‘শুটিং করার সাহস এখনো পাচ্ছি না’

মানবকণ্ঠ
সুষমা সরকার

  • ২০ জুন ২০২০, ১৫:৪১

টিভি পর্দার দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী সুষমা সরকার। মঞ্চ নাটক দিয়ে অভিনয়ে যাত্রা শুরু। চলচ্চিত্রে অভিনয় করে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। নির্দিষ্ট কোনো গণ্ডিতে নিজেকে বেঁধে রাখেননি। টিভি নাটক-চলচ্চিত্র-উপস্থাপনা সবক্ষেত্রেই তার বিচরণ। এ গুণী অভিনেত্রী জীবনের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন মানবকণ্ঠের '৭ প্রশ্নে তারকা জীবন' বিভাগে-

করোনাকালে কিভাবে দিন কাটছে?
সময়টা এখন এমন যে কি করে সময় কাটাচ্ছি বলাটা মুশকিল। যেহেতু সময়ের এখন কোনো নিয়ম নেই, মানে সময়ের এখন কোনো তাড়া নেই, তাই সময় এখন কিছুটা এলোমেলো। দিনটা ঘরের কাজ করতে করতেই চলে যায়। কখনো হয়তো একটু বই নিয়ে বসি, কখনো বা বারান্দায় গিয়ে এমনি এমনি বসে থাকি, মানুষ দেখি। রাত জেগে সবাই মিলে সিনেমা দেখি। তাই ঘুম থেকে উঠতে অনেকটা বেলা হয়ে যায়। বলা যেতে পারে এখন রাত-দিনের কোনো হিসেব নেই। তবে রোজ নিয়ম করে ইয়োগা করি। ভোকাল এক্সারসাইজ করি। সবাই মিলে লুডু খেলি। কখনো একটু লেখালেখি করার চেষ্টা করি।


এখন কি কোনো শুটিং করছেন?
শুটিং করার সাহস এখনো পাচ্ছি না। তবে শুটিংয়ের লাইট ক্যামেরা অ্যাকশন, প্রিয়সহ শিল্পীর মুখ, সিঙ্গাড়া , গ্রীন রোমের আড্ডা ভীষণ ভাবে মিস করি।


ওয়েব সিরিজ নিয়ে আপনার বক্তব্য কী, এটি কি সৃজনশীল কাজের জন্য হুমকি?
ওয়েব হচ্ছে একটা নতুন প্ল্যাটফরম। যে কোনো শিল্প চর্চার জন্য নতুন কোনো প্ল্যাটফরম তো একটা উইনডো। এখন কথা হচ্ছে সেই নতুন প্ল্যাটফরমটা কে কিভাবে ব্যবহার করছে। যেমন ফেসবুকে কেউ হয়তো নিজের ছবি দিচ্ছি, কেউ কবিতা লিখে দিচ্ছে কেউ আবার আবৃত্তি করে দিচ্ছে, খাবারের ছবি দিচ্ছে, ঘরের ছবি দিচ্ছে কেউ আবার পেইন্টিং আপলোড করছে, কেউ আবার লাইভে আসে তার নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা শেয়ার করার জন্য, আবার কেউ সেই সময় কোথায় কি ঘটছে তা আপলোড করছে। এখন বিষয় হচ্ছে এই নতুন প্ল্যাটফরমে আপনি কি বলবেন কিভাবে বলবেন সেটা একান্তই ব্যক্তিরুচি। বিশ্বায়নের এই যুগে ওয়েবের মাধ্যমে আমরা আমাদের চিন্তাধারাকে সারা বিশ্বের সঙ্গে কানেক্ট করতে পারি।


চলমান পরিস্থিতি শোবিজ অঙ্গনে যে ক্ষতি হচ্ছে তা কি কেটে ওঠা সম্ভব?
না। যে কোনো দুর্যোগ বা মহামারীতে যে ধরনের ক্ষতি হয় তা কখনোই পূরণ হয় না। যেমন যে সময় আমরা ফেলে এলাম সে সময় তো আর আমরা ফিরে পাবো না। কিন্তু মানুষ সব সময় তার মেধা দিয়ে নতুন কিছুর সন্ধান করে।


আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
খুব কঠিন প্রশ্ন। পরিকল্পনা যে সব সময় বাস্তবায়িত হয় এমন নয়। তার পরও মানুষ পরিকল্পনা করে, আমি ও করি তবে পরিকল্পনা না, আমি স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন দেখি আরো অনেক নতুন নতুন চরিত্র নিয়ে দর্শকের সামনে হাজির হওয়ার এবং আজীবন অভিনয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার।


প্রতিদিন নিয়ম করে পালন করেন এমন ৭টি কাজের কথা বলুন?
নিয়ম করে সকাল বেলা উঠে লেবু-মধু-পানি খাই। প্রতিদিন কম করে হলেও ২০ মিনিট ইয়োগা করি। ঘুমাতে যাওয়ার আগে যে কোনো একটা বই পড়ি। নিয়ম করে পাঁচ বেলা গরম পানি খাই। প্রতিদিন একটা করে সিনেমা দেখা। রান্না করি। ঘর পরিষ্কার করি ঘর গোছাই। এই নিয়মগুলো অবশ্য লকডাউনের কারণে হয়েছে।


বাংলা নাটকের ভবিষ্যৎ নিয়ে বলুন?
ভবিষ্যৎ নিয়ে তো আর কেউ কিছু বলতে পারে না হয়তো অনুমান করতে পারে । যেহেতু নতুন নতুন প্ল্যাটফরম তৈরি হচ্ছে এবং নতুন নতুন চিন্তাধারা নিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ হচ্ছে আমার মনে হয় বাংলা নাটক ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময়।

মানবকণ্ঠ/এইচকে 



poisha bazar

ads
ads