ঘুষের হাট চিহ্নিত করে অভিযান চলুক

ঘুষের হাট চিহ্নিত করে অভিযান চলুক

  • সম্পাদকীয়
  • ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১৬:৩২

প্রতিদিন সংবাদপত্রে প্রকাশ হচ্ছে এক একজন টাকাওয়ালার নাম। এরা যে একদিনে আঙুল ফুলে বটগাছ হয়েছে তা নয়। কিন্তু এদের কর্মকাণ্ড বেশ আগে থেকেই চলেছে। তা কি কারো চোখে পড়েনি? নাকি যাদের চোখে পড়েছে তারা সবাই এই গোত্রের? এটা আজ ভাবনার ব্যাপার। বরিশালে যত লঞ্চ ছেড়ে যায় তার অধিকাংশই বিলাসবহুল এক একটি জাহাজের মতো। এগুলোতে যেসব সুবিধা আছে তা কল্পনার বাইরে। এসব বিশাল জাহাজের এক ডজনের মালিক বিআইডবিøউটিএ’র লোক।

এটা কিভাবে সম্ভব? এরা কত টাকা বেতন পায়? রাষ্ট্রের এমন কোন অফিস নেই যেখানে ঘুষ ছাড়া কোন কাজ চলে। মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছরে দেশ এইখানে এসে দাঁড়িয়েছে। গতকাল একটি দৈনিকে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে, সেখানে বিআইডবিøউটিএকে ঘুষের হাট বলা হয়েছে। একটা প্রতিষ্ঠানে ১২ জন জাহাজ মালিক থাকলে এটা কম বলা হয়েছে। কিন্তু এর পেছনের কাহিনী পড়লে বিস্মিত হতে হয়।

নৌপথের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের তারা নিজেরাই বনে গেছেন পুরোদস্তুর জাহাজ ব্যবসায়ী! বিআইডবিøউটিএর (অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ) বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা নামে-বেনামে একাধিক বিশালাকার জাহাজের মালিক। নিজস্ব শিপিং লাইন্স ব্যবসায় শত কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে তাদের। অথচ তাদের চাকরিজীবনের বেতন-ভাতা দিয়েও একটি জাহাজ কেনা সম্ভব হবে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত ঘুষ-দুর্নীতির টাকায় ফুলেফেঁপে উঠেছে তাদের বিত্তবৈভব।

বিআইডবিøউটিএর অন্তত ১২ জন কর্মকর্তার সঙ্গে জাহাজ ব্যবসার সংশ্লিষ্টতা উঠে এসেছে সম্প্রতি। সরকারি চেয়ারের ক্ষমতা অপব্যবহার করে নিজেদের আখের গুছিয়েছেন তারা। অঢেল টাকা উপার্জনের পর তাদের অনেকে এখন চাকরি ছেড়ে নিরাপদে সরে পড়ার উপায় খুঁজছেন। এসব কর্মকর্তার প্রধান দায়িত্ব হলো জাহাজের রুট পারমিট দেয়া, নদী ও ঘাট ব্যবস্থাপনা মনিটরিং, ড্রেজিং, বয়াবাতি সংরক্ষণ করা প্রভৃতি।

তবে রুট পারমিট দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অনুমোদন দেয়া হয়। এক্ষেত্রে পর্দার আড়ালে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে বিআইডবিøউটিএর জনৈক উপ-পরিচালকের সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় চাপা পড়েছে বহু আগেই। নামে-বেনামে তিনি অন্তত ১৫টি জাহাজের মালিক। জাহাজ ব্যবসা থেকে নিজেকে আড়াল করতে তার কৌশল অনেকটা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো। তিনি বেশিরভাগ জাহাজের মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র করেছেন তার স্ত্রীর নামে। এমন আরো অনেকে আছেন যারা বিভিন্ন নামে বিত্তবেসাতির মালিক হয়েছেন। এরা সারা জীবনে যে টাকা বেতন পেয়েছেন তা দিয়ে একটা জাহাজ কেনা সম্ভব নয়। অথচ ঘুষের টাকায় তারা ফুলে ফেঁপে এক একটা ব্যাংক হয়েছেন। স্বাভাবিকভাবে কোন সরকারি কর্মকর্তা এ ধরনের ব্যবসায় জড়িত হতে পারে কি?

এটা জানতে বিশেষজ্ঞ হতে হয় না। যারা সরকারি চাকরি করে ঘুষ-দুর্নীতি করে টাকার পাহাড় গড়েছেন তারা কোনমতেই দেশের সরকারি কর্মকর্তা হতে পারেন না। এরা গণশত্রু। এদের সবাইকে চিহ্নিত করা উচিত। এদের বিচারের আওতায় এনে দ্রুত আইনে বিচার করা উচিত। এদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা সরকারি সম্পত্তিতে রূপান্তর করা উচিত। বিশেষত সরকারি অফিসের খোল নলচে না বদলালে এসব কোটিপতির উদ্ভব থামানোর উপায় নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে জিরো টলারেন্স দেখাতে নির্দেশ দিয়েছেন সেই অভিযান চলুক এবং এদের তালিকা করে বিচার করা হোক। জনগণের সঙ্গে আমরা এটাই প্রত্যাশা করি।


poisha bazar

ads
ads