গণপরিবহনে শৃঙ্খলা জরুরি

শৃঙ্খলা জরুরি

  • সম্পাদকীয়
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৫৩

সড়ক ও নৌপথে কোনক্রমেই দুর্ঘটনার লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। করোনাকালে যখন যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অধের্কেরও কম সেই সময়ে জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় সারা দেশে ৩৬৮ জন নিহত ও ৫১৮ জন আহত হয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ১২টির বেশি জীবন কেড়ে নিয়েছে ঘাতক ট্রাক বাস ও অন্য যন্ত্রদানব। দুর্ঘটনার সব তথ্য যেহেতু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায় না সেহেতু বলা যায় হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি। আহতের একাংশকে সারা জীবন পঙ্গুত্বের অভিশাপে ভুগতে হবে। অবস্থা এমন যে, মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে সুস্থ হয়ে ফিরবে সে নিশ্চয়তা পাওয়া দায় হয়ে পড়েছে। কোনভাবেই গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো যাচ্ছে না। ক্রমেই মুত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে।

গতকাল মানবকণ্ঠে প্রকাশিত একটি সংবাদে জানা যায়- বরিশালের উজিরপুরে অ্যাম্বুলেন্স ও কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে ছয়জন নিহত হয়েছেন। গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার আটিপাড়া রাস্তার মাথা এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে অ্যাম্বুলেন্স-কাভার্ডভ্যান মুখোমুখি সংঘর্ষ এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই অ্যাম্বুলেন্সের যাত্রী বলে জানা যায়। তারা নবজাতকের মরদেহ নিয়ে ঢাকা থেকে ঝালকাঠি ফিরছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই থেমে থাকা কাভার্ডভ্যানটিকে পেছন থেকে এমএম পরিবহন নামে একটি যাত্রীবাহী বাস ধাক্কা দেয়। এতে বাসের ৮-১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। অরেকটি সংবাদে জানা যায়- নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বালুবাহী একটি ট্রলারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে যাত্রীবাহী ট্রলারডুবির ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলমাকান্দার বড়খাপন ইউনিয়নের রাজনগরে গুমাই নদীতে এ ঘটনা ঘটে। বালুবোঝাই ট্রলারটির ধাক্কায় চোখের সামনেই নিমেষে ৩০-৩৫ জন যাত্রী নিয়ে ছোট ট্রলারটি ডুবে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট জেলার মদন উপজেলার হাওরে নৌকাডুবির ঘটনায় ৭ শিশুসহ ১৮ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। এমন কোনো দিন নেই যে, সংবাদ মাধ্যমে কোনো সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের খবর থাকে না। সড়কে এরকম প্রাণহানি মর্মান্তিক, অনাকাক্ষিত।

এমন সব দুর্ঘটনা মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি কেড়ে নিলেও তা বাস-ট্রাক-ট্রলার চালকদের সংবেদনশীলতায় প্রভাব বিস্তার করতে ব্যর্থ হয়েছে, এমন কথা বলা খুব একটা অমূলক হবে না। সড়ক দুর্ঘটনাজনিত অপরাধ রোধে যে আইন আছে তাতে অপরাধীর জন্য কড়া শাস্তির বিধান থাকলেও তার কার্যকারিতা নেই বললেই চলে। সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী দেশের ট্রাফিকব্যবস্থার যাচ্ছেতাই অবস্থা। চালক, পথচারী সব ক্ষেত্রে আইন না মেনে চলার প্রবণতা এতটাই প্রকট যে আতঙ্কিত না হয়ে পারা যায় না। বাস ও ট্রাক চালকরা তো সড়কপথে যথেচ্ছতা প্রদর্শনকে নিজেদের অধিকার বলে ভাবেন। দেশের যানবাহন চালকের সিংহভাগ প্রশিক্ষণ ছাড়াই গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পেয়েছেন। যানবাহনের তুলনায় ড্রাইভিং লাইসেন্সের সংখ্যা কম থাকা কোনো সুস্থতার প্রমাণ নয়। ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার দায়িত্ব যাদের তাদের মধ্যে সততার সংকট থাকায় প্রশিক্ষিত চালক হলেই ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া যাবে সে নিশ্চয়তা নেই বললেই চলে।

গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে এখনই ভাবতে হবে। অন্যথায় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটতেই থাকবে। হালকা যানবাহনের জন্য আলাদা লেন তৈরি করা যেমন জরুরি, তেমনি সড়ক-মহাসড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন তুলে দিতে হবে। নৌপথেও একইভাবে শৃঙ্খলা ফিরে আনতে ব্যবস্থা নিতে হবে। সবার আগে চালকদের নিয়ে ভাবা দরকার। লাইসেন্সবিহীন চালকদের হাতে কোনোভাবেই কোনো গাড়ি তুলে দেওয়া যাবে না। যানবাহন মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিকতায় গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব- এমন প্রত্যাশা সবার।

মানবকণ্ঠ/এইচকে



poisha bazar

ads
ads