পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা হোক


  • সম্পাদকীয়
  • ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৯:২৫

অর্থ পাচার কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না। প্রতি বছরই হাজার হাজার কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে- গণমাধ্যমে প্রায়ই এমন সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু পাচার হওয়া বাংলাদেশি অর্থ ফেরত আনার কোনো জোরালো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। আমাদের কষ্টার্জিত এসব বৈদেশিক মুদ্রা ডলারে পরিণত হয়ে আবার বিদেশে চলে যায়, তাহলে দেশের জাতীয় পর্যায়ের অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রভাব এসে পড়বে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

গতকাল মানবকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদসূত্রে জানা যায়-গত বেশ ক’দিন ধরেই দেশে আলোচনার শীর্ষে বিদেশে অর্থ পাচার। ব্যাংক পাড়া থেকে আদালত, রাজনৈতিক থেকে মুদি দোকানি, সবাই জানতে চায় কানাডার বেগম পাড়া, মালয়েশিয়া কিংবা সিঙ্গাপুরে পাচারকারীদের নাম ও পরিচয়। এই আলোচনা শুরুর পর উৎসের সন্ধানে মাঠে নামলেই বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। অর্থ পাচারকারীদের তালিকা খুঁজতে গিয়ে পিলে চমকে যাওয়া তথ্য বেরিয়ে আসে। বেঁচে থাকতেও যে লোকটা ছিলেন আলোচনার শীর্ষে ফাঁসিতে ঝোলার পরও কিনা সেই ব্যক্তিই ফের আলোচনায়। এক দুই টাকা নয়, লাখো কোটিও নয়, সে কি না পাচার করেছে বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর। জীবদ্দশায় এই ব্যক্তিই কি না সিঙ্গাপুরে পাচার করেছে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ, যা এখন রক্ষিত আছে সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন ব্যাংকে। এর আগে একটি গণমাধ্যমের টকশোতে অংশ নেয়ার পর ওই ব্যক্তির নাম আলোচনায় উঠে আসে। আলোচ্য ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানতে চাইলে দুদকের আইনজীবী তা প্রকাশ করতে রাজি হননি। কথা হচ্ছে- এখন যেহেতু নাম প্রকাশ হয়েছে তাই পাচার হওয়া অর্থ দ্রæত ফেরত আনার ব্যবস্থা করতে হবে।

এমনিতেই কালো টাকার মালিকরা আমাদের দেশ থেকে প্রচুর অর্থ বিদেশি ব্যাংকে জমা করে যাচ্ছেন। মুদ্রা পাচারের পরিসংখ্যান বলছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর গড়ে ৭৫৩ কোটি ২৭ লাখ ডালার পাচার হয়। বর্তমান বাজার দরে যা ৬৪ হাজার কোটি টাকা। এসব অর্থ ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক দুদক ও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়। যদিও এই আইনি প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ বলে জানান দুদক আইনজীবী। সিঙ্গাপুর থেকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটা খুব কঠিন, তবে সম্ভব। আইনি প্রক্রিয়াটি যতই দীর্ঘ হোক না কেন দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চিন্তা করে হলেও দ্রæত ব্যবস্থা নিতে হবে।

আর যা-ই হোক, আর যেন অবৈধভাবে বিদেশে সহজে অর্থ না যেতে পারে, সে ব্যবস্থা আমাদের আগে গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে আগামীর দিনগুলোতে এভাবে সহজ উপায়ে আমাদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা পাচার হয়ে যাবে। দেশের অর্থনীতিকে আরো সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যেতে হলে এবং দেশকে উন্নতির শীর্ষ শিখরে নিতে হলে অবশ্যই সরকারকে মুদ্রা পাচারের পথগুলো বন্ধ করতে হবে। পাচার হওয়া এসব অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য দ্রæত উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলে আমাদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা সুরক্ষা পাবে এবং সেই সঙ্গে দেশ এগিয়ে যাবে উন্নয়নের সরল পথে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে


poisha bazar

ads
ads