সোর্সদের রাশ টেনে ধরুন

সোর্সদের রাশ টেনে ধরুন

  • সম্পাদকীয়
  • ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৭:২৬

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধানী কাজ করতে হলে সোর্সের সাহায্য জরুরি। কারা সোর্স এ বিষয়টা স্পষ্ট করে বলতে হলে যাদের নাম শুরুতে আসে তারা হলো- রাজনৈতিক দলের কর্মী, বিভিন্ন ছোট অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, জেল থেকে ছাড়া পাওয়া দাগি আসামি, স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিসহ সাধারণ মানুষকে সোর্স হিসেবে ব্যবহার করে পুলিশ। তদন্ত, বিভিন্ন অপরাধের তথ্য ও অপরাধীদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অনেক সময় সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও নিয়ে থাকেন। এরাই ‘সোর্স’ বা এ সংক্রান্ত পরিভাষায় এদের ‘ফর্মা’ও বলা হয় ।

তবে বর্তমানে সোর্সদের বিষয়গুলো দৈনিক মানবকণ্ঠসহ একাধিক দৈনিকে প্রকাশের পরে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্ধারিত ‘সোর্স মানি’ কিংবা ‘অপারেশন মানি’ কারা পান এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সরকার থেকে এ জন্য পুলিশকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এই টাকা থানার এসআই থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাওয়ার কথা। কিন্তু বছরের পর বছর এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তারা এই ‘সোর্স মানি’ নিজেদের ইচ্ছামতো ব্যবহার করে আসছেন বলে পত্রিকান্তরে প্রকাশ হয়েছে। সরকারি ‘সোর্স মানি’ না পেয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বিভিন্ন উপায়ে টাকা সংগ্রহ করেন। আর সোর্সরা হয় এ টাকা সংগ্রহের মাধ্যম।

এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এসব সোর্সদের বেশিরভাগই বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে এবং কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে আটকের ভয় দেখায়। কেবল তা-ই নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে চলাফেরার কারণে সাধারণ মানুষও তাদের নিয়ে আতঙ্কে থাকে। মামলা তদন্তে, অপরাধী ধরতে পুলিশকে সহযোগিতা করার নামে সোর্সরা দিন দিনই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। পুলিশের সঙ্গে সখ্যের সুবাদে তারা নিজেরাই জড়িয়ে পড়ছে নানা ধরনের অপরাধে। স্থানীয় পর্যায়ে মাদক ও দেহব্যবসা, চাঁদাবাজি, অপহরণ, জায়গাজমি জবরদখল, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া থেকে শুরু করে সব ধরনের অপরাধে সরাসরি অংশ নিচ্ছে তারা। রাজধানীসহ সারাদেশেই সোর্সদের বেপরোয়া আচরণে মানুষ কমবেশি অতিষ্ঠ। রাজধানীসহ দেশের অনেক এলাকায় চাঁদা না দিলে ও ব্যক্তিগত বিরোধ থাকলে তুচ্ছ কারণে সাধারণ মানুষকে মাদকসহ বিভিন্নভাবে ফাঁসিয়ে দিচ্ছে পুলিশ সোর্সরা। নানা অপরাধে নিজেরা জড়িত থাকলেও এরা পুলিশের ক্ষমতায় বলীয়ান। ফলে তাদের সঙ্গে অনেকেই বিরোধে যান না। পুলিশের সোর্স প্রায়ই নিজ স্বার্থে পুলিশকে ব্যবহার করে। আবার অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ সোর্সদের ওপর এত বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে যে, তাদের দেয়া তথ্য যাচাই না করেই অভিযান চালায়।

এতে অনেক নিরপরাধ মানুষ মামলার শিকার হয়ে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে যায়। সোর্সদের দৌরাত্ম্যে অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। সোর্সরা পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করছে। অন্যান্য অপরাধ-অপকর্মেও অপ্রতিরোধ্য তারা। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের কাঁধে ভর করে দাবড়ে বেড়ায় সোর্সরা। অনেক সোর্স মামলার বাদী কিংবা আসামিদের পক্ষ নিয়ে প্রতিপক্ষকে হুমকি-ধমকি দেয়। তাদের অতি বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে প্রায়ই পুলিশ কর্মকর্তারা বিপাকে পড়েন। কিন্তু আমরা জানি সোর্সদের ব্যবহার না করে অপরাধী শনাক্ত বা অনেক কঠিন কাজ সহজ করা সম্ভব নয়। কিন্তু সে সুযোগে অনেক ক্ষেত্রে সোর্সের শিকার হচ্ছে জনগণ। ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। আবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সোর্সদের হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। তাই এদের রাশ টেনে ধরা একান্ত জরুরি। যে সোর্স যে কারণে যতটুকু ব্যবহার করতে হবে বা তারা সেই সীমার কতটা অতিক্রম করছে তা নিশ্চয়ই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানে। তাই সব বুঝে শুনে সোর্সদের ব্যবহার না করলে সে দায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বহন করতে হবে। যেটা মোটেও কাম্য নয়।

মানবকণ্ঠ/এইচকে



poisha bazar

ads
ads