‘আমার সংসার ভেঙেছে মিডিয়ার কারণে’

মানবকণ্ঠ
সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক

  • ০১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:০২,  আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:২৬

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক। সবার কাছে যিনি সিদ্দিক নামে পরিচিত। হাউজফুল, মাইক, ছাইয়্যা ছাইয়্যা নাটকের মতো দর্শকনন্দিত অসংখ্য নাটক তিনি উপহার দিয়েছেন। অভিনয় এবং বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে কথা হয় এই গুণী অভিনেতার সঙ্গে। কথা বলেছেন- রেজা শাহীন।

অভিনয় থেকে দূরে থাকার কারণ কী?
আমি যখন পুরোদমে অভিনয় করা শুরু করি তখন দর্শকের অনেক সাড়া পেয়েছি। শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে পুরস্কারও পেয়েছি। দর্শক আমাকে বারবার পর্দায় দেখতে চেয়েছে। ২০১২ সালের বিয়ে করার পর আমার মনে হলো, শুধু অভিনয় করে ভালোভাবে জীবন যাপন করা সম্ভব নয়। আমি আমাদের অনেক গুণী শিল্পীকে দেখেছি শেষ বয়সে এসে চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য চাইতে। আমি কারো কাছে হাত পাততে চাই না। এই কারণেই অভিনয়টা কমিয়ে দিয়ে অন্যভাবে টাকা আয় করার পথ খুঁজেছি।

আপনার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ফাইভ স্টার’ নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
ফাইভ স্টার নিয়ে অনেক বড় পরিকল্পনা রয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে কাজ থেমে আছে। ফাইভ স্টার পাঁচ ধরনের শিল্পীদের নিয়ে কাজ করবে। আমরা আর কোনো দুঃস্থ শিল্পী দেখতে চাই না। বিনা চিকিৎসায় কোনো শিল্পী মারা যাক সেটি চাই না। ফাইভ স্টার সব সময় অসহায় শিল্পীদের পাশে দাঁড়াবে। অনেক শিল্পী রয়েছেন যারা খুব কষ্টে জীবন পরিচালনা করেন কিন্তু কারো কাছে সাহায্য চান না। ফাইভ স্টার সেসব শিল্পীকে জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে।

আপনার অভিনীত প্রিয় নাটকের নাম জানতে চাই
একজন মায়ের কাছে তার সব সন্তানই প্রিয়। ঠিক আমার কাছেও আমার সকল কাজ প্রিয়। তবে কিছু পছন্দের নাটক রয়েছে। সেগুলো হলোÑ হাউজফুল, গ্র্যাজুয়েট, মাইক, ছাইয়্যা ছাইয়্যা। ছাইয়্যা ছাইয়্যা এই নাটকটি আমার নিজের লেখা। নাটকটি প্রশংসিত হয়েছিল।

আপনার অভিনীত প্রথম সিনেমা ছিল ‘এই তো ভালোবাসা’। আবার কবে সিনেমায় দেখা যাবে?
এইতো ভালোবাসা সিনেমার গল্পটি আমার নিজের লেখা। এটিতে আমি নিজে অভিনয় করেছি। এই সিনেমার পরপরই আমি আরেকটি সিনেমার ঘোষণা দিয়েছিলাম। সেটির নাম ছিল বাংলার সিদ্দিক। সিনেমাটির জন্য একটা টাইটেল গানও করা হয়েছিল। কিছুদিন পর আমার মনে হয়েছিল, সিনেমায় টাকা ইনভেস্ট করে কোনো লাভ নেই। যে টাকাটা এর পেছনে ব্যয় করব সেটা তুলতে পারব না। সিনেমা না করার আরেকটি কারণ ছিল বাংলাদেশি সিনেমায় কমেডি শূন্যতা। আমি মনে করি আমাদের দেশের সিনেমার কমেডি হওয়া উচিত ইন্ডিয়ান সিনেমার কমেডির মতো। শাহরুখ খান, আমির খান যে স্টাইলে কমেডি করে সে রকমটি আমাদের সিনেমায় দেখা যায় না।

