রেলে লুটপাট বন্ধ করুন

রেলে লুটপাট বন্ধ করুন

  • সম্পাদকীয়
  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪:৪৫

অতীতের গৌরবময় বাংলাদেশ রেলওয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি-অব্যবস্থাপনা ইত্যাদি নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। রেলের কেনাকাটা ও বিক্রির প্রতিটি স্তর এবং রেলের জমি এবং জলাশয় ইজারা দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়।

রেলের কারখানাগুলোসহ সঙ্কেত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নড়বড়ে রেলপথ ও ভাঙা ব্রিজ সংরক্ষণ এমনকি ডাবল লাইন-মিশ্র লাইন নির্মাণেও ব্যাপক দুর্নীতি হয়ে থাকে। এ যেন কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ পাওয়া!

গতকাল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়- পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মালপত্র কেনাকাটার নিরীক্ষা করতে গিয়ে অভিনব সব দুর্নীতির দেখা পায় পরিবহন অডিট অধিদফতরের নিরীক্ষা (অডিট) কমিটি। আগুনদামে কেনার পর অনেক ক্ষেত্রে মালপত্র হাওয়া হয়ে যাওয়ার সত্যতাও মিলেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইচ্ছা করে বেশি দামে চুক্তি করে মালপত্র কেনার নজির রয়েছে। বিনা প্রয়োজনে নিয়োগ করা হয়েছিল পরামর্শক। বিধিবহিভর্ত ভাবে কেনা হয়েছে অনেক মালপত্র।

শুধু তা-ই নয়, একাধিক ক্ষেত্রে মালপত্র সরবরাহ ছাড়াই বিল পরিশোধের আয়োজনও করেছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এতে রেলওয়ের ক্ষতি হয়েছে কয়েক শ কোটি টাকা। গেল অর্থবছরে আয়ের লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ করতে পারেনি পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে। তাদের আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা কম হয়েছে। এ রকমই তথ্য উঠে এসেছে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেলওয়ের মালপত্র কেনাকাটা ও অন্য বিষয় নিয়ে পরিবহন অডিট অধিদফতরের নিরীক্ষা (অডিট) প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেলওয়ে মালপত্র কিনলেও তার অনেক কিছুই নিরীক্ষার সময় পাওয়া যায়নি। দুঃখজনক হচ্ছে- পশ্চিম রেলওয়ের উল্লিখিত প্রকল্পগুলোই শুধু নয়, রেলওয়ের অধিকাংশ প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এই খাতে এমন অনিয়ম-দুর্নীতির খবর আমাদের স্বভাবতই হতাশ করে।

দুর্নীতি বজায় রেখে জাতিকে যুগোপযোগী রেল উপহার দেয়া কোনোমতেই সম্ভব নয়। এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হলে রেলপথ মন্ত্রণালয়কে আপাদমস্তক ঢেলে সাজানো জরুরি। সবার আগে এই খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, অব্যবস্থাপনার ছায়া সরাতে অবশ্যই জোরদার পদক্ষেপ নিতে হবে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে


poisha bazar

ads
ads