প্রণোদনা প্যাকেজ নিয়ে কাড়াকাড়ি

মানবকণ্ঠ
সম্পাদকীয় - মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • সম্পাদকীয়
  • ০৪ জুলাই ২০২০, ১৩:৫৭

করোনা ভাইরাসের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন খাতের জন্য এক লাখ তিন হাজার কোটি টাকার বেশি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এর বেশিরভাগই ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারের সুদ ভর্তুকির আওতায় ব্যাংকগুলো নিজেদের মতো করে ঋণ দেবে। শিল্প ও সেবা এবং সিএমএসএমই খাতে ব্যাংকগুলো যে ঋণ দেবে তার অর্ধেক পুনঃঅর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তবে ঋণ আদায়সহ পুরো দায়ভার থাকবে ব্যাংকের ওপর। ব্যাংক এসব ঋণের বিপরীতে ৯ শতাংশ সুদ পাবে। তবে শিল্প ও সেবা খাতের সুদের অর্ধেক তথা সাড়ে ৪ শতাংশ ভর্তুকি দেবে সরকার। বাকি সাড়ে ৪ শতাংশ গ্রাহককে দিতে হবে। সিএমএসএমই খাতে সরকার ৫ শতাংশ সুদ ভর্তুকি দেবে। আর ৪ শতাংশ গ্রাহকের কাছ থেকে নিতে হবে। বড়দের তুলনায় ছোট গ্রাহকরা কম সুদে ঋণ পাবে। এ কারণে শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ঘোষিত ৩০ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে ঋণের জন্য কাড়াকাড়ি শুরু হয়েছে। গতকাল একাধিক দৈনিকে এ খবর প্রকাশ হয়েছে। বড় গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনায় বিভিন্ন ব্যাংক এরই মধ্যে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা ঋণ ছাড়ের অনাপত্তির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছে। তবে বিপরীত চিত্র কুটির, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) খাতের ঋণে। এ খাতের জন্য ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে ঋণ বিতরণ হচ্ছে না বললেই চলে। এখন পর্যন্ত মাত্র ২০০ কোটি টাকার ঋণ দিয়েছে ছয়টি ব্যাংক। ব্যাংকাররা বলছেন, এসএমই ঋণে আবেদন কম আসছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে ছোট উদ্যোক্তারা ব্যাংকে গিয়ে ঋণ পাচ্ছে না।

সিএমএসএমই খাতে প্রণোদনার ঋণ পাওয়ার সহযোগিতা চেয়ে এরই মধ্যে তিন শতাধিক উদ্যোক্তা ঢাকা চেম্বারের কাছে আবেদন করেছে। এসব আবেদন ব্যাংকগুলোতে পাঠাবে ডিসিসিআই। কোনো অসহযোগিতার খবর পেলে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করবে। সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য ঘোষিত প্যাকেজ বাস্তবায়নে কোনো কোনো ব্যাংক সহযোগিতা করছে না।

চলতি মূলধন সহায়তা ছাড়া এই মুহূর্তে ব্যবসা পরিচালনা করা সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য খুব কষ্টকর। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ঋণ পাচ্ছেন না- এমন প্রচুর অভিযোগ আসছিল। এ অবস্থায় ডিসিসিআই সদস্যদের সমস্যা সমাধানে আলাদা একটি ডেস্ক খোলা হয়েছে। যাদের ঋণ দরকার তারা সেখানে আবেদন করবেন। এরপর ডিসিসিআই থেকে ওইসব উদ্যোক্তার সব কাগজপত্র ঠিক করে ব্যাংকে পাঠানো হবে। এর পরও ব্যাংক শাখা যদি ঋণ না দেয়, তখন প্রধান কার্যালয়কে অবহিত করা হবে। তার পরও ঢিলেমি করলে তখন বাংলাদেশ ব্যাংককে জানানো হবে। ব্যাংক শুধু ব্যবসার জন্য নয়, গ্রাহকের সমস্যায় পাশে দাঁড়ানোও ব্যাংকের দায়িত্ব। সাধারণভাবে করপোরেট শাখা থেকে বড় ঋণ দেয়া হয়। যে কারণে এসব প্রস্তাব প্রধান কার্যালয়ে দ্রুত আসে।

আর বাইরের বা গ্রামীণ শাখা থেকে সিএমএসএমইর বেশিরভাগ ঋণ দেয়া হয়। যে কারণে ওই প্রস্তাব আসতে দেরি হয়। আবার বর্তমানে অনেক কর্মকর্তা অসুস্থ থাকায় হয়তো কিছু সমস্যা হচ্ছে। শিগগিরই পুরোদমে সব পর্যায়ের ঋণ কার্যক্রম শুরু হবে। তাছাড়া বাস্তব চিত্র হলো বড় ঋণ গ্রহীতা যেভাবে ব্যাংকের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে, ছোটরা তা পারে না। অনেক সময় বড়দের জন্য ব্যাংকের চেয়ারম্যান, প্রভাবশালী পরিচালক বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সুপারিশ করেন। ছোটদের জন্য সুপারিশ তো দূরে থাক, অনেক ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করা হয়। বিশেষ করে সব ঋণে ৯ শতাংশ সুদহারের সীমা ঠিক করে দেয়ার পর এসএমই খাতে বেশি নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক তৎপর না হলে ছোটদের ঋণ সুবিধা পাওয়া সম্ভব হবে না। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads






Loading...