দুই বছরে ২৮ শাখায় পুরস্কার পেয়েছেন ৬৩ জন

নিজস্ব ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মানবকণ্ঠ
ছবি - প্রতিবেদক।

poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:৫০

নিজস্ব মেধা ও মননের সাহায্যে নিজস্ব ভাষার চলচ্চিত্র তৈরি করে বিশ্ব দরবারে অবস্থান তৈরির জন্য চলচ্চিত্রসেবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে প্রতিভার ঘাটতি নেই উল্লেখ করে তিনি দেশের চলচ্চিত্রের বিকাশে প্রতিষ্ঠিত নির্মাতাদের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান।

২০১৭ ও ২০১৮ সালের ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ প্রদান শেষে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গতকাল রোববার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তথ্য মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশ থেকে আমাদের দেশের মানুষ অনেক মেধাবী। আমরা দেখেছি আমাদের শিল্পীরা পাশের দেশে গেলে অনেক ভালো কাজ করেন এবং সেখানে একটা স্থান করে নিতে পারেন। তাহলে আমাদের দেশে কেন পারব না আরো উন্নতমানের ছবি করে অন্য দেশের মানুষকে আকর্ষণ করতে? অবশ্য অন্য দেশ থেকেও শিল্পীরা আসেন। আমরা তাদের কাছ থেকেও অনেক কিছু শিখতে পারব। তবে আমরা আমাদের নিজস্ব মেধা ও মনন দিয়ে আমাদের নিজস্ব চলচ্চিত্র তৈরি করে বিশ্ব দরবারে আমাদের নিজেদের একটা অবস্থান তৈরি করে নিতে পারবো। সে বিষয়ে আরো দৃষ্টি দেয়া দরকার বলে আমি মনে করি।

আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট আমরা উৎক্ষেপণ করেছি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে এখন আর বিদেশি মুদ্রায় স্যাটেলাইটের ভাড়া দিতে হচ্ছে না। ফলে তাদের যে টাকাটা বেচে যাচ্ছে সেটি তারা ব্যবহার করতে পারে আমাদের শিল্পীদের উন্নয়নে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে কোনো প্রাইভেট টেলিভিশন চ্যানেল ছিল না। আমরা সরকারে আসার পরে প্রথম মেয়াদে প্রথম প্রাইভেট সেক্টরকে উš§ুক্ত করে দেই। তাতে অনেকের কর্মসংস্থান যেমন হয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেকের মেধা বিকাশের সুযোগেরও সষ্টি হয়েছে। এসব কাজের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের দেশকে বিশ্বের দরবারে একটা জায়গায় নিয়ে যেতে পেরেছি। এদিকে আরো আমাদের দৃষ্টি দেয়া দরকার। ইতোমধ্যে ৪৪টি বেসরকারি টেলিভিশনের অনুমতি দিয়েছি। এর মধ্যে ২৪টা এখন চালু আছে। ১৫টা এখন সম্প্রচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ১৫টা এফএম ও ১৮টা কমিউনিটি রেডিও দিয়েছি। এভাবে আমরা মিডিয়াকে জনগণের হাতের কাছে একেবারে দোরগোড়ায় নিয়ে যাচ্ছি। কাজেই ডিজিটাল যুগের মাধ্যমেই আমরা পারি আরো উন্নত মানের কাজ দেখাতে।

