মুনাফালোভী সিন্ডিকেট ভাঙুন

সিন্ডিকেট ভাঙুন

  • সম্পাদকীয়
  • ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩:৫৫

হঠাৎ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার ইতিহাস আমাদের দেশে নতুন নয়। দেশের ভেতরে মুনাফালোভী সিন্ডিকেট থাকা ও দেশের বাইরের বাজারের ওপর নির্ভরতার এটা একটা বড় সংকট। আমরা বিভিন্ন সময় দেখেছি, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলো-যেখান থেকে আমরা বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করি, তারা হঠাৎ করে পণ্য আটকে দিয়ে নতুন সংকটের কথা বলে এবং বেশি টাকা মূল্যে এলসি করার কথা বলে। পণ্য আটকে মূল্য বাড়িয়ে দেয়।

একইসঙ্গে আমাদের দেশের মুনাফালোভী সিন্ডিকেটগুলো এ পরিস্থিতে ঘোলাজলে মাছ শিকারের কৌশল নেয়। এরা এমন সময় এসব অঘটন ঘটিয়ে বসে যখন সরকারের করার কিছু থাকে না। অন্য কোনো দেশ থেকে কোনো পণ্য আমদানি করতে হলেও যে প্রক্রিয়ায় পণ্য ক্রয় করতে হয় তাতে তো সময় লাগে। এই সময়ের সুযোগ নেয় আমাদের দেশের সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ীরা। যার প্রথম চাপটা পড়ে নিম্ন আয়ের মানুষদের ওপর। করোনা অর্থনীতির ওপরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর চিড়েচ্যাপ্টা হওয়ার দশা হয়েছে। পেঁয়াজ নিয়ে ভারতের এক ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পেঁয়াজ হয়ে গেছে ১০০ টাকা। ৩০ টাকার পেঁয়াজ ১০০ টাকা হলে পরিস্থিতি কি দাঁড়ায়। গতকাল গণমাধ্যমে সে খবর প্রকাশ হয়েছে। দৈনিক মানবকণ্ঠসহ একাধিক দৈনিকে প্রকাশিত বাস্তবতার চিত্র দেখলে পুরো পরিস্থিতি আঁচ করা যায়। গত সোমবার ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদফতর পেঁয়াজ রফতানি নিষিদ্ধের ঘোষণা দিলে সীমান্তে বাংলাদেশ অভিমুখী পেঁয়াজের ট্রাক আটকে দেন দেশটির ব্যবসায়ীরা।

তারা বলছেন, প্রতি মেট্রিক টন ২৫০ ডলারের এলসির এই পেঁয়াজ এখন বর্ধিত মূল্য ৭৫০ ডলারে এলসি করলেই সেগুলো ছাড়া হবে। এর পর থেকেই বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি পেঁয়াজের দাম চড়তে শুরু করে। তবে এভাবে দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে পাইকারি ব্যবসায়ীরা নিজেদের দায় এড়িয়ে গ্রাম-গঞ্জ থেকে যারা দেশি পেঁয়াজ সংগ্রহ করে আড়তে নিয়ে আসেন, তাদের ওপর দোষ চাপিয়েছেন। কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ভারত গত সোমবার হুট করে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়। এরপর ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই দেশের বাজারে পেঁয়াজের এমন দাম বাড়ল। ভারত রফতানি বন্ধ করায় গত বছরের মতো লাগামহীন হয়ে উঠতে শুরু করেছে পেঁয়াজের বাজার। রাতারাতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। দাম আরো বাড়ার শঙ্কায় মানুষও প্রয়োজনের অতিরিক্ত পেঁয়াজ কিনতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম তিন অংক ছুঁয়েছে। সমস্যা নিরসনে সরকার চীন, মিয়ানমার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিসর থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য আবেদন করেছে। এসব দেশ থেকে পেঁয়াজ আসবে সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো- বাজার অস্থিতিশীল হয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষেরা সংকটে পড়েছে। তবে সেই সঙ্গে আমরা এটাও মনে করি যে, এককভাবে কোনো দেশের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। যেহেতু পেঁয়াজ আমাদের দেশে দুর্লভ নয়, সেহেতু কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে এদেশেই পেঁয়াজ উৎপাদন করা হোক এবং এর সংরক্ষণ পদ্ধতি জেলায় জেলায় চালু করা হোক। একই সঙ্গে দেশের সিন্ডিকেটগুলো চিহ্নিত করে ভাঙা হোক- যারা কথার আগেই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মুনাফা লুটে নেয়।

এসব সংকট দূর করলে কোনো প্রস্তুতি ছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য আটকে অসৎ ব্যবসায়ীদের মুনাফা লোটার ক্ষেত্র তৈরি করার পথ বন্ধ হয়ে যাবে। আমার দেশের কৃষক টাকা পেলে তা আমাদের দেশের জন্য লাভজনক হবে। নিজেদের স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার বিকল্প নেই আর সেটা অসম্ভবও নয়। প্রয়োজন উদ্যোগ গ্রহণের। দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থেই সেটা করা উচিত।

মানবকণ্ঠ/এইচকে



poisha bazar

ads
ads