‘বাংলাদেশের মডেলিং বিশ্বমানের’

মানবকণ্ঠ
মাকসুদা আকতার প্রিয়তী

  • ২৪ আগস্ট ২০২০, ১৮:০৪

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মিস আয়ারল্যান্ডখ্যাত মাকসুদা আকতার প্রিয়তী। পেশা হিসেবে তিনি একজন বৈমানিক। পরিশ্রম ও মেধার সমন্বয় থাকলে যে সফলতা লাভ করা যায় তার সেরা দৃষ্টান্ত তিনি। বিশেষ যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে তিনি একজন আন্তর্জাতিক মডেল ও অভিনয়শিল্পী। মেধা, পরিশ্রম, ইচ্ছাশক্তি ও সৌন্দর্য দিয়ে তিনি এগিয়ে যেতে থাকেন। ২০১৪ সালে মিস আয়ারল্যান্ড খেতাব অর্জনের পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার ক্যারিয়ারে যুক্ত হয়েছে আরও অনেক আন্তর্জাতিক খেতাব। লেখালেখিও করছেন নিয়মিত। বর্তমানে তিনি বসবাস করছেন আয়ারল্যান্ডে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাংলাদেশের সামাজিক কর্মী এবং সঙ্গে রাজনীতিবিদ হওয়া। মডেলিং ও জীবনের বিভিন্ন অনুষঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন- অচিন্ত্য চয়ন

ঈদ কেমন কাটালেন?
আয়ারল্যান্ডে ঈদের আমেজ সেভাবে বোঝা যায় না , তবু বাচ্চাদের বোঝানো জন্য ঈদ কি বা কিভাবে আমরা পালন করি তার সঙ্গে পরিচিত করানোর জন্য তাদের জন্য নতুন কাপড় কিনে দিয়েছি, বাসায় রান্না করেছি, বাইরে খেতে গিয়েছি।

মডেলিংয়ে আসার শুরুর গল্প বলুন। 
সেটা অনেক অল্প বয়সেই। বলতে পারেন শিশু মডেল হিসেবে কাজ করেছি। যা মা ছাড়া পরিবারের কেউই জানতো না, আসলে জানতে দেয়া হয়নি। সেই সময়ে পারিবারিক বা সামাজিকভাবে মডেলিং করাকে নেতিবাচক চোখে দেখত।

শোবিজে কাজ করতে কোন নেতিবাচক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন কী, বিস্তারিত বলুন।
এই অল্প পরিসরে এত বিস্তারিত আসলে বলা সম্ভব নয়, তবে এক কথায় বলতে চাই এই দক্ষিণ এশিয়ায় শোবিজে যারা কাজ করে, তাদের কাজকে সম্মান না দিয়ে তাদের বিছানা সঙ্গী হিসেবে ভাবতে একদল মানুষ বেশি পছন্দ করে। তবে সেক্ষেত্রে শুধু এক পক্ষের দোষ আমি দেব না। কেউ কেউ নিজের স্বার্থে সেই পরিবেশ তৈরি করে দিচ্ছে বলেই হয়তো সেই আচরণ আসে, কিংবা এটা তাদের বোঝার সীমাবদ্ধতা যে, সবাই বিছানার সঙ্গী হতে শোবিজে কাজ করে না। এই নিয়ে আমি একটা বই লিখেছি ‘ছোবল’ নামে। সেখানে অনেক চিত্র বিস্তারিত আমি তুলে ধরেছি। পাঠক পড়লে চিত্র বুঝতে পারবেন।

নতুন কী কাজ করছেন?
আপনারা জানেন আমার মূল পেশা বৈমানিক, এর পাশাপাশি তো আয়ারল্যান্ডে বিভিন্ন মডেলিং করছি, আপনারা হয়তো দেখছেনই সোশ্যাল মিডিয়াতে।

মডেলিংয়ে আসার সময় অগ্রজরা কেমন সহযোগিতা করেছেন?
আমরা যেই বিভাগে, কিংবা যেই স্তরে কাজ করি না কেন, নিজের স্ট্যাম্প নিজেরই লাগাতে হয়। আমাকে কোনো কাজেই কেউ হাতে তুলে দেয়নি। আমার নিজের রাস্তা নিজেরই তৈরি করে হাঁটতে হয়েছে। এখনো নিজের তৈরি রাস্তায়ই হাঁটছি । আমার ছিল না ধনী বাবা-মা, ছিল না কোনো স্বজনপ্রীতি কিংবা গডফাদার, সুগার ড্যাডি কিংবা ধনী প্রেমিক ধরে ক্যারিয়ার গোছানোর ধান্দা । যতখানি এসেছি, নিজের সততা, নিষ্ঠা এবং শ্রম দিয়ে এবং এটা আমার গর্ব।

আপনার প্রথম ও প্রিয় কাজ নিয়ে বলুন।
আমার প্রথম মডেলিংয়ের কাজ এক বিস্কুটের কোম্পানির। প্রিয় কাজ প্রত্যেকটি। কারণ প্রতিটি কাজেই ভালোবাসা, শ্রম ও অধ্যবসায় মিশ্রিত।

আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
প্রথমে আমার দুই সন্তানদের বড় করা। তাদের আঠারো বছর হলে যখন নাবালক থেকে পরিণত বয়সে পা দেবে তখন আইরিশ রাজনীতিতে পুরোপুরি মনোনিবেশ করা। এখন সন্তানদের গড়ার সময়, এরপর হয়তো পারিবারিক ও মাতৃত্বের দায়িত্ব কিছুটা কমবে, তখন দেশ ও জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল হতে পারব, পুরো ধ্যান দিতে পারব।

বাংলাদেশের মডেলিংয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে বলুন।
বাংলাদেশের মডেলিং নিয়ে আসলে আমার মতো ক্ষুদ্র মানুষের কিছু বলার নেই। কারণ বাংলাদেশের মডেলিং জগত বিশ্বমানের থেকে কোনো অংশেই কম নয়। বাংলাদেশি মডেলরা খুবই আকর্ষণীয়। বিশ্বমানের কাজের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই বাংলাদেশের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। এখন টেকনোলজির যুগ, সব কিছুই হাতের মুঠোয়।

পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কিছু বলুন।
বলছিলাম এখন টেকনোলজির যুগ। এই টেকনোলজির যুগে আমরা যা হারিয়ে ফেলছি তা হলো, বাস্তবের সঙ্গে সামাঞ্জস্যতা রাখা। আমরা আমাদের জীবন চারকোনা স্ক্রিনের মধ্যে নিয়ে আসছি। কিন্তু বাস্তব চিত্রের সঙ্গে আমাদের পরিচিত হওয়া বেশি জরুরি।

মানবকণ্ঠ/এইচকে



poisha bazar

ads
ads