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের তরুণ প্রজন্ম এগিয়ে আসছে। তাদের যে ভাবনা, চেতনা, মননশীলতা সেগুলো কাজে লাগানো দরকার। যুগটা আধুনিক যুগ এবং পরিবর্তনশীল যুগ। এই পরিবর্তনশীল যুগের সঙ্গে আমাদের তাল মিলিয়ে চলতে হবে। সেভাবে আমাদের কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা ককরা হয়েছে যেখানে আমাদের তরুণ নির্মাতারা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নিজেদের আরো বিকশিত করতে পারবে। আমাদের যারা অভিজ্ঞ আছে তাদের কাছ থেকেও তারা অনেক কিছু শিখতে পারবে। চলচ্চিত্র ও নাটকের শাখায় আমাদের তরুণ প্রজন্ম যাতে আরো বেশি করে আসে, সংস্কৃতি চর্চার দিকে যাতে আরো বেশি করে মনোনিবেশ করে সেদিকে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের সঙ্গে কলকাতার সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ইনস্টিটিউটের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। আমরা চাই আমাদের চলচ্চিত্রের এই অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। বিশ্ব দরবারে আমরা আমাদের একটা স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের সংস্কৃতি জগতেও ভালো কিছু করে আমাদের অবস্থান আরো সুদৃঢ় করতে পারি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে মুজিববর্ষ এবং ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের কথা জানিয়ে বলেন, জাতির পিতার জীবনী নিয়ে ভারতের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নিমার্তা শ্যাম বেনেগাল একটি জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র বানাবেন। আরো কিছু নির্মাতা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চলচ্চিত্র, ওয়েব সিরিজ নির্মাণ করবেন। যারা এসব ভিডিও নির্মাণ করেছেন তাদের আমি অভিনন্দন জানাই। আজ জাতির পিতার নাম শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বে স্থান পেয়েছে। জাতির পিতার ভাষণ বিশ্বের প্রামাণ্য দলিলে স্থান পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদেশে আর কেউ দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত থাকবে না। বাংলাদেশের জয়যাত্রা অব্যাহত থাকবে। এ সময় তিনি পুরস্কারপ্রাপ্ত সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এখানেই যাতে শেষ না হয়, সবাইকে আরো এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি আগামী বছর থেকে এই আয়োজনে এত তাড়াহুড়ো না করে যাতে আরো গুছিয়ে করা যায় এবং যিনি পুরস্কার পাচ্ছেন তার একটি করে ভিডিও ক্লিপ যাতে পুরস্কার দেয়ার আগে দেখানো যায় সে বিষয়টির প্রতি সংশ্লিষ্টদের নজর দেয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। দেশের চলচ্চিত্র প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি খুব বেশি সিনেমা ও টিভি দেখার সুযোগ পাই না। ফাইল দেখতে দেখতে আর নথি পড়তে পড়তেই দিন শেষ হয়ে যায়। তবে দেশে সুযোগ না পেলেও আমি বিদেশে যখন যাই বিমানে উঠলেই সিনেমা দেখি। আমাদের বাংলা বইগুলো খুঁজে খুঁজে পড়ি। আমাদের দেশের সিনেমাগুলো এত চমৎকার যে যখন যেটা দেখি আমার খুব ভালো লাগে। এ সময় আরো জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য নির্মাতাদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
বাংলাদেশের টিভি নাটকের ভ‚য়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মাঝে মাঝে টিভি নাটক দেখি। অন্য দেশের টিভি অনুষ্ঠানগুলোতে শাড়ি-গয়না আর কম্পিটিশন আর খুনসুটিপনা দেখি কিন্তু, আমাদের নাটকে এত বেশি জীবনস্পর্শী বিষয় আছে তাতে জানা যায়, শেখা যায়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মূল্যায়ন আমাদের নাটকগুলো সব থেকে শ্রেষ্ঠ।
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, জাতীয় চলচ্চিত্র অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দেশের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের শীর্ষস্থানীয় সব নির্মাতা, কাহিনীকার, শিল্পী, কলাকুশলী, গীতিকার, সুরকারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজয়ীদের হাতে চলচ্চিত্র পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী: ২০১৭ ও ২০১৮ সালের বিজয়ীদের হাতে চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সম্মানজনক পদক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল রোববার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকে এসব পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

গত ৭ নভেম্বর একসঙ্গে ঘোষণা করা হয় এই বছরের সিনেমার জন্য চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সম্মানজনক পদক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এবার গত দুই বছরের ২৮টি শাখায় ৬৩ জন পুরস্কৃত হয়েছেন। ২০১৭ সালের জন্য আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনয়শিল্পী এটিএম শামসুজ্জামান ও সালমা বেগম সুজাতা। আর ২০১৮ সালের জন্য এ সম্মাননা পেয়েছেন অভিনেতা প্রবীর মিত্র ও এমএ আলমগীর। ২০১৭ সালে ‘গহীন বালুচর’ সিনেমার জন্য সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন বদরুল আনাম সৌদ এবং একই বছর সেরা চলচ্চিত্র হয়েছে ‘ঢাকা অ্যাটাক’। ২০১৮ সালে ‘জান্নাত’ সিনেমার জন্য সেরা পরিচালক হয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান মানিক এবং একই বছর সেরা চলচ্চিত্র হয়েছে ‘পুত্র’। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন ফেরদৌস ও পূর্ণিমা। দেখে নিন কারা পেয়েছেন ২০১৭ ও ২০১৮ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads






Loading...