বিসিএসে কোটা যুগের অবসান

মানবকণ্ঠ
সম্পাদকীয় - মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • সম্পাদকীয়
  • ০৩ জুলাই ২০২০, ১০:৩২

কোটা পদ্ধতির সংস্কার নিয়ে বেশ আগে থেকেই কথা চলে আসছিল। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (বিসিএস) অংশগ্রহণ করে দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীরা। সেখানে যদি কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় তাহলে মেধাবীদেরও যেমন মান ক্ষুণ্ণ হয় তেমনি কোটাও পূরণ হয় না। ফলে নির্ধারিত সংখ্যক বিসিএস ক্যাডার প্রতিবছর বঞ্চিত হন সিভিল সার্ভিসে যোগদান থেকে।

কারণ যতগুলো নির্ধারিত কোটা রয়েছে তা কোনো বছরই পূরণ হয় না। ফলে সিটগুলো খালি থেকে যায়। সে জন্যে প্রতি বছর বাংলাদেশে যতজন বিসিএস ক্যাডার নেয়ার টার্গেট থাকে সে টার্গেট পূরণ হয় না। সে সংকট থেকে মুক্ত হতেই বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) থেকে কোটা পদ্ধতির অবসান হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে স্থায়ীভাবে বিলুপ্ত হলো সরকারি চাকরিতে ৪৮ বছর ধরে চলা প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কোটা পদ্ধতি।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার প্রকাশিত ৩৮তম বিসিএসের ফলাফলে কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এর মাধ্যমে কোটা অধ্যায়ের সমাপ্তির মাধ্যমে মেধার যুগে প্রবেশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। গতকাল পত্রিকান্তরে এ খবর প্রকাশ হয়েছে। কোটার কারণে বিসিএসে মেধাবীরা উত্তীর্ণ হলেও একদিকে চাকরি পাননি, অন্যদিকে শত শত পদ শূন্য থাকত। পিএসসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া যাওয়ায় ২৮ থেকে ৩৮তম বিসিএসের বিভিন্ন ক্যাডারে অন্তত ৬ হাজার পদ খালি ছিল। এমনকি শুধু কোটার প্রার্থীদের নিয়োগের জন্য ৩২তম বিশেষ বিসিএস নেয়া হলেও ওই বিসিএসেও মুক্তিযোদ্ধা কোটার ৮১৭টি, মহিলা ১০টি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ২৯৮টিসহ মোট ১ হাজার ১২৫টি পদ শূন্য রাখতে হয়। কোটায় পদ পূরণ না হলেও তা সংরক্ষণ করে রাখার নিয়ম ছিল। তবে ৩২তম বিসিএসে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ খালি থাকায় কোটার শূন্য পদ সংরক্ষণ করে রাখা নিয়ে পিএসসিতে প্রশ্ন ওঠে। এরপর যোগ্যতা সাপেক্ষে পিএসসি ৩৩তম বিসিএস থেকে কোটা কিছুটা শিথিল করে। কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় ৩৩তম বিসিএসে ৭৭ দশমিক ৪০ শতাংশ, ৩৫তম বিসিএসে ৬৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং সর্বশেষ ৩৬তম বিসিএসে ৭০ দশমিক ৩৮ শতাংশ মেধাবী নিয়োগ পান। এই তিন বিসিএস থেকে ৭১ দশমিক ৭৫ শতাংশ মেধাবী নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হন। শুধু বিসিএস নয়, সরকারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও কোটার কারণে পদ শূন্য পড়ে থাকত।

কোটা বহালের কারণে বিগত ২৮ থেকে সর্বশেষ ৩৮তম বিসিএসে ৬ হাজার ক্যাডার পদ শূন্য পড়ে ছিল। এখন আর সে সংকট থাকছে না। আগামী ৪০তম বিসিএস থেকে শতভাগ মেধায় নিয়োগ দেবে পিএসসি। ২০১৮ সালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আন্দোলনের মুখে কোটা প্রথা বিলুপ্ত করে সরকার। কোটা সংরক্ষণ আন্দোলনের ফলাফল হিসাবে ৪০তম বিসিএসে সরকারের সর্বশেষ কোটা নীতি অনুসরণ করা হবে। ফলে কোটা নিয়ে সরকার যেভাবে সিদ্ধান্ত দেবে সেটা অনুসরণ করা হবে। মোদ্দা কথায়, ৪০তম বিসিএস থেকে কোটা থাকছে না।

স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭২ সালে এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত সিভিল সার্ভিসে ২০ শতাংশ পদ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের বিধান ছিল। কিন্তু কোটা সংকটে যে জটিলতা এত দিন ছিল তা মুক্ত করতে সরকার কোটা পদ্ধতি বাতিল করেছে। এখন মেধার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে বিসিএস ক্যাডার। প্রতি বছর কোটা পূরণ না হলে পদ খালি থাকবে না। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই।

মানবকণ্ঠ/এইচকে

 






ads