দুই সিটির অর্থ ও জনবল সঙ্কট কাটাতে উদ্যোগ নিন

মানবকণ্ঠ
সম্পাদকীয় - মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • সম্পাদকীয়
  • ১৬ মার্চ ২০২০, ১১:১৬

সমস্যা জর্জরিত ঢাকার অবস্থা দিন দিন আরো খারাপ হচ্ছে এমন অভিযোগ উঠেছে। এমনিতে বিশ্বের বসবাস অনুপযোগী নগরীর তালিকায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা অন্যতম। ধারণক্ষমতার অধিক মানুষের বসবাসের কারণে নগরীটি এখন নাগরিক বোঝায় ন্যুব্জ। এরপরও প্রতিনিয়ত মানুষ যোগ হচ্ছে। ঠাঁই নেই ঠাঁই নেই অবস্থা হলেও বাস্তবতা বুঝতে চাইছে না কেউ। জীবন ও জীবিকার টানে রাজধানীকে শেষ আশ্রয় হিসেবে মনে করছেন অধিকাংশ মানুষ। ফলে ভিড় কেবল বাড়ছেই। জনবহুল এ নগরটির সেবার মান বৃদ্ধি করার লক্ষ্য নিয়েই ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর দুই সিটি কর্পোরেশনকে বিভক্ত করা হয়েছে। তবে বর্তমানে চরম অর্থ ও জনবল সঙ্কট নিয়ে চলছে ঢাকার এ দুই সিটি কর্পোরেশন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সেবাবঞ্চিত হয়ে নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। ১৫ মার্চ দৈনিক মানবকণ্ঠে এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

নতুন দুই মেয়র এখনো দায়িত্ব বুঝে নেননি। নগরবাসীর প্রত্যাশা তারা নাগরিক চাহিদানুযায়ী নানা পদক্ষেপ নেবেন এবং অনেক সঙ্কটের আক্ষরিক অর্থেই সমাধান করতে সফল হবেন। তবে লোকবল ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা না থাকলে তা কী করে সম্ভব সেটি তাদের বিবেচনায় নেই। থাকার কথাও নয়। কারণ যখন কোনো প্রার্থী মেয়র নির্বাচনে অংশ নেন তারা জেনেশুনেই এ পথে এগোন। নির্বাচিত হওয়ার পর কোনো সঙ্কটের কথা জনগণ শুনতে চায় না। তাছাড়া এসব দায়িত্বশীলের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। এসব জনগণের জানার কথাও নয়। তারা দেখবে দায়িত্ব নিয়ে কে কতটা সফল হলো। লোকবল বা অর্থনৈতিক সঙ্কট থাকলে তা কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায় তা বের করতে হবে সংশ্লিষ্টদেরই। আমাদের দেশে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ কথা অস্বীকার করার জো নেই কিন্তু তা সত্ত্বেও বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ জন্য অর্থ বরাদ্দও থাকছে। সুতরাং প্রয়োজনটাকে সরকারের কাছে যথাযথভাবে উত্থাপন করতে হবে এবং এসব ক্ষেত্রে সরকার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে অবশ্যই।

আসছে বর্ষাকাল। নগরীর যত্রতত্র এখনো ময়লার ভাগাড় রয়েছে। পূর্বের তুলনায় যদিও অনেক কমেছে। তবুও কোনো দেশের রাজধানীর রাস্তায় গুরুত্বপূর্ণ অংশে প্রকাশ্যে ময়লার ভাগাড় থাকবে এবং এর দুর্গন্ধে জনগণের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হবে এটা সমর্থন করা যায় না। স্থান অভাবে অনেক ময়লার ভাগাড় উপযুক্ত স্থানে সরানো যাচ্ছে না এমন সাফাই সংশ্লিষ্টরা দিলেও এটিই কোনো যুক্তির কথা নয়। নাগরিক স্বস্তি আনতে হলে এবং এ ব্যাপারে আন্তরিক হলে সমাধান আনা কঠিন নয়। এখন থেকেই সতর্ক না হলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, ডেঙ্গুর প্রকোপ সীমা ছাড়াবে। তখন তা নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হবে। করোনা আতঙ্কে সারাদেশ এখন শঙ্কাযুক্ত। ভৌগোলিক অবস্থান ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে একটু সতর্ক থাকলেই এর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব কিন্তু এই ফাঁকে অন্যান্য জরুরি বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার জো নেই। ইতোমধ্যে মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নগরবাসী। রাতে তো বটেই দিনেও কোথাও কোথাও বসা যাচ্ছে না। ফলে করোনার ডামাডোলে ডেঙ্গু যাতে গেড়ে না বসতে পারে সেটি মনে রাখতে হবে।

নগরবাসীকে সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে কোনো সংশয় নেই কিন্তু সরকার সবখানে গিয়ে তা নিশ্চিত করবে না। তাই সেবাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেই তাদের প্রয়োজনীয়তা বুঝে নিতে হবে। অর্থ বা জনবল সঙ্কটে নাগরিক সেবা ব্যাহত হলে জনগণ তা ক্ষমা করবে না। তাই এ ব্যাপারে সবারই সতর্ক হওয়ার দরকার আছে। যে সব উদ্যোগে দুই সিটির সঙ্কট কাটানো সম্ভব সেসব উদ্যোগ নিতে হবে এখন থেকেই।

মানবকণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads






Loading...