রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৪ মার্চ ২০২১, ১৪:২৫

বিশ্ববিদ্যালয় মানেই বিশ্বমানের জ্ঞানার্জনের বিদ্যাপীঠ। এখানে ছাত্ররা আসে জ্ঞান-আহরণ ও উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের সেবা করার প্রত্যয়ে। সুতরাং এখানের শিক্ষরাও ন যেমন পন্ডিত তেমনি লোভ-লালসা কায়েমী স্বার্থের উর্ধের ব্যক্তি। দেশের উচ্চশিক্ষা যখোন কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তখোন দেশের প্রত্যেকটি জনপদকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে এক একটি প্রান্তে এক একটি বিশ্ববিদ্যালয় করেছেন বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করনের জন্য।

এ লক্ষেই উত্তরবঙ্গের ছাত্র-ছাত্রীদেও বহুমুখী সুবিধা নিশ্চিত করতে ২০০৮ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তরবঙ্গের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সারা বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষায় এই বিশ্ববিদ্যালয় অসামান্য অবদান রাখছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ‘বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প’ শেখ হাসিনা ছাত্রী হল ও ড. ওয়াজেদ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটসহ স্বাধীনতা স্মারকের নির্মাণকাজে ভিসি অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনিয়মের সত্যতা পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্ত কমিটি।

দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে কমিটির প্রতিবেদনে। পত্রিকান্তরে প্রকাশ হয়েছে ২০১৭ সালের ১৪ জুন অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ ভিসি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর প্রকল্পের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজ তদারক করার জন্য প্রকৌশলী মঞ্জুর কাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস কমিটির সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি তার ঘনিষ্ঠজনদেও নিয়োগ দিয়ে নকশা বদল করে ব্যয় বাড়িয়ে দ্বিগুন করে কাজ করেছেন। শুধু তাই নয়,কার্যাদেশ বাতিলের সময় আর্কিটেক্ট মনোওয়ার হাবিবকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অনুমোদিত ডিপিপির তোয়াক্কা না করে ভবন দুটির (শেখ হাসিনা ছাত্রী হল ও ড. ওয়াজেদ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট) নকশা পরিবর্তন করা হয়। য়েটা একদম নিয়ম বহির্ভুতভাবে করা হয়েছে। ব্যয় বাড়ানোর নমুনা দেখলেও বিস্মিত হতে হয়। ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভবনে নির্মাণ ব্যয় ২৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ধরা হয় ৬১ কোটি টাকা। আর ৫১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে শেখ হাসিনা ছাত্রী হল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১০৭ কোটি টাকা।

অন্যদিকে মূল ডিপিপিতে পরামর্শক ফি না থাকলেও বর্তমান ভিসি নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ সেই খাতে ব্যয় করেছেন ৪০ লাখ টাকা। ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের নানা অসঙ্গতি নজরে এলে ইউজিসিকে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়।

তদন্ত কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি স্থাপনা নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতি খুঁজে পেয়েছে।প্রথম পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক শেখ হাসিনা ছাত্রী হল এবং ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জন্য প্রকৃত নকশা বা ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে প্রধানমন্ত্রী ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।

ইতোমধ্যে ওই ভবনের অর্ধেকের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখানে দ্বিতীয় ড্রয়িং বা ডিজাইনের কোনো ধরনের প্রয়োজন আছে বলে কমিটি মনে না করলেও সেটি করা হয়েছে। তাছাড়াও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধনকৃত এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক যথাযথ প্রক্রিয়ায় অনুমোদিত মূল ডিজাইন অনুযায়ী নির্মাণকাজ না করা এক ধরনের অনিয়ম ও ঔদ্ধত্ব বলে আমরা মনে করি।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিশ্বমানের করতে সরকার নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু ইতিপূর্বেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।একটা বিশ্ববিদ্যারয়ের স্বয়ং উপাচার্য যদি দুর্নীতিবাজ হিসাবে চিহ্নিত হন তাহলে ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষা নেবে কার কাছে? এ ধরনের অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িতদেও চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির বিধান সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

 


poisha bazar

ads
ads