অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করুন

অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করুন

  • সম্পাদকীয়
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৩৫

গবেষণা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মানদণ্ড। একজন প্রকৃত গবেষক সচেতনভাবে মূল্যবোধে বলীয়ান হয়ে গবেষণা করে থাকেন। কিন্তু যখন শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও গবেষণায় চুরির অভিযোগ ওঠে তখন প্রশ্ন ওঠে শিক্ষকদের নীতি-নৈতিকতা নিয়ে? এমন একটি পবিত্র দায়িত্ব- নিবিষ্ট চিত্তে সততার ন্যায় ধৈর্যের প্রতিমূর্তি হয়ে গবেষণা করতে হয়।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য- তিন বছর আগে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিয়া রহমান এবং ক্রিমিনোলজি বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানের বিরুদ্ধে প্লেজারিজমের অভিযোগ ওঠে। কথা হচ্ছে-একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতেই পারে, কিন্তু অভিযোগ প্রমাণ হওয়া খুবই ন্যক্কারজনক ঘটনা। যা পুরো শিক্ষাঙ্গন প্রশ্নবিদ্ধ করে। গবেষণা যথেষ্ট শ্রমসাপেক্ষ। অন্যের লেখা নিজের নামে চালিয়ে দেয়ার গবেষণা নয়-রীতিমতো নৈতিক অবক্ষয়। এসব রীতিকে বলা হয় প্রবঞ্চনা, প্রতারণা ও শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের পাঁয়তারা।

গতকাল মানবকণ্ঠের সংবাদ সূত্রে জানা যায়-তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটি ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে লেখা চুরির প্রমাণ পেয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ প্রমাণ শিক্ষাঙ্গনকে কলুষিত করেছে। যা কারো কাম্য ছিল না। এই প্রতারণার উপযুক্ত শাস্তি হওয়া জরুরি। যদিও তদন্ত কমিটি কোনো শাস্তির কথা উল্লেখ করেনি। তবে সিন্ডিকেট এই প্লেজারিজমের অভিযোগে কী শাস্তি দেয়া যায়, তা নির্ধারণ করতে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। ট্রাইব্যুনাল যে রিপোর্ট দেবে তা আবার সিন্ডিকেটে পাস হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে- ট্রাইব্যুনাল গঠনই কী শেষ হবে, নাকি উপযুক্ত শাস্তি হবে?

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের বিরুদ্ধে গবেষণায় অন্যের লেখা চুরির অভিযোগ ওঠা এবং প্রমাণ হওয়া পুরো শিক্ষাঙ্গনকে কলুষিত করা। অথচ একজন প্রকৃত গবেষক কখনোই অন্যের আবিষ্কৃত তথ্য নিজের নামে চালিয়ে দিতে পারে না। গবেষণা অনুধাবনের বিষয়, দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফসল; সুতরাং কোনোভাবেই এটিকে কলুষিত করা যাবে না। চুরি করা গবেষণালব্ধ ফলাফল অনেক সময় হিতে বিপরীত হয়ে থাকে। গবেষণার চৌর্যবৃত্তি রোধ করতে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা করা সময়ের দাবি। গবেষণায় অন্যের লেখা চুরি বুদ্ধিবৃত্তিক অসাধুতা হিসেবে মারাত্মক অপরাধ এবং নৈতিক অবক্ষয়ের চরম দৃষ্টান্ত। অবিলম্বে অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করাসহ এ প্রবণতা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

মানবকণ্ঠ/এইচকে


poisha bazar

ads
ads