পেঁয়াজের বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে হবে

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন
- সংগৃহীত

poisha bazar

  • মানবকণ্ঠ ডেস্ক
  • ১৫ মার্চ ২০২০, ০৯:১৭,  আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২০, ১৬:৪৫

এবার বছর জুড়ে পেঁয়াজের বাজার ছিল উত্তপ্ত। সরকারের নেয়া নানা কৌশল কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি পেঁয়াজের বাজার। ২৫-৩০ টাকার পেঁয়াজ ধাপে ধাপে উঠে ২৫০ টাকায় ঠেকেছিল। সেই পেঁয়াজ আবার ধাপে ধাপে নেমে ৪০ টাকায় এসে ঠেকেছে। এ কারণে বছরজুড়ে আলোচনায় থাকা পেঁয়াজ আবার সংবাদের শিরোনাম হয়েছে।

প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, ভারত পেঁয়াজের রফতানি বন্ধের আদেশ তুলে নেয়ার সুফল পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশের ক্রেতারা। গত তিন সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কমে তিন ভাগের এক ভাগে চলে এসেছে। রাজধানীতে ৪০ টাকাতেও মিলছে এক কেজি পেঁয়াজ। রাজধানীর রামপুরা, শান্তিনগর, মালিবাগ ও কারওয়ানবাজারসহ কয়েকটি বাজারে গিয়ে মানবকণ্ঠের প্রতিবেদক এমন তথ্য পেয়েছেন।

সার্বিকভাবে রাজধানীই ভোক্তাদের বড় বাজার। স্বাভাবিকভাবে ভোগ্যপণ্যের মজুত ও সরবরাহ রাজধানীতে থাকে বেশি। আর পণ্যের দর ওঠানামার বিষয়টি রাজধানীতে প্রভাবিত হয় বেশি। পেঁয়াজের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। বছরজুড়ে আলোচনার শীর্ষে থাকা পেঁয়াজের মূল্য যখন গ্রহণযোগ্য মাত্রায় চলে আসে, তখন আরো একবার ক্রেতাদের মনে আলোচনার ঝড় তোলে।

পেঁয়াজের মূল্য বেড়ে যাওয়ার কারণে এই বছর দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণি পেঁয়াজ না খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলে। মাছ-মাংস ছাড়া সাধারণত শাকসবজিতে অনেক আয়ের পরিবারই পেঁয়াজের ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছিল। এখনো যে সে অভ্যাস রয়ে যায়নি তা কিন্তু নয়।

ভারত পেঁয়াজের রফতানি একবারে কমিয়ে দেয়ায় দেশজুড়ে শুরু হয়েছিল সঙ্কট। এই সঙ্কটকালে দেশের অভ্যন্তরে গড়ে উঠেছিল একটি সিন্ডিকেট। শক্তিশালী এই সিন্ডিকেট রাতারাতি পেঁয়াজের মূল্য বাড়িয়ে দিতে তৎপর হয়ে যায়।

সরকার তখন কিছুতেই পেঁয়াজের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে পারছিল না। এ কারণে সমাজের একটা শ্রেণির পেঁয়াজের ব্যবহার কমে যাওয়াতে এর প্রভাব বাজারেও পড়েছিল। যদিও এই সব কৌশল বাজার স্বাভাবিক রাখতে কোনো কাজে আসেনি। বছরজুড়ে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্য থেকেই যায়।

প্রকাশিত আরেক সংবাদে বলা হয়েছে, আট হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি পেয়েছেন হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা। আজ থেকে দেশে এসব পেঁয়াজ আসা শুরু হবে। ভারত পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর ২৫ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি চেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রে আবেদন করেন হিলির পেঁয়াজ আমদানিকারকরা। এর মধ্যে ৮ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে।

এ সংবাদটিও পেঁয়াজের মূল্য ইতিবাচক ধারায় ফিরে আসার আরেকটি চিত্র। আমাদের দেশে পেঁয়াজের যে পরিমাণ চাহিদা, তা দেশের কৃষকরা উৎপাদন করতে পারেন না। যার ফলে এই ঘাটতি পূরণ করতে হয় আমদানি করে। আর নিকট প্রতিবেশী দেশ ভারতের উৎপাদন অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত হওয়ায় আমাদের দেশে রফতানি করা হয়। কিন্তু গত বছর প্রবল বন্যার কারণে তাদের দেশেই পেঁয়াজের উৎপাদন ঘাটতি তৈরি হয় যার ফলে তারা রফতানি কমাতে বাধ্য হয়। আর এই সঙ্কট আমাদের দেশের বাজারে বিপর্যয় ডেকে আনে।

নতুন করে পেঁয়াজ আমদানি করার সুযোগে দেশের বাজারে স্বস্তি নেমে আসবে-এটা স্বাভাবিক। তবে আমাদের চিন্তা করা উচিত, কী করে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন আরো বাড়িয়ে দেয়া যায়। দেশের কৃষকদের পেঁয়াজ উৎপাদনে কী করে আরো উদ্বুদ্ধ করা যায়। তাহলেই কেবল আসল স্থিতিশীলতা আসতে পারে পেঁয়াজের বাজারে।




Loading...
ads






Loading...