অনলাইন প্রতারণা!


  • সম্পাদকীয়
  • ১৩ নভেম্বর ২০২০, ১১:৩২

অনলাইন সেবা যেমন অনেক সুবিধা দিয়েছে, ঘরে বসেই পাওয়া যাচ্ছে সব সেবা, এর ফাঁকেই ঢুকে বসে আছে বড় সব প্রতারক। তারা পণ্যের বাহারি বিজ্ঞাপন, ছাড়ের অফার দিয়ে ক্রেতাকে টানছে নানা প্রলোভনে। তারপর মুহূর্তেই বড় ধরনের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে সর্বস্বান্ত করবে ক্রেতাকে, ন্যূনতম হতাশ করবেই। অনলাইনে কেনাকাটায় অসংখ্য প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। অনেক ভুক্তভোগী প্রতিকারের পথ পাচ্ছেন না।

অনলাইন শপিংয়ের আরো নানা ফাঁদ আবিষ্কার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সম্প্রতি ফেসবুকে কিছু প্রতারক চক্র বিভিন্ন ব্যবসায়িক নামে অনলাইন শপিংয়ের পেজ খুলে স্মার্টফোন বিশেষ মূল্য ছাড়ে বিক্রি করার বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এসব অনলাইন শপ থেকে পণ্য অর্ডার করে কেউ পাচ্ছেন নষ্ট পুরনো মোবাইল, আবার কেউ পাচ্ছেন খালি প্যাকেট।

এসব অনলাইন শপের বাহারি অফার সহজেই মন কেড়ে নেয় যে কোনো অজ্ঞ ক্রেতার। বাজার থেকে কম মূল্যে ব্র্যান্ড নিউ মোবাইল ফোন বিক্রির প্রলোভনমূলক এসব বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দিচ্ছেন অনেকেই। এসব ফাঁদে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কিশোর-কিশোরী, সহজ-সরল এমন মানুষই বেশি প্রতারিত হয়ে আসছে। প্রতিদিন সারাদেশ থেকে কত মানুষ নিয়মিত এভাবে প্রতারিত হচ্ছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। সাইবার ক্রাইমের বিশেষ টিম নিয়মিত এ রকম প্রতারক চক্র গ্রেফতার করছে, তারপরও এদের দৌরাত্ম্য যেন কমছেই না। নানা রকম লোভনীয় অফার দিয়ে অনলাইন প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে সাধারণ মানুষকে।

অনলাইন শপিংয়ের আরেক প্রতিষ্ঠান দারাজ। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অন্তহীন। প্রতারিত ক্রেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী জানা যায়, দারাজ ব্যবসা করতে নয়, প্রতারণা করতে দোকান খুলে বসেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এরই মধ্যে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে (ডিএনসিআরপি) ৮১৭টি প্রতারণার অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগের গণশুনানিতে হাজির না হওয়ায় দারাজের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানা গেছে। তবে এসব ‘তলব-টলব’কে পাত্তা না দিয়ে প্রতারণা করেই যাচ্ছে দারাজ। বিভিন্ন অফারের নামে তারা এখনো নি¤œমানের পণ্য দিয়ে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ মিলছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে ‘দারাজ বাংলাদেশ’ নামে বাংলাদেশে দারাজের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক দারাজ গ্রæপকে চীনা বহুজাতিক কোম্পানি ও ই-বাণিজ্য জায়ান্ট আলিবাবা গ্রæপ কিনে নেয়। আলিবাবা গ্রæপের নিয়ন্ত্রণাধীন দারাজ ডটকম বিডি বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যবসা করছে। দারাজ থেকে পণ্য কিনে প্রতারণার শিকার হয়েছেন অনেকেই। দারাজের এই প্রতারণা নতুন নয়। এর আগেও দারাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন অনেকেই।

গতকাল দৈনিক মানবকণ্ঠেও এক প্রতিবেদনে জানা যায়, যাত্রাবাড়ী এলাকার একজন ভুক্তভোগীর অভিমত তিনি একটি পাওয়ার ব্যাংক কিনেছিলেন। তার মধ্যে একটা পুরাতন ব্যাটারি দিয়েছিল। আবার ভেতরে পানির গ্লাস দিয়ে রেখেছে। যাতে ওজন হয়। এ ধরনের প্রতারণার কথা চিন্তায়ও আসে না যেটা তারা হামেশাই করে যাচ্ছে। অন্তহীন অভিযোগ নিয়ে অনলাইন শপ ‘দারাজ’ চলছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে তাদের বিরুদ্ধে সহস্র প্রতারণার অভিযোগ জমা পড়েছে। তারপরও তারা দিব্যি ব্যবসা চালায় কিভাবে আমাদের বোধগম্য নয়।

করোনার কারণে একদিকে মানুষের অর্থনীতি যেমন দুর্বল, তেমন ঝুঁকি নিয়ে সবাই মার্কেটে যেতে চায় না। আবার মার্কেটে যাতায়াতেও খরচ কম নয়। এসব সংকটকে পুঁজি করে অনলাইন বাণিজ্যে প্রতারণা করছেই। অনলাইন বাণিজ্যের পরিপূরক হয়ে উঠেছে প্রতারণা শব্দটি। তাই এদের রাশ টেনে ধরা জরুরি। সময় থাকতে ব্যবস্থা না নিলে এরাও মহীরুহ হয়ে উঠবে। এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবস্থা গ্রহণের সাথে চাই একটি সামাজিক আন্দোলন।

মানবকণ্ঠ/এইচকে


poisha bazar

ads
ads