মুনমুন চেয়েছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক হতে

মানবকণ্ঠ
মুনমুন - ছবি: সংগৃহীত।

poisha bazar

  • মানবকণ্ঠ ডেস্ক
  • ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:৩৯

এই প্রজন্মের অনেকেই হয়তো জানেন না, চিত্রনায়িকা মুনমুন প্রথমে হতে চেয়েছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক! ছোটবেলা থেকেই এই স্বপ্নটাকে মনে মনে পুষে রেখেছিলেন। সুযোগ খুঁজছিলেন কার শরণাপন্ন হলে তার এই স্বপ্নটার বাস্তবায়ন হবে! অনেকটা কাকতালীয়ভাবে দেখা হয় চলচ্চিত্র পরিচালক আবু নুর মোহাম্মাদ এহতেশামুল হকের সঙ্গে। যিনি এহতেশাম, নামেই অধিক পরিচিত। সেটা ১৯৯৭ সালের কথা। মুনমুন তখন এহতেশাম দাদুর সঙ্গে দেখা করে তার মনের বাসনার কথা বলেন।

এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে নায়িকা মুনমুন ফিরে যান তার অতীত জীবনে। অনেকটা নস্টালজিক হয়ে পড়েন এই নায়িকা! জানতে চাইলাম, পরিচালক হওয়ার পোকাটা কি এখনো মাথাতে আছে? তখন মুনমুন জানালেন, না ভাই, পরিচালক না, তবে ছবি প্রযোজনা করার ইচ্ছা আছে আগামীতে। মুনমুন আবার ফিরে গেলেন তার স্মৃতিচারণে। তিনি বলতে শুরু করলেন, ‘বেশ কয়েক মাস আমি এহতেশাম দাদুর সহকারী হিসেবে কাজও করেছিলাম কিন্তু এহতেশাম দাদু আমার অভিনয় দেখে নায়িকা হওয়ার প্রস্তাব দেন। এহতেশাম দাদু পরিচালিত ‘মৌমাছি’ চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় আমার।

কিন্তু চলচ্চিত্রটি ব্যবসায়িকভাবে লাভ করতে পারে না। এতে মুনমুনকে ক্যারিয়ারের শুরুতেই থেমে যেতে হয়। এরপর তাকে কোন পরিচালক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তেমন একটা প্রস্তাব দিতেন না। পরবর্তীতে নৃত্যশিল্পী ও নৃত্যপরিচালক মাসুম বাবুলের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে মুনমুনের। মাসুম বাবুলের মাধ্যমে মুনমুন আবার বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত ‘শক্তির লড়াই’ চলচ্চিত্রে মুনমুন অনবদ্য অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করে। মালেক আফসারী পরিচালিত ‘মৃত্যুর মুখে’ তার ক্যারিয়ারে দারুণ একটা ব্যবসা সফল ছবি। এছাড়াও রানী কেন ডাকাত, লংকাকাণ্ড, জানের জান, শত্রু সাবধান, জল্লাদ, রক্তের অধিকার প্রমুখ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক সাড়া ফেলেন। এভাবেই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পে ধীরে ধীরে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যান মুনমুন।

অনেক প্রতিক‚লতা পার করে এসে অবশেষে এক পর্যায়ে শাকিব খানের সঙ্গে জুটি হয়ে প্রথম ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র ‘বিষে ভরা নাগীন’ আলোচনায় আনে। নায়িকা মুনমুন-শাকিব খান জুটি গড়ে ওঠে। এরপর এই জুটিকে প্রায় চলচ্চিত্রে দেখা যায়।

মুনমুন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অধিকাংশ নায়কের সঙ্গে অভিনয় করেন। একপর্যায়ে এসে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী হয়ে ওঠেন তিনি। তিনি প্রায় সব চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ২০০৩ সালের পর চলচ্চিত্রের মাঝে অশ্লীলতা বা নগ্নতা জেঁকে বসে আর ঠিক তখন মুনমুন চলচ্চিত্র শিল্প থেকে দূরে সরে যেতে থাকেন। ২০১৭ সালে তিনি আবার বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ফিরে আসেন। মিজানুর রহমান মিজান পরিচালিত ‘রাগী’ চলচ্চিত্রে একটি খল চরিত্রে অভিনয় করেন। ‘রাগী’ ছাড়াও তিনি ৩-৪টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন নতুন করে। এর আগে ২০০৭ সালে আবার চলচ্চিত্রে ফিরে আসার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু সেই সময় ২টি চলচ্চিত্রে কাজ করে আবার দূরে চলে যান।

মুনমুনের জন্ম ইরাকে। তবে তার পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের চট্টগ্রামে। তার বাবা ও মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটার পর তাদের অর্থকষ্টে পড়তে হয়েছিল। যে কারণে ইচ্ছা থাকা সত্তে¡ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর আর পড়াশোনা করতে পারেননি। মুনমুন অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে দর্শক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল ‘বিষে ভরা নাগিন’, ‘দুই নাগিন’, ‘নিষিদ্ধ নারী, ‘মৃত্যুর মুখে’, ‘রানী কেন ডাকাত’, ‘লংকাকাণ্ড’, ‘জানের জান’, ‘শত্রু সাবধান’, ‘জল্লাদ’, ‘রক্তের অধিকার’ ইত্যাদি। বড় পর্দায় কাজ করতে এসে একটা সময় এই মুনমুনকেও হতে হয়েছিল চরম সমালোচনার পাত্রীও বটে! অশ্লীলতার সময়ে অন্যতম বিতর্কিত নায়িকার তকমা পান! সময়টা ২০০০ সালের কথা। সে সময় চলচ্চিত্রে নগ্নতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল।

‘কাট পিস’ নামক ঘাতক তখন বাংলা চলচ্চিত্রে মহামারী আকার ধারণ করে ফেলেছিল সে এক ভয়াবহ অবস্থা! সে সময়ে মুনমুন অভিনীত বেশ কিছু চলচ্চিত্রে নগ্নতা দেখা যায় কিন্তু মুনমুনকে কোনো চলচ্চিত্রে ‘কাটপিস’ ধারায় নগ্নভাবে অভিনয়ে নৃত্য করতে দেখা যায়। তখন মুনমুন ছিলেন প্রথম সারির নায়িকাদের কাতারে। ফলে অনেকটা অভিমান নিয়েই চলচ্চিত্র ছেড়ে যেতে সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তারপর নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads





Loading...