পেশা বদল রোধে চাই দেশপ্রেম

পেশা বদল রোধে চাই দেশপ্রেম
- ফাইল ছবি

poisha bazar

  • মানবকণ্ঠ ডেস্ক
  • ০৮ জুলাই ২০২০, ১২:৪০

ডাক্তার-প্রকৌশলীদের পেশা বদল ব্যাপকভাবে বাড়ছে। বহুদিন ধরে তাদের মধ্যে এ প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। মেডিকেল কলেজ ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে অনেকেই এ পেশায় আর থাকতে চান না। যেসব ক্যাডারে ক্ষমতা, সম্মান একই সঙ্গে আর্থিক সুবিধা বেশি সেসব ক্যাডারে তাদের যোগদান ক্রমেই বাড়ছে। তবে বিসিএসে কতজন ডাক্তার-প্রকৌশলী অন্য পেশায় চলে গেছেন সে তথ্য পুরোপুরি জানা যায়নি। যতটা জানা গেছে সেটা কম নয়।

বিসিএসে শুধু পররাষ্ট্র ক্যাডারেই নয়, প্রশাসন, পুলিশসহ আরো কিছু ক্যাডারেও ডাক্তার-প্রকৌশলীর আধিক্য দেখা গেছে। বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাস করা অর্ধশতাধিক ডাক্তার এবং বুয়েটসহ বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা প্রায় ১২০ জন প্রকৌশলী এবারে নিয়োগ পাচ্ছেন। অর্থাৎ বিশেষায়িত বিষয়ে পড়ালেখা করে চাকরি করতে চলে যাচ্ছেন অন্য পেশায়। ডাক্তার-প্রকৌশলীদের সঙ্গে কৃষিবিদরাও পেশা বদল করছেন।

সম্প্রতি ৩৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে ২৪টি ক্যাডারে দুই হাজার ২০৪ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এর মধ্যে পররাষ্ট্র ক্যাডারে যে ২৫ জন প্রার্থীকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে সাতজনই বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাস করেছেন। আর ১৩ জন পাস করেছেন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তাদের ১০ জনই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র ছিলেন।

অন্যদের মধ্যে একজন রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), একজন খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং আরেকজন অন্য একটি প্রকৌশল শিক্ষার প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করেছেন। গতকাল একটি পত্রিকায় এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।

চিকিৎসা-প্রকৌশলসহ বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে নিজ পেশায় না গিয়ে বিসিএস দিয়ে পেশা বদল নতুন নয়। তবে আগে এই সংখ্যা ছিল খুবই কম। কিন্তু ৩৫তম বিসিএস থেকে বিশেষায়িতদের বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে অন্য পেশায় চলে যাওয়ার হার বাড়ছেই।

পিএসসির কাছে এ তথ্য না থাকলেও এটাই সত্যি। বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার যোগ্যতা হচ্ছে গ্র্যাজুয়েশন (স্নাতক) থাকতে হবে। এখন সে মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাগ্রিকালচার, কিংবা বাংলা না ইতিহাসের গ্র্যাজুয়েট, সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়। কিন্তু একটা প্রতিষ্ঠান তার সব সামর্থ্য দিয়ে যখন একজন ডাক্তার বা প্রকৌশলী তৈরি করে তখন সেই ব্যক্তির যেমন কিছু দায় থাকে তেমনি রাষ্ট্রের তার কাছ থেকে কিছু প্রত্যাশা থাকে।

যেকোনো পেশায় থেকে রাষ্ট্রের সেবা করলেও ডাক্তার, প্রকৌশলীরা জনসেবার যে জায়গায় থাকেন সেটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, আবার একজন ডাক্তার বা প্রকৌশলীকে তৈরি করতে রাষ্ট্রের যে ব্যয় সেটা অন্য শিক্ষার চেয়ে অনেক বেশি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, একটি সাধারণ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একজন শিক্ষার্থীর পেছনে রাষ্ট্র অনেক বেশি ব্যয় করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলে পাঁচ বছরের কোর্স। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয় করেছিল তিন লাখ ৮০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে বুয়েটের ব্যয় ছিল দুই লাখ ৩২ হাজার টাকা। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয় ছিল যথাক্রমে এক লাখ ৮০ হাজার ও এক লাখ ২০ হাজার টাকা। শুধুমাত্র বিসিএস প্রশাসনে যদি চাকরি করতে হয় তাহলে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হয়ে রাষ্ট্রের ও বাবা-মায়ের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে লাভ কি?

আসলে আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থান কোথায় হবে সেই পরিকল্পনা নেই। এ জন্য আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। আর প্রয়োজন একজন শিক্ষার্থীকে দেশপ্রেমিক বানানোর শিক্ষা দেয়া। দেশপ্রেম থাকলে ভোগ, বিলাসিতার প্রতি লালসা, মোহ থাকে না। যে কারণে পেশা বদলেরও প্রয়োজন পড়ে না। কর্তৃপক্ষ কি বিষয়টি নিয়ে ভাববে?

মানবকণ্ঠ/আরএস

 





ads






Loading...