‘সুস্থ শিল্পচর্চা করেই জীবন কাটিয়ে দিতে চাই’

মানবকণ্ঠ
এলিনা শাম্মী - ফাইল ছবি

  • ২৫ জুন ২০২০, ১৩:৩৭,  আপডেট: ২৫ জুন ২০২০, ১৫:০৩

এলিনা শাম্মী একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী। শুধু অভিনয়ে নয়- উপস্থাপনা, নাটক, চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়মিত কাজ করছেন এই অভিনেত্রী। দেশ টিভিতে ‘দূরপাঠ’ নামে একটি লাইভ শো দিয়ে মিডিয়ায় যাত্রা শুরু তার। এরপর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেছেন দেশের প্রায় প্রতিটি চ্যানেলেই। নিয়মিত অভিনয় করেছেন নাটক ও চলচ্চিত্রে। করোনা পরিস্থিতির কারণে গত আড়াই মাসেরও বেশি সময় ধরে বাসাতেই থাকছেন তিনি। বাসাবন্দী জীবনের বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয় এই অভিনেত্রীর সঙ্গে-

করোনাকালে কীভাবে দিন কাটছে?
করোনার প্রায় পুরো সময়টাই বাসায় থাকার চেষ্টা করেছি। উপন্যাস ‘নিম ফুলের ঝুমকা’ লিখছি। করোনা বিদায় নিলে, পৃথিবী সুস্থ হলে আগামী প্র্রাণের বইমেলায় আমার এই ক্ষুদ্র নিবেদন প্রকাশিত হবে। এ ছাড়া গান শুনি। রান্না করি। মাঝেমধ্যেই ছবি আঁকি। আর সিনেমা দেখি। মূলত ‘নিম ফুলের ঝুমকা’ নিয়েই ব্যস্ততা চলছে। এটিই করোনাকালের দিনযাপন।

এখন কি কোনো শুটিং করছেন?
না, এখনো শুটিং শুরু করিনি। এখন শুটিং করাটা নিরাপদ মনে করছি না। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার জন্য অপেক্ষায় আছি। তবে আলো আসলে জুলাইয়ের শুরু থেকে শুটিং শুরু করার ইচ্ছা আছে ।

ওয়েব সিরিজ নিয়ে আপনার বক্তব্য কী, এটি কি সৃজনশীল কাজের জন্য হুমকি?
আসলে আমাদের দেশে শতকরা আশিজন মানুষ কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন এবং তারা গ্রামে বসবাস করেন, খুবই মামুলি জীবনযাত্রা তাদের এবং ধর্মভীরুও বটে, আমাদের শেকড়ের একটা সংস্কৃতি আছে, যা আমাদের দেশের শতকরা আশিজন জনগোষ্ঠীর কাছে গ্রহণযোগ্য। এই আমজনতার কাছে যেটা গ্রহণযোগ্য সেই শিল্পচর্চাই করা উচিত বলে আমি মনে করি। আমাদের মনে রাখা জরুরি- নিজস্বতাকে বিসর্জন দিয়ে কোনো কিছুতেই সুফল আসে না। যেমন আমাদের মাকে এখনো রুচিসম্মত পোশাকে দেখতে ভালোবাসি, আমরা অবশ্যই তাকে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মিনি স্কার্ট আর স্যান্ডু গেঞ্জিতে লোকের সামনে হাজির করব না, আমাদের একটা ঐতিহ্য আছে, নিজস্বতা ধরে রেখেও সৃষ্টিশীল কাজে বিপ্লব করা সম্ভব।

চলমান পরিস্থিতি শোবিজ অঙ্গনে যে ক্ষতি হচ্ছে তা কি কেটে ওঠা সম্ভব?
সমবেত সদিচ্ছা থাকলে এমন কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব, এই করোনাকালে অভিনয় শিল্পি সংঘ, ডিরেক্টর গিল্ট, টেলিভিশন নাট্যকার সংঘ যার যার জায়গা থেকে, যারা কষ্টে ছিলেন, তাদের পাশে থাকছেন। চলচ্চিত্রের মানুষেরাও সহকর্মীদের সঙ্গে থেকে অভাব মুক্ত রাখার চেষ্টা করছেন।

আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
সুস্থ শিল্পচর্চা করতে চাই। এমন কোনো কাজের সঙ্গে নিজেকে জড়াব না, যে কাজ দেখলে আমার পরিবার, সহকর্মী, শুভাকাক্সক্ষী, ভক্ত আহত হবেন। সুস্থ বিনোদন- সমাজকে সুস্থ রাখে। তাই সুস্থ শিল্পচর্চা করেই জীবনটা কেটে দিতে চাই।

প্রতিদিন নিয়ম করে পালন করেন এমন ৭টি কাজের কথা বলুন। 
প্রার্থনা করি, কিছু না কিছু পড়ি, লেখালেখি করি, জীবনে করা ভুলগুলো মনে করি প্রতি রাতে, সেখান থেকে শিক্ষা নেই।
যে আমার সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছে তাকে ক্ষমা করার চেষ্টা করি, ঘুমানোর আগে দোয়া পড়ে ঘুমাই এবং এক্সারসাইজ করি।

বাংলা নাটকের ভবিষ্যৎ নিয়ে বলুন। 
যে নিয়মে চলছে, এটা অব্যাহত থাকলে শিল্প তৈরি হবে না, যে শিল্পী যে কাজের জন্য যোগ্য, তাকে সেই কাজ করার সুযোগ দেয়া উচিত। এ ছাড়া নাটকের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করা সম্ভব হবে না। যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ হোক-এমন প্রত্যাশা আমার।

মানবকণ্ঠ/এইচকে



poisha bazar

ads
ads