সর্বত্র উচ্চারিত হোক জয় বাংলা

মানবকণ্ঠ
সম্পাদকীয় - মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • সম্পাদকীয়
  • ১২ মার্চ ২০২০, ১৩:৩১

‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এই স্লোগানটিকে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা চেয়ে ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. বশির আহমেদের করা এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ১০ মার্চ রুল নিষ্পত্তি করে এই রায় দেন হাইকোর্ট। মুজিববর্ষ উদ্বোধনের কাছাকাছি সময়ে আদালতের এই আদেশ জনমনে বিশেষ অনুভূতির জন্ম দিতে সক্ষম হবে বলে বিশ্বাস করি। বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা শব্দগুলোর পাশাপাশি এই স্লোগানটি বাঙালি মাত্রই একটি আবেগের নাম। এই স্লোগান মুক্তিযুদ্ধকালীন দেশের আপামর জনগণকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছে, অনুপ্রাণিত করেছে, শক্তি যুগিয়েছে। মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছে, তেজদীপ্ত করেছে। সুতরাং ‘জয় বাংলা’ মাত্র দুটি শব্দ নয়। এর আবেদন, অবদান অসংখ্য শব্দের সমাহার।

সরকারের প্রতি ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা করার পাশাপাশি জাতীয় অনুষ্ঠান, সভা, সমাবেশে প্রত্যেকের বক্তব্যের শেষে জয় বাংলা বলারও নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাসেম্বলি শেষে জয় বাংলা বলার নির্দেশও দিয়েছেন। বাংলায় দেয়া রায়ের আদেশের অংশে আদালত বলেন, ‘আমরা ঘোষণা করছি যে, জয় