কাজে আসছে না বিচ্ছিন্ন লকডাউন

মানবকণ্ঠ
সম্পাদকীয় - মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • সম্পাদকীয়
  • ০৬ জুলাই ২০২০, ১৫:৩৮

কোনো মতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না করোনা। ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে। প্রথমদিকে এটা ঢাকাকেন্দ্রিক থাকলেও ঈদুল ফিতরের ছুটিতে যারা গ্রামে ঈদ করতে গেছেন তাদের মাধ্যমে করোনা বাইরের জেলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতি জেলা থেকে সংক্রমণ ও মৃত্যুর খবর আসছে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে দেশের সর্বোচ্চ সংক্রমিত এলাকাগুলোকে এখনো ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। মাত্র ১৯ জেলার ১১৮টি এলাকাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৪৫ এলাকা, চট্টগ্রামের ১১ এলাকা এবং বাকিগুলো অন্যান্য জেলায়। কিন্তু লকডাউনের সিদ্ধান্তের এক মাস চারদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো অধিকাংশ এলাকায় লকডাউন শুরু হয়নি। বিশেষ করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে পূর্বরাজাবাজারে লকডাউন শেষ হয়েছে ও গত শনিবার থেকে ওয়ারীতে শুরু হয়েছে। গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশ হয়েছে।

সরকারের এমন বিচ্ছিন্ন ও ধীরলয়ের লকডাউনে ‘কোনো কাজ হবে না’ বলে মত দিয়েছেন দেশের বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, একসঙ্গে সারা দেশের সব রেড জোনে লকডাউন শুরু করা না গেলে সংক্রমণ ঠেকানো যাবে না। এভাবে একসঙ্গে সব জায়গায় লকডাউন করা গেলে তিন-চার মাসের মধ্যে বাংলাদেশে সংক্রমণটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসত বলেও মনে করছেন তারা। পূর্বরাজাবাজার, মৌলভীবাজার, মানিকগঞ্জসহ হাতে গোনা কয়েকটি এলাকা ছাড়া বাকিগুলোতে লকডাউন অতটা কার্যকর করা যায়নি বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, বিচ্ছিন্নভাবে লকডাউন দেয়ায় এবং ঠিকমতো স্বাস্থ্যগত ব্যবস্থা না নেয়ায় এলাকাগুলোতে সংক্রমণের হার আগের মতোই রয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের একসঙ্গে সব জায়গায় লকডাউন করার পরিকল্পনা আপাতত নেই। বিশেষ করে ঢাকা শহরে এক এক এলাকা ধরে ধারাবাহিকভাবে লকডাউন দেয়া হবে। তবে ঢাকার বাইরের কিছু এলাকায় সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সেখানকার জন্য নতুন করে ম্যাপিং করা হচ্ছে।

ঢাকা শহরের বাইরে অন্য জেলাগুলোতে অবশ্য একসঙ্গেই কিছু এলাকা মিলে লকডাউন দেওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে। ঢাকা শহরে শতাধিক এলাকা রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই রেড জোনের নতুন ম্যাপিংও সম্পন্ন হয়েছে। এক কিলোমিটারেরও কম জায়গা নিয়ে একেকটি স্পট করা হয়েছে। এত এলাকায় একসঙ্গে লকডাউনে যাওয়া বিরাট প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্যগত প্রস্তুতি দরকার। সেটা সংকুলান করা যাচ্ছে না। ফলে একসঙ্গে লকডাউন হবে না এখানে। হলেও তা কাজে আসবে বলে মনে হয় না। 

জনগণের নিজেদের মনে করতে হবে এটা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য দরকার, তা না হলে কোনো লকডাউনে কাজ হবে না। সংক্রামক ব্যাধি হলে একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে, মাস্ক পরতে হবে, মানুষ এসব যখন নিজেদের মতো করে গ্রহণ করবে, তখন এভাবে জোরাজুরি করার প্রয়োজন হবে না। আইনের প্রয়োজন হবে না। তার পরও সরকার যে প্রস্তুতি নিয়েছে তা কতটা কার্যকর হয় তা দেখা দরকার। তবে যেকোনো মূল্যে করোনা নিয়ন্ত্রণ না হলে এই মহামারীকে রোধ করা কোনো মতেই সম্ভব হবে না। আর এজন্য লকডাউনকে কার্যকর করা জরুরি।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads






Loading...