দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে চাই শুদ্ধি অভিযান

দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে চাই শুদ্ধি অভিযান

  • সম্পাদকীয়
  • ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫:১৬

ক্যাসিনো সম্বন্ধে দেশের আপামর জনসাধারণের সামান্য ধারণা ছিল না। কিন্তু সরকার ঠিকই খবর রেখেছিল কারা ক্যাসিনো চালায়, কারা দলের নাম ভাঙিয়ে আঙুল ফুলে বটগাছ হয়ে যাচ্ছে। তারপরে একদিন হঠাৎ করেই শুদ্ধি অভিযান, একে একে ধরা পড়ে ক্ষমতাসীন দলের অনেক বড় নেতা। ক্যাসিনোকাণ্ডে তোলপাড় শুরু হয় গোটা দেশে। দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান অনেকে। ঠিক এক বছর আগে র‌্যাব-পুলিশের শুরু করা এই শুদ্ধি অভিযানেও এখন ভাটার টান। তেমন কোনো অভিযান দেখা যাচ্ছে না।

বিদেশে পালিয়ে থাকা অনেক নেতাই দেশে এসে প্রকাশ্য রাজনীতিতেও সক্রিয়। অনেকেই পুরনো টেন্ডার ব্যবসাও শুরু করেছেন। কেউ কেউ গ্রেফতারের পর জামিনে ছাড়াও পেয়েছেন। এ কারণে জনগণের ভেতরে অনেক প্রশ্ন দানা বাঁধছে। কেন শুরু হয়েছিল এই অভিযান? কেনইবা অভিযানে ভাটা পড়ল, বিদেশে পালিয়ে থাকা নেতারা কিভাবে দেশে ফিরে আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছে। গতকাল একটি সহযোগী দৈনিকে এ খবর প্রকাশের পর জনমনে বিভিন্ন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মাত্র এক বছর আগে ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছিল। এ অভিযানের প্রথম দিনই ফকিরাপুলের ইয়াংমেনস ক্লাবে অভিযান চালানো হয়। ঐদিন সন্ধ্যায় গুলশানের বাসা থেকে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভ‚ঁইয়াকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের সীমান্ত এলাকা থেকে র‌্যাব গ্রেফতার করে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে।

শুদ্ধি অভিযানের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসে গণপূর্তের ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের টেন্ডার বাণিজ্য। জি কে শামীম ও খালেদ মাহমুদ গণপূর্তের ৩ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন গ্রæপের কাজের টেন্ডারবাজি নিয়ন্ত্রণ করে। গ্রেফতার হন মোহামেডান ক্লাবের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন ভ‚ইয়া, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের ক্যাসিনো পরিচালনাকারী এনামুল হক আরমান, কলাবাগান ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ শফিফুল আলম ফিরোজ, অনলাইন ক্যাসিনোর প্রধান সমন্বয়কারী সেলিম প্রধান, ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজান, মোহাম্মদপুরের ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীব ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা ময়নুল হক ওরফে মনজু। ক্যাসিনো অভিযান শুরুর পর অনেকেই গা ঢাকা দেন। কেউ কেউ থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভারতে আত্মগোপন করেন। প্রায় তিন মাস ধরে শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্লাব সিলগালা করে দেওয়া হয়।

টেন্ডারবাজির অভিযোগে যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ কয়েকটি পদে পরিবর্তন আনা হয়। এরপরও টেন্ডারবাজি থেমে নেই। সম্প্রতি গণপূর্তের অধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে রূপপুর গ্রিনসিটি রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সের ১৬টি ভবনের আসবাবপত্র সরবরাহে ৫৫ কোটি ৯০ লাখ টাকার কাজ সবার জানা। অধিক মূল্যে টেন্ডার দাখিল করা অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে ঐ কাজ দেওয়ার অভিযোগের মতো একাধিক অপকাণ্ডের পরে আবার তারচেয়ে কিছু ভয়ানক ঘটনা এসব ঘটনাকে চাপা দিয়েছে। যে কারণে ক্যাসিনোকাণ্ডের হোতাদের সবাই ভুলে গেছে মনে হয়। নতুবা অভিযুক্ত সেই সব নেতা প্রকাশ্যে আসে কিভাবে? কিভাবে তারা রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়? পুরনো সব মামলার চার্জশিট র‌্যাব, পুলিশ দ্রæতই দেবে। তাতে কি হবে আমরা জানি না। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার ঘোষিত জিরো টলারেন্স দেখাতে হলে অভিযান অব্যাহত রাখার বিকল্প নেই। ক্যাসিনো, টেন্ডারবাজি, সিন্ডিকেট থেকে সব ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রæত বিচার আইনে দৃষ্টান্তমূলক, কঠিন শাস্তির বিধান চালু না করলে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা কষ্টসাধ্য হবে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে


poisha bazar

ads
ads