বেগমগঞ্জের বীভৎসতা!

বেগমগঞ্জের বীভৎসতা!

  • সম্পাদকীয়
  • ০৭ অক্টোবর ২০২০, ১৯:৫০

নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় সারাদেশ এখন উত্তাল। একদিকে নারী সমাজ, অন্যদিকে অভিভাবক- সবাই এখন আতঙ্কিত সময় পার করছে। সাম্প্রতিক সময়ের এক একটি বীভৎস ঘটনা পুরো নাগরিক সমাজকেই উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় ফেলেছে। নির্মম, বীভৎস, ভয়ানক কোনো বিশেষণ দিয়েই এসব ঘটনার বর্ণনা করা যায় না। একদল হিংস্র দুর্বৃত্তের ভয়াল থাবা, বর্বর উল্লাসের সঙ্গে মিশে যায় অসহায় এক একটি নারীর বুকফাটা আর্তনাদ। দুর্বৃত্তদের বারবার ‘বাবা’ ডেকে সম্ভ্রম ভিক্ষা চাইলেও তাদের মন গলে না। শরীরটাকে ঢেকে রাখার প্রাণপণ লড়াই করে প্রতিটি নারী। এত আকুতিতেও টলে না দুর্বৃত্তের পাষণ্ড মন।

এ চিত্র নতুন নয় বা প্রথম নয়। সারাদেশের ধর্ষণের চিত্র একই। তবে ভয়াবহ যে ঘটনাটি মানুষকে শংকিত করেছে, রাস্তায় নামতে রাধ্য করেছে, সেটি ঘটেছে ২ সেপ্টেম্বর। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুরের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে বিবস্ত্র করে এক নারীকে নির্যাতনের এই কালো রাতটি নেমে এসেছিল সেদিন। গত এক মাস ধরে এমন ক্ষত, দগদগে ঘা বয়ে বেড়াচ্ছিলেন ওই গৃহবধূ।

সেই রাতের হিংস্রতায় ওই নারীর আর্তচিৎকার যাদের কানে ভেসে গিয়েছিল, তাদেরও মুখ বন্ধ ছিল। এর আগে সিলেটে এমসি কলেজের হোস্টেলে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। শিশু, কিশোরী, যুবতী, বিবাহিত, অবিবাহিত এমনকি বৃদ্ধ নারীও ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। নিজ বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন, পর্যটনকেন্দ্র সর্বত্রই নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন নারীরা। এ বিষয়টি নিয়ে কেউ কোন কথা বলে না। কেন বলে না? তাতে মান সম্মান যাবে।

আজকে এমন অবস্থায় আমরা দাঁড়িয়েছি যে, ধর্ষকের মানসম্মান যায় না। তার ক্ষমতার দাপট এতটাই যে, ধর্ষণের মতো পাশবিকতা তাকে অপরাধী করে না। অপরাধী এখানে যাকে ধর্ষণ করা হয় সে এবং তার পরিবার। ফেসবুকে প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ধর্ষক নির্ভয়ে থাকে। এটা কিভাবে সম্ভব? আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যমতে, দেশে চলতি বছর প্রথম ৯ মাসে ৯৭৫ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ২০৮ জন গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো বহু ঘটনা দেশে ঘটে চললেও নোয়াখালীর ভিডিওটি নাড়া দিয়েছে পুরো জাতিকে। সবাই স্তম্ভিত। ভিডিওতে একজন জননীর সম্ভ্রম রক্ষার আর্তচিৎকার দেখে, শুনে নির্ঘুম রাত কেটেছে বহু মানুষের।

রোববার রাত থেকে ফেসবুকের পাতাজুড়ে ধিক্কার, ঘৃণা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এই লজ্জা, এই ক্ষত জাতিকে কতদিন বয়ে বেড়াতে হবে- সেই প্রশ্নও রেখেছেন অনেকে। ফেসবুকের সেই আগুন গতকাল সোমবার সকাল থেকে ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। নোয়াখালীর যে গ্রামে বীভৎস এই ঘটনা ঘটেছে; ফুঁসে উঠেছে সেই গ্রামও। দিনভর আন্দোলনে উত্তাল ছিল পুরো নোয়াখালী জেলা। সকাল থেকে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ হয়েছে রাজধানীর শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মোড়, জাতীয় প্রেসক্লাব, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায়। আমরা মনে করি ধর্ষণ একটি সামাজিক ব্যাধি। একে রুখতে সামাজিক সচেনতা প্রয়োজন, প্রয়োজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ।

বিশেষত দ্রুত বিচার আইনে ধর্ষকদের দলমত নির্বিশেষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান করলে ধর্ষণ রোধ সম্ভব হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে- জনগণের সঙ্গে আমাদের প্রত্যাশাও এটাই।

মানবকণ্ঠ/এইচকে


poisha bazar

ads
ads