বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়ান

মানবকণ্ঠ
সম্পাদকীয় - মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • সম্পাদকীয়
  • ০৭ জুলাই ২০২০, ১৪:০৬

করোনার কামড়ে বিপর্যস্ত দেশ। এর মধ্যে শুরু হয়েছে বন্যা। কোথাও কোথাও পরিস্থিতির উন্নতি হলেও নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে, বেড়েছে মানুষের দুর্ভোগ। বন্যায় ভেসে গেছে ফসলের ক্ষেত, নদীতে ভেসে গেছে বসতভিটা। দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও কোথাও কোথাও এখনো হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি। বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছেই। বন্যার রেশ না কাটতেই ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’র মতো দেখা দিয়েছে ব্যাপক নদীভাঙন। চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই দেশের অন্তত ১৪ জেলায় এ নদীভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের তীব্রতায় অনেকে ভিটেমাটি, সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু বাঁধের ওপর। হাজারো মানুষ ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।

তীব্র নদীভাঙনের কবলে পড়া জেলাগুলো হলো- বরিশাল, পিরোজপুর, পাবনা, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর। প্রতিটি এলাকার চিত্র এক। গতকাল পত্রিকান্তরে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই নদীসংলগ্ন এলাকাগুলোতে ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে সেখানকার সরকারি দফতরগুলোর ভবন। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মেঘনাসংলগ্ন একাধিক উপজেলার বহু গ্রাম তীব্র ভাঙনের মুখে পড়েছে। সেখানকার নৌ-টার্মিনালের পন্টুন সরিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোস্টগার্ডের দক্ষিণ জোনের পতিত জমি, মধ্য বাউশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দক্ষিণ বাউশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মেঘনার মতো উত্তর জনপদে পদ্মা ও যমুনায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায় নির্ঘুম দিন কাটাচ্ছেন নদীপারের হাজারো মানুষ।

সিলেট অঞ্চলের দশাও একই রকম। হাওর এবং নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে কিশোরগঞ্জের নিকলি উপজেলার ছাতিরচর ইউনিয়ন ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে। ঘোড়াউত্রা নদীর প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে বিলীন হয়ে গেছে ছাতিরচরের জামে মসজিদ, রাস্তাসহ শতাধিক মানুষের বসতবাড়ি। ভাঙনের তীব্রতায় গ্রামের অসংখ্য মানুষ বসতবাড়ি হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন আশপাশের আত্মীয়স্বজনের ঘরবাড়িতে। আবার অনেকেই পরিত্যক্ত খোলা জায়গায় বসতঘরের চালা অস্থায়ীভাবে বসিয়ে রাত পার করছেন। নদ-নদীর পানি কমলেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদীতে বিলীন হয়ে গেছে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প।

বন্যার পানি কমতে না কমতেই জেলার কয়েকটি উপজেলার ব্যাপক নদীভাঙনে বানভাসি মানুষ দিশাহারা। বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে করোনার হানা প্রকট হয়েছে। কিন্তু অনেক হাসপাতালও বেহালে। ফলে মানুষের দুর্দশার অন্ত নেই। এই দুর্দশা থেকে শিগগিরই মুক্তি মিলবে বলে মনে হচ্ছে না। কারণ বন্যা চলে গেলেও তার রুটি-রুজির জোগান দেয় যে ফসল তা আজ নিশ্চিহ্ন। নদীর পারে বসে চোখের জল ফেলে কৃষক। এখন সে জমিজোতহীন, বাস্তুহারা। এমন অযুত মানুষ এখন ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব। তাদের সরকারি সাহায্য দেয়া জরুরি। প্রয়োজনবোধে বন্ধ স্কুল-কলেজে আপাতত তাদের থাকতে দেয়া যেতে পারে। এ ছাড়া একটা সময়কাল পর্যন্ত তাদের মধ্যে ত্রাণ কার্যক্রম না চালালে প্রকট অভাব হানা দিতে পারে বলে আমরা মনে করি। পানিবাহিত রোগও এ সময় হানা দেয়, তাই বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য গভীর নলকূপ অস্থায়ীভাবে বসানো যেতে পারে। এখনই জরুরিভাবে ব্যবস্থা না নিলে ঘটবে মানবিক বিপর্যয়। করোনার কামড় যতই বীভৎস হোক, এর মধ্যে বানভাসি মানুষের দুর্দিনে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান শ্রেণি, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের এগিয়ে আসা জরুরি।

মানবকণ্ঠ/এইচকে

 





ads






Loading...