গত বছর আপনার সংসার ভেঙেছে। আবার বিয়ে করার কোনো প্ল্যান আছে কি?
নতুন করে বিয়ের কোনো পরিকল্পনা নেই। আমার সংসার ভেঙেছে মিডিয়ার কারণে। যদিও আমি মিডিয়ার দোষ দেই না। দোষ দিচ্ছি মিডিয়ায় কিছু অনুপ্রবেশকারীদের। যারা আসলে মিডিয়ার কেউ না। বিয়ে না করার আরেকটা কারণ হলো আমার সন্তান আছে। আমার সন্তান এখনো ছোটো। আমার সন্তান যখন মনে করবে আমার বিয়ে করা উচিত তখন ভেবে দেখব। বাংলাদেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের উচিত সংসার কী কারণে ভেঙেছে সেটি না ভেবে সংসার কিভাবে টিকিয়ে রাখা যায় সেটি নিয়ে চিন্তা করা।

আপনার অভিনীত প্রথম টিভি নাটক কোনটি?
আমার অভিনীত প্রথম নাটকের নাম ছিল ‘রুদ্র ও রোদেলা কাব্য’। নাটকটির পরিচালক ছিলেন দীপংকর দীপন। এটিতে আমার ক্যারেক্টারের নাম ছিল ‘কাউয়্যা সিদ্দিক’

অভিনয়ের পাশাপাশি আপনি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আছেন। আপনার ব্যবসা সম্পর্কে যদি বলতেন
আমি যখন অভিনয়টা শুরু করেছি তখন এটিকে প্রধান পেশা হিসেবে নিয়েছি। কিন্তু কিছুদিন পর আমি বুঝতে পারি, শুধু অভিনয় করে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকা কঠিন। সে কারণেই ব্যবসা শুরু করি। আমার প্রথম ব্যবসা শুরু হয় ফুড ব্যবসা দিয়ে। তারপর ইলেকট্রিক এবং ইলেকট্রনিকের ব্যবসা শুরু করি। ফাইভ স্টার ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, ফাইভ স্টার প্রোডাকশন হাউজ, ফাইভ স্টার এডভারটাইজিং ফার্ম ইত্যাদি নামে আমি কিছু প্রতিষ্ঠান তৈরি করি।

অভিনেতা থেকে নেতা। বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?
রাজনীতিতে আমি হুট করে আসিনি। আমাদের ফ্যামিলি রাজনীতির সাথে জড়িত। ছোটোবেলায় দেখেছি আমার বাবাকে মিছিলে যেতে। তার সাথে আমিও যেতাম। ২০১৫ সালে আমার বাবা মারা যান। বাবার ইচ্ছে ছিল আমি যেন রাজনীতিতে আসি। সে কারণেই রাজনীতির সঙ্গে পুরোপুরি জড়িয়ে যাওয়া। গত নির্বাচনে আমি নমিনেশন ফরম তুলেছি। নেতা না হয়ে আমি বরং অভিনেতা হয়েই সবার হৃদয়ে থাকতে চাই, সবার পাশে থাকতে চাই।

আপনার প্রিয় অভিনেতা কে?
আমি সব সময় বলি, বাংলাদেশে আমার প্রিয় অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান। হা হা হা। দেশের বাইরে আমার একজন প্রিয় অভিনেতা আছেন। তিনি হলেন গোবিন্দ।

অভিযোগ আছে বর্তমান নাটকের মান কমে গেছে। আপনার কী মনে হয়?
নাটকের মান কমেনি। তবে নাটকের আগের যে জায়গাটা ছিল সেটি নেই। বর্তমানে পরিচালক, প্রযোজক, শিল্পীর সংখ্যা অনেক বেশি। নাটক প্রচারের বিভিন্ন মাধ্যম তৈরি হয়েছে। ফলে নাটকের সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু এত এত কাজের ভিড়ে ভালো কাজ আড়ালে থেকে যাচ্ছে। এই কারণেই অনেকে এই অভিযোগটা করে থাকে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে



poisha bazar

ads
ads