দ্বিতীয় ধাপ মোকাবিলায় এখনই উদ্যোগ নিন


  • সম্পাদকীয়
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৬:২২

করোনার প্রভাব পড়েছে দেশের সবখানে। করোনার প্রভাবে কাজ হারিয়ে লাখো মানুষ চিরতরে যেমন গ্রামে চলে গেছে আবার দেশের বাইরেও আমাদের দেশের যত মানুষ প্রবাসে থাকত, যাদের বলা হতো রেমিট্যান্স যোদ্ধা, তারা করোনার প্রভাব কমলেও কাজ হারিয়ে দেশে ফিরছে। বিদেশফেরত কর্মীর সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। মহামারীকালের সাড়ে পাঁচ মাসে দেশে ফেরত এসেছেন এক লাখ ৪১ হাজার ৩৬ জন প্রবাসী কর্মী। তাদের মধ্যে ৭০ হাজার ৬০৯ জন ফিরেছেন গত এক মাসে।

অর্থাৎ প্রথম সাড়ে চার মাসে যত কর্মী ফিরেছেন, শেষ এক মাসে ফেরত এসেছেন তার চেয়ে অনেক বেশি। পরের এক মাসেই এর চেয়ে বেশি কর্মী ফেরত এসেছেন। বিদেশ ফিরে যাবেন- এমন কর্মীর সংখ্যাও এর মধ্যে রয়েছে, তবে সংখ্যা কম। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার কাজে ফিরতে পারবেন। স্বাভাবিক সময়ে মাসে দেড় থেকে দুই লাখ কর্মী দেশে আসেন ছুটিতে কিংবা প্রয়োজনে। তারা নির্দিষ্ট সময়ের পর ফিরেও যান। কিন্তু করোনাকালে যারা এসেছেন, তারা স্বেচ্ছায় নয়, কাজ হারিয়ে ফেরত এসেছেন।

যদিও বলা হচ্ছে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা আবার কাজ পাবেন এবং বিদেশে ফিরে যাবেন। কিন্তু সেদিন কবে আসবে তা জানে না কেউ। বরং গ্রাম থেকে মফস্বল শহরে কাজের সংকটে মানুষ। কেউ শহর কেউ বিদেশ ফেরত। এরা কোথায় যাবে? বিশেষত বিদেশ ফেরত যারা তাদের সংকট অনেক। এদের বড় একটা অংশ অনেক ধার-দেনা করে বিদেশ গিয়েছিল, তারা বিদেশে যাওয়ার অল্পদিন পরেই করোনা শুরু হলে দেশে ফিরতে হয়েছে। ফলে ধার-দেনার বিষয়টি মুখ্য হয়ে উঠেছে। একদিকে সবার অর্থনৈতিক সংকট আবার অন্যদিকে ধার-দেনা সব মিলে বিষয়টি দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এদের আবার বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের রয়েছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এটা কোনো মতেই সম্ভব না।

অন্যদিকে, আরেক সংকট তাড়া করে ফিরছে সবাইকে। সবার জানা যে শীতে করোনার প্রকোপ বাড়ে। আমাদের দেশে শীতকাল আগত। এ সময় দেশের ভেতরে যেভাবে স্বাভাবিক জীবন-যাপনের সংখ্যা বাড়ছে তাতে করোনা আবার মহামারী রূপ নিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। আসন্ন শীত মৌসুমে করোনার প্রভাব বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই প্রভাব মোকাবিলায় তিনি স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও মন্ত্রণালয়কে যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরপরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

প্রথম দফার সংক্রমণ সামাল দিতে গিয়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার যেসব বিষয়ে ত্রুটি ধরা পড়েছে তা দ্রুত সংশোধন করতে ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে নমুনা পরীক্ষা থেকে শুরু করে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা দ্রুততার সঙ্গে গুণগত মানে উন্নীত করতে হবে। অনেক দেশে দ্বিতীয় দফায় মারাত্মক সংক্রমণ লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও সবকিছু পুরোপুরি চালু হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়েও জনসাধারণের মধ্যে এক ধরনের শৈথিল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে কিছুদিন ধরে। সংক্রমণ ওই হারে না কমলেও মানুষেরে সাহস বেড়েছে। এই সব কারণে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে।

সেই সংক্রমণ প্রতিরোধের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এখনই করণীয় বিষয়ে রোডম্যাপ প্রস্তুত করে সে অনুযায়ী পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। সঙ্গে বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের বিদেশে পাঠানো ও করোনা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে জনমত গঠন ও প্রচারণা বাড়াতে হবে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে


poisha bazar

ads
ads