চিকিৎসা ব্যবস্থা বদলানো জরুরি

মানবকণ্ঠ
সম্পাদকীয় - মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • সম্পাদকীয়
  • ০৯ জুলাই ২০২০, ০০:০০,  আপডেট: ১০ জুলাই ২০২০, ১৫:৫৬

আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার হাল কেমন সেটা নতুন করে বলার কিছু নেই। হঠাৎ দৃষ্টি দিলে দেখা যাবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিশাল উন্নয়ন হয়েছে। গ্রাম থেকে শহর অজস বেসরকারি হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। কিন্তু চিকিৎসা ব্যবস্থার দিকে তাকালে মনে হবে মানুষের মৌলিক অধিকারের এই গুরুত্বপূর্ণ খাতটি সবচে বেশি অবহেলিত। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার যে দৈন্যদশা তাকে নির্ভর করেই সব প্রাইভেট হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। 

কিন্তু এখানে রয়েছে বিলের উৎপাত আর পুরোটা অপচিকিৎসা। টাকার জন্য মৃত রোগীকে লাইফ সাপোর্টে রাখা থেকে অপারেশন রোগীর পেটের ভেতরে গজ ফিতা রেখে সেলাইয়ের একাধিক নজির আছে আমাদের দেশে। বিলের জন্য রোগীদের আটকে রাখার ইতিহাস আছে, মুহূর্তে ৭/৮ লাখ টাকা বিল করার ঘটনা ঘটছে অহরহ। ভুয়া ডাক্তার, ভুয়া নার্স, ভুয়া রিপোর্টের আধিক্যে হাসপাতালমুখী সাধারণত কেউ হতে চায় না।

সবচে বড় কথা হলো দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি দেশের মানুষের কোনো আস্থা নেই। যে কারণে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ চিকিৎসার জন্য কোলকাতা আর বিত্তবানরা দক্ষিণ ভারত, মুম্বাই, সিঙ্গাপুর বা ব্যাংকক চলে যায়। বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা যায়, শুধুমাত্র পিয়ারলেস হাসপাতালে ২০১৩ সালে ২৫ হাজার রোগী গিয়েছে বাংলাদেশ থেকে। মোট হিসাব করলে চক্ষু চড়ক গাছ হবে। বাংলাদেশে করোনাকালে মানুষের ভয়াবহ দুঃসময় না ভেবে এ সময়কে বাণিজ্যিকভাবে নিয়ে মানুষকে হয়রানি করার ঘটনা নজিরবিহীন। এর আগে একাধিক হাসপাতালের ঘটনা সবার চোখে আসলেও সব ছাপিয়ে গেছে রিজেন্ট হাসপাতাল নামে একটি হাসপাতালের কার্যক্রম। এই হাসপাতালের মালিকের হাত এত বড় হয়েছিল যে তারা ধরাকে সরাজ্ঞান করতে শুরু করেছিল।

রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক করোনার নকল সনদ তৈরি করে একই সঙ্গে রোগী ও সরকারের কাছে বিল আদায় করা, মিরপুর শাখা পরিদর্শনের সময় মন্ত্রণালয়ের দুজন কর্মকর্তাকে অস্ত্রের মুখে তাড়িয়ে দেয়া, লাইসেন্স ছাড়াই ৭ বছর ধরে হাসপাতাল চালানো, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্টিকার ও ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড লাগিয়ে রেজিস্ট্রেশনবিহীন ব্যক্তিগত গাড়ি চালানো ও কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি পরিশোধ না করার মতো অসংখ্য অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে র‌্যাব। ছয় হাজার রোগীর কাছ থেকে কমপক্ষে সাড়ে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এই রিজেন্ট। ভুয়া রেজিস্ট্রেশন, তৈরি ভুয়া টেস্ট রিপোর্ট বেরিয়েছে র‌্যাবের অভিযানে।

এসব ঘটনার হোতারা পলাতক রয়েছেন। এসব অভিযোগে গত মঙ্গলবার উত্তরা পশ্চিম থানায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদকে এক নম্বর আসামি করে ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশের পর হাসপাতাল সিলগালা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। র‌্যাবের দাবি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রভাবশালী লুটেরা সিন্ডিকেটের প্রত্যক্ষ মদদে রিজেন্ট মালিক এ ধরনের অবিশ্বাস্য সব কাণ্ড ঘটিয়েছেন।

সুষ্ঠু তদন্ত করা হলে নেপথ্য নায়কদেরও চিহ্নিত করা যাবে। এ ধরনের ঘটনা চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাকে বিনষ্ট করছে। যেটা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য দুঃসংবাদ। আমাদের সেবা খাতগুলো থেকে দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে উপড়ে ফেলা জরুরি। মুক্তিযুদ্ধের অর্ধশত বছর পরে একজন মানুষ যদি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মতো একটা জনগুরুত্বপূর্ণ সেবা খাতের ওপর নির্ভর করতে না পারে সেটা কোনো মতেই গ্রহণযোগ্য নয়। দরকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে ফেলা। উদ্যোগ নেয়ার সময় এটাই।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads






Loading...