা দেখছি, একজন নারীর ভুলের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় জীবন শুরু হয়েছে। স্বামীকে হারিয়ে সন্তান আর অসুস্থ শাশুড়িকে নিয়ে চলছে তার জীবন সংগ্রাম। এই যে একজন নারীর সন্তান আর আপনজনদের নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই- এটা দর্শকের মনে আঁচড় কাটবে বলেই মনে হয়েছে।

সিনেমায় অভিনয় নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
এখন নাটক নিয়ে বেশ ব্যস্ততা যাচ্ছে বলে সিনেমায় অভিনয় করব না এমনটি নয়। সিনেমা আমার কাছে একটি বিশাল ব্যাপার। আমি শুরু থেকে বলেছি আমি কমার্শিয়াল সিনেমায় কাজ করতে চাই না। সিনেমায় একটা ভাল গল্প না থাকরে অভিনয় করতে চাই না। ভালো কাজের সুযোগ পেলে অবশ্যই সিনেমায় অভিনয় করব। সময়ই বলে দেবে সবকিছু।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা...
এখন তো কাজের অনুক‚ল পরিবেশ নেই। আপাতত নতুন পরিকল্পনা করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পরিকল্পনা করব। তবে ইউটিউব নিয়ে আছে অনেক পরিকল্পনা। ‘টয়া টিউব’-এ প্রফেশনাল কন্টেন্ট আরো বাড়ানোর কথা ভাবছি। স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ও নাটকেও রাখার ইচ্ছা আছে। সেই সঙ্গে মজার সব ঘটনার ভিডিও ক্লিপ রাখতে চাই, যা দর্শকদের মনের খোরাক জোগাবে।

মহামারীতে শোবিজে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কী সম্ভব?
ক্ষতি যেটা হয়েছে তা কখনোই পুষিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে আমরা যাতে ক্ষতির সম্মুখীন না হই, সেই বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

ভিন্ন কোনো পেশার কথা ভাবছেন কী?
অবশ্যই ভাবছি। আমরা যারা শোবিজে কাজ করি তাদের প্রায় সকলেরই ভিন্ন পেশা আছে। অন স্কিনে কাজ করার পর অফ স্কিনে কাজ করতে হয়। ব্যবসা অথবা যার যে বিষয়ে অভিজ্ঞতা রয়েছে, তারা সেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজ করছেন।

স্বপ্ন নিয়ে বলুন...
স্বপ্নের তো শেষ নেই। প্রত্যেক মানুষেরই স্বপ্ন থাকে। স্বপ্ন না থাকলে বেঁচে থাকার স্বাদ থাকবে না। মানুষ স্বপ্নের জন্যই বেঁচে থাকেন।

শোবিজে আপনি কোনো প্রতারণার শিকার হয়েছেন কী?
সৌভাগ্যক্রমে আমি লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টারের মতো বৃহৎ প্ল্যাটফর্ম থেকে উঠে এসেছি। তাই আমাকে কেউ কিছু বলা বা করার সে সাহস কেউ পায়নি। তারা জানে আমি যাদের পরিচর্যায় ছিলাম তারা মিডিয়ায় অনেক বড় পোস্ট হোল্ড করে।

শোবিজে অনেকেরই একাডেমিক পড়াশোনা কম- এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?
পড়াশোনা না করে কখনো বড় হওয়া যায় না। তবে এখানে একই সঙ্গে পড়াশোনা অভিনয় করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। শুটিং শিডিউল ও ক্লাস পরীক্ষার রুটিন একসঙ্গে মেলানো যায় না। অনেক সময় হয় কি পড়াশোনা স্থগিত রেখে বা চালু রেখে এখানে কাজ করতে এসে টাকা ইনকাম করার পর মনে হয় কি দরকার আর পড়াশোনা করার। পড়ার উদ্দেশ্য তো টাকা রোজগার করা। টাকা তো আমি রোজগার করছিই। পড়াশোনার আর কি দরকার- এমন চিন্তা অনেকেরই।

সিলেবাসের বাইরে সৃজনশীল পড়াশোনা নিয়ে বলুন...
অবশ্যই ভালো অভিনয় করার জন্য প্রচুর পড়াশোনা করতে হয়। দেশ বিদেশের ভালো মুভি দেখতে হয়। যদি কেউ কাছ থেকে দেখেন, তিনি বুঝতে পারবেন- আমরা ভালো কাজ করার জন্য কত পড়াশোনা ও পরিশ্রম করি। আমার কথা বলতে পারি- আমি প্রচুর পরিমাণ পড়াশোনা করি, আমার স্বামীও অনেক গল্প পড়ে সারাক্ষণ পড়া নিয়েই ব্যস্ত থাকে।

বাংলা নাটকের ভবিষ্যৎ কী?
একটা সময় দর্শক প্রচুর নাটক, মঞ্চ নাটক দেখতেন। তারপর এলো বিটিভি। দর্শক বিটিভি দেখল, তারপর এলো প্রাইভেট চ্যানেল। দর্শক দেখছেন। এখন দর্শক যে মাধ্যম ব্যবহার করবে নাটক সেদিকেই যাবে।

ওয়েব সিরিজ নিয়ে কিছু বলুন...
ওয়েব সিরিজ মূলত দর্শক নিজের টাকা খরচ করে দেখেন। এখন দর্শক কি দেখবেন- এটা একান্তই দর্শকের ব্যাপার। তার পরও ওয়েব সিরিজে একটি ভালো গল্প ও সমাজের জন্য মেসেজ থাকে। সারাবিশ্বেই এটি এখন আলোচিত বিনোদন মাধ্যম।

নতুন প্রজন্মের জন্য কিছু বলুন?
আমি যেহেতু একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে উঠে এসেছি। এখানে এসে অভিনয় শিখতে হয়েছে তাই আমার নতুন প্রজন্মের জন্য একটাই পরামর্শ-তারা যাতে অভিনয়, মডেলিং, র‌্যাম্পিং এবং পরিচালনা করতে চাইলে সে বিষয়ে শিখে পড়ে আসে। পড়াশোনা বা জ্ঞানের ওপর কিছু নেই।

মানবকণ্ঠ/এইচকে



poisha bazar

ads
ads