চিকিৎসা বাণিজ্য নয় সেবায় পরিণত করুন

চিকিৎসা বাণিজ্য নয় সেবায় পরিণত করুন

  • সম্পাদকীয়
  • ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৫০

সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় রয়েছে একাধিক বিশেষায়িত হাসপাতাল। ওই এলাকা ছাড়াও শ্যামলী ও আগারগাঁও এলাকাজুড়ে শেরেবাংলা নগরের বেশিরভাগ এলাকায় রয়েছে দেশের প্রধান ১৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল।

মূলত এসব সরকারি হাসপাতালে আসা রোগীদের একটি অংশকে দালাল চক্র কৌশলে ওই সব বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়; যেখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগীরা নানাভাবে হয়রানি ও প্রতারিত হয়ে থাকে। রাজধানীর মিরপুর সড়কের কলেজগেট বাস স্টপেজ লাগোয়া এই ভবন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের, যার নাম মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার। ভবনটির নিচের দুই তলা বেজমেন্ট। আর ওপরে রয়েছে আরো ১৫ তলা।

ওপরের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত চারটি ফ্লোর সংরক্ষিত ছিল শপিং মল ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য। ভেতরের অবকাঠামো সাজানো কোনো অংশ দোকানঘরের আদলে স্টল আকারে, আবার কিছু রাখা ছিল ফাঁকা জায়গা হিসেবে। ভবনটিতে রয়েছে রয়াল মাল্টিস্পেশাল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, লাইফ কেয়ার জেনারেল হাসপাতাল, যমুনা জেনারেল হাসপাতাল, প্রাইম হাসপাতাল, ঢাকা হেলথ কেয়ার হাসপাতাল, রাজধানী বøাড ব্যাংক ও ট্রান্সফিউশন সেন্টার, রয়াল হিয়ারিং সেন্টার, রাজধানী ডেন্টাল ক্লিনিক, ইউনাইটেড ডেন্টাল সার্জারি নামের চিকিৎসাকেন্দ্র। শুধু এই ভবনেই নয়, কলেজগেট থেকে শুরু করে শ্যামলী পর্যন্ত গজনবী রোড, বাবর রোড, হুমায়ুন রোডসহ ওই এলাকার প্রধান সড়ক ও প্রতিটি অলিগলিতেই রয়েছে কোনো না কোনো প্রাইভেট হাসপাতাল।

এলাকাটি এখন রীতিমতো ‘হাসপাতালের হাট’ বলেই পরিচিতি অর্জন করেছে। পত্রিকান্তরে প্রকাশ হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো জানায়, ওই হাসপাতালগুলোর মালিকানার সঙ্গে উল্টো দিকে থাকা সরকারি হাসপাতালগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা জড়িত আছেন কোনো না কোনোভাবে। ওই ভবনে থাকা রয়াল মাল্টিস্পেশাল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক- জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরে রয়েছেন। তিনি এ ব্যবসা করছেন কিভাবে? এখানকার বাসিন্দাদের চোখের সামনে ঘটে অনেক ঘটনা। তবু কেউ কোন ঝামেলায় জড়াতে চায় না।

গণমাধ্যমের কাছে অনেকেই বলেছেন, এসব হাসপাতালে সেবার চেয়ে রোগী বেচাকেনা হয় বলেই দৃশ্যত মনে হয়। গলিতে গলিতে রোগী নিয়ে টানাটানি করতে দেখা যায় মাঝেমধ্যেই। যখন র‌্যাব-পুলিশের অভিযান হয়, তখন কিছুদিন স্বস্তি লাগে। রোগী নিয়ে বাণিজ্য কম থাকে। কয়েক মাস আগে একসঙ্গে কয়েকটি হাসপাতাল সিলগালা করা হলেও কিভাবে যেন কিছুদিন পরেই আবার সেগুলো চালু হয়ে গেছে। তার মানে একথা স্পষ্ট যে, এর পেছনে এমন একটি মহল যুক্ত রয়েছে যাদের হাত অনেক বড়। নতুবা প্রকাশ্য দিবালোকে এসব দালাল চক্র সক্রিয় থাকে কিভাবে? বা ১৪টা বিশেষায়িত হাসপাতাল থাকতে এতসব হাসপাতালের প্রয়োজন হয় কেন?

স্বাস্থ্য বিভাগ সেবা থেকে বাণিজ্য খাতে চলে গেছে। যে জন্য এখানে শত শত কোটি টাকার এক মালেককে পাওয়া গেছে আরও ৪৫ জনের খোঁজ মিলেছে। আমরা মনে করি, স্বাস্থ্য বিভাগের খোলনলচে না বদলালে এ সংকটের সমাধান হবে না। তাই ১৪টি বিশেষায়িত হাসপাতালকে আধুনিক করে এ চিকিৎসকদের প্রাইভেট হাসপাতদাল, ক্লিনিক ব্যবসা বন্ধ করা হোক এবং জবাবদিহিতা চালু হোক। তাহলে স্বাস্থ্য সংকটের এই দেশে হাসপাতালের হাটবাজার বন্ধ হবে। নতুবা এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।

মানবকণ্ঠ/এইচকে


poisha bazar

ads
ads