পঞ্চমবারের মতো পুরস্কার পাচ্ছি


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ১৫:৫৭

‘পুত্র’ ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য ২০১৮ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাচ্ছেন জনপ্রিয় অভিনেতা দুই বাংলার তারকা ফেরদৌস। ফেরদৌসের চলচ্চিত্র জগতে আগমন ঘটে প্রয়াত নৃত্য পরিচালক আমির হোসেন বাবুর হাত ধরে। আমির হোসেন বাবু পরিচালক হিসেবে নাচভিত্তিক একটি চলচ্চিত্র নাচ ময়ূরী নাচ নির্মাণের পরিকল্পনা করছিলেন। তিনি ফেরদৌসকে আবিষ্কার করেন। কিন্তু আমির হোসেন বাবু সেই ছবির কাজ আর শুরু করতে পারেননি। পরে প্রয়াত অভিনেতা সালমান শাহের আকস্মিক মৃত্যুর কারণে তার অভিনীত অসমাপ্ত একটি ছবিতে কাজ করতে ফেরদৌস প্রথম ক্যামেরার সামনে আসেন। ১৯৯৭ সালে ছটকু আহমেদ পরিচালিত বুকের ভেতর আগুন ছবির মাধ্যমে। সালমান শাহের মৃত্যুর পর ছটকু আহমেদ ছবির গল্পে কিছুটা পরিবর্তন করে ফেরদৌসকে কাজ করার সুযোগ দেন। এরপর ১৯৯৮ সালে এককভাবে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন অঞ্জন চৌধুরী পরিচালিত পৃথিবী আমারে চায় না ছবির মধ্য দিয়ে। তবে ফেরদৌস ব্যাপকভাবে আলোচিত ও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন ১৯৯৮ সালে ভারতের চলচ্চিত্রকার বাসু চ্যাটার্জি পরিচালিত যৌথ প্রযোজনার ছবি হঠাৎ বৃষ্টি ছবির মাধ্যমে। এই ছবির অভিনয় করে তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এরপর থেকে তিনি একাধারে বাংলাদেশ ও ভারতের বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন। এ ছাড়াও মিট্টি নামের একটি বলিউড এর হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। আবারো তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন মানবকণ্ঠের সঙ্গে।

২০১৮ সালের সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাচ্ছেন কেমন লাগছে?
বেশ ভালো। যে কোনো প্রাপ্তিই আনন্দের। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কাজের আনন্দ বাড়িয়ে দেয়। পঞ্চমবারের মতো পুরস্কার পেতে যাচ্ছি, তাই আনন্দ আরো বেশি। এ প্রাপ্তির অনুভ‚তি অনন্য, যা বলে বোঝানো যাবে না। ‘পুত্র’ ছবির নির্মাতা ও কলাকুশলীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আর জুরি বোর্ডের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা তো থাকছেই। তারা আমাকে সেরা অভিনেতা হিসেবে যোগ্য মনে করেছেন।

‘পুত্র’ ছবির কোনো দৃশ্যের কথা মনে পড়ে?
এক ধরনের দায়বদ্ধতা থেকেই সাইফুল ইসলাম মান্নুর এ ছবিতে অভিনয়ে আগ্রহী হয়েছিলাম। এতে অটিজমে আক্রান্ত এক বাবার চরিত্রে আমাকে দেখা গেছে। বাংলাদেশের গতানুগতিক ছবির চেয়ে এটি ভিন্ন পটভ‚মির ছিল। এই মুহূর্তে বিশেষ কোনো দৃশ্যের কথা বলতে পারব না। তবে মোটা দাগে যদি বলি, তাহলে বলব চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে পুরো ছবিতে আমাকে বেশ চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করতে হয়েছে।

চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার অভিমত কি?
চলচ্চিত্রের অবস্থা বেশি ভালো নয়। ছবি কমে যাচ্ছে। অনেক শিল্পী অভিনয়ের চেয়ে নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত। চলচ্চিত্রের অবস্থা উন্নত করতে হলে ব্যক্তিস্বার্থের কথা না ভেবে চলচ্চিত্রের জন্য কাজ করতে হবে। আমি আশাবাদী মানুষ। আমার মনে হয়, চলচ্চিত্র একদিন ঘুরে দাঁড়াবে। সেদিন বেশি দূরে নয়। বাংলাদেশে সব শিল্পকলা একাডেমিতে একটি সিনেপ্লেক্স তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বর্তমানে কী নিয়ে ব্যস্ত আছেন?
সম্প্রতি দুটি বিজ্ঞাপনের শুটিং করেছি। শিগগিরই এগুলো প্রচারে আসবে। রিয়েল এস্টেট কোম্পানির বিজ্ঞাপন ও কোমল পানীয় পণ্যের বিজ্ঞাপনটির নির্দেশনা দিয়েছেন যথাক্রমে সনক মিত্র ও রিপন নাগ। নতুন একটি ছবিতেও অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। নাম চূড়ান্ত না হওয়া ছবিটি নির্মাণ করবেন এখলাস আরিফিন। পাশাপাশি ‘গাঙচিল’, ‘জ্যাম’, ‘বিউটি সার্কাস’, ‘কাঠগড়ায় শরৎচন্দ্র’, ‘যদি একটু সময় পেতাম’ ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত।

মানবকণ্ঠ/জেএস





ads







Loading...