বিপন্ন শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ান

মানবকণ্ঠ
সম্পাদকীয় - মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • সম্পাদকীয়
  • ১০ জুলাই ২০২০, ১৫:৫৭

করোনার ছোবলে বিপন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক। বেশ কতদিন ধরে গণমাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছিল স্কুল বিক্রির বিজ্ঞাপন ও শিক্ষকদের পেশা বদলের বিভিন্ন প্রতিবেদন। আমাদের দেশে পরিকল্পিত কোনো শিক্ষা ব্যবস্থা কখনোই চালু হয়নি।

দেশে এমন কোনো শিক্ষা নেই যা শেষ করলেই নিয়মগতভাবে কোনো চাকরি পাওয়া যাবে। শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রচুর, যাদের বড় একটা অংশ টিউশনি বা কোচিংয়ে পড়িয়ে কোনো রকম সংসার চালাতেন। এভাবে সারাদেশের অজস পরিবার স্বাচ্ছন্দ্যেই চলত। কিন্তু করোনার প্রাদুর্ভাবে মধ্য মার্চ থেকে স্কুল, কলেজ বন্ধ থাকায় নন-এমপিওরা কোনো বেতন পাচ্ছেন না। পারছেন না প্রাইভেট পড়াতে। ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের কারণে এখন টিউশনি-প্রাইভেট বা কোচিংয়েও ছাত্রছাত্রী পড়াতে পারছেন না।

ফলে বাসা ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, সংসার খরচ ইত্যাদি মেটাতে না পারায় শিক্ষকদের এই শ্রেণিটি বাসা ছেড়ে ফিরে গেছেন নিজ গ্রামের বাড়িতে। সেখানেও তারা ভালো নেই। খাওয়ার খরচ চালিয়ে ওষুধ কেনার টাকা নেই কারো। মানবেতর জীবন যাপন করছেন এসব শিক্ষক। আমাদের দেশের গ্রাম থেকে শহর অবধি ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে উঠেছিল শত সহস কোচিং সেন্টার, কিন্ডারগার্টেন, গানের স্কুল, চারুকলা বেসরকারি প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়। নন-এমপিও বা বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা এসব স্কুলের শিক্ষকদের আয়ের মূল উৎস ছিল টিউশনি করা।

শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নিয়ে বেশ ভালোই চলছিল এসব শিক্ষকের সংসার। কিন্তু করোনায় সব বন্ধ। কোথায় যাবে তারা? গ্রামের বাড়িতে গেলে বাসা ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল না হয় না-ই লাগল। পেটের ক্ষুধা কী দিয়ে মিটাবে? বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করা উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী এ করোনাকালে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাদের দিন কাটছে অনাহারে-অর্ধাহারে। কেউ চলছেন ধার-দেনা করে বা পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে। দোকান থেকে বাকি নিয়ে চলছে অনেকের দিন। আবার অনেকে বাধ্য হয়ে এ ছুটিতে পেশা বদল করে বিভিন্ন ধরনের কাজকর্ম ও ছোটখাটো ব্যবসায় ভিড়ে গেছেন। সরকারি হিসাবে দেশে বেসরকারি, নন-এমপিও এবং প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে প্রায় ৬০ হাজার। এগুলোর মধ্যে ৪০ হাজারই কিন্ডারগার্টেন (কেজি) স্কুল। ২ হাজার বিভিন্ন রকম আধা-এমপিও ও বেসরকারি স্কুল। এছাড়া নন-এমপিও স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা প্রায় সাড়ে ৮ হাজার, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন ধরনের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পৌনে ১০ হাজার, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৯৬টি।

এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কেজি স্কুলগুলোতে ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী আছেন। কারিগরি প্রতিষ্ঠানে জনবল আছে প্রায় আড়াই লাখ। বেসরকারি নন-এমপিও স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় আছেন আরো প্রায় ৯০ হাজার। আর ৯৬ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী আছেন প্রায় ২৯ হাজার। এছাড়া শতাধিক ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে দেশে, যেখানে আরো কয়েক হাজার শিক্ষক-কর্মচারী আছেন। অনার্স-মাস্টার্স কলেজে শিক্ষক আছেন সাড়ে ৫ হাজার। এদের বেশিরভাগের বেতন-ভাতা অনিয়মিত হয়ে গেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, সরকার শিক্ষকদের ৫ হাজার আর কর্মচারীদের আড়াই হাজার টাকা করে এককালীন প্রণোদনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা প্রতি মাসে সহায়তা করলেও শিক্ষকদের সংকট যতটা লাঘব হবে তাতে লবণ-ভাত খেয়ে বাঁচতে পারবে। শিক্ষকরা জাতি গড়ার কারিগর। করোনাকাল গেলে এরাই শিক্ষা ব্যবস্থাকে গতিশীল করবে। তাই তাদের সংকটকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই।

মানবকণ্ঠ/এইচকে

 





ads






Loading...