চিকিৎসায় মানুষের আস্থা ফিরুক

চিকিৎসায় মানুষের আস্থা ফিরুক
- ফাইল ছবি

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫:১০

জনগণের মৌলিক অধিকারের একটি হচ্ছে চিকিৎসা। আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা সীমিত। অর্থবিত্ত যাদের আছে তারা দেশে চিকিৎসা করান না। চিকিৎসা ব্যবস্থার খবরও রাখেন না। করোনা সময়কালীন বাইরে যাওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রকৃত চিত্র দেশবাসী দেখেছে। দেশে নির্ভরযোগ্য হাসপাতালের সংকট, প্রধান প্রধান হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা, প্রয়োজনীয় মেশিন নষ্ট, ডাক্তারদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস ও ক্লিনিকনির্ভর চিকিৎসা, ডাক্তারদের প্রতি আস্থাহীনতা সব মিলে দেশের চিকিৎসা ব্যববস্থার ওপরে মানুষের নির্ভরতা বলতেই নেই।

ফলে ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ কিনে টিকে থাকতে পারলে ডাক্তারের কাছে সহসা কেউ যেতে চায় না। বলা যায় ডাক্তারবিমুখতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। যাদের টাকা আছে তারা বাইরে চলে যান, সমস্যা দেশের আপামর জনসাধারণের। এটা কোনো মতেই ভালো সংবাদ নয়। গণমানুষের ভোগান্তির চিত্র প্রতিদিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রতি বছর দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। দেশে নেই বিশ্বমানের চেইন হাসপাতাল। অনেকে বাধ্য হয়েই বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। বাংলাদেশে নামে গুটিকয়েক অভিজাত হাসপাতাল থাকলেও সেগুলো নিয়ে রোগীদের অভিযোগের শেষ নেই।

সরকারি হাসপাতালগুলোতেও রয়েছে চরম অব্যবস্থাপনা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ খাতে বাজেট অপ্রতুল। লোকবলের অভাব। এ ছাড়া সমন্বয়হীনতা কাজ করছে সবখানে। আমাদের স্বাস্থ্য খাত উন্নত হলে, এত টাকা বিদেশে চলে যেত না। এই টাকা ধরে রাখতে হলে দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন করতে হবে। আমাদের অনেক টাকা দেশের বাইরে চলে যায়।

এর উচ্চবিত্তরা যান সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে। আর মধ্যবিত্ত সাধ্যের মধ্যে ভারতে গিয়ে চিকিৎসা করান। দেশে মাত্র দুটি চেইন হাসপাতাল ‘এভারকেয়ার’ এবং ‘এএফসি হেলথ ফরটিস হার্ট ইনস্টিটিউট’। রাজধানীতে এভারকেয়ারের একটি শাখা রয়েছে। চট্টগ্রাম, খুলনা ও কুমিল্লাতে রয়েছে এএফসি হেলথ ফরটিস হার্ট ইনস্টিটিউটের শাখা। ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ছড়াছড়ি থাকলেও মানসম্পন্ন সেবা দিতে চেইন হাসপাতাল গড়ার আগ্রহ দেখা যায় না।

বেসরকারি বিনিয়োগ না থাকায় সেবার মান বাড়ানো নিয়ে নেই কোনো সুস্থ প্রতিযোগিতা। চলতি বছর বিশ্বের সেরা ১০০ হাসপাতাল নিয়ে করা একটি র‌্যাংকিংয়ে ঠাঁই হয়নি বাংলাদেশের কোনো হাসপাতালের। তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ হিসেবে ভারতের মাত্র একটি হাসপাতালের জায়গা হয়েছে। নয়াদিল্লিতে অবস্থিত অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস প্রথমবারের মতো বিশ্বের সেরা ১০০ হাসপাতালের তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে।

সরকারি হাসপাতালে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ আগেও ছিল এখনো আছে। ১৯৭৫ পরবর্তী সরকারগুলো দেশের ৫টি মৌলিক অধিকারের ব্যাপারে মোটেও আন্তরিক ছিল না। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তার বড় প্রমাণ। হাসপাতালগুলোতেও একটা সিন্ডিকেট রয়েছে এটা ভেঙ্গে খোল-নলচে না বদলালে চিকিৎসা ক্ষেত্রের এই অব্যবস্থাপনা দূর হবে না।

ডাক্তারদের রোগীবান্ধব মানসিকতা, সরকারি হাসপাতালকে আধুনিকীকরণ, চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ ও সরকারে স্বাস্থ্য বিভাগের দ্বারা বেসরকারি চিকিৎসালয়গুলো সঠিকভাবে মনিটর করার সঙ্গে চিকিৎসকদের জবাবদিহিতা চালু করলে এই অব্যবস্থাপনা অচিরেই দূর হবে বলে আমরা মনে করি।

মানবকণ্ঠ/আরএস


poisha bazar

ads
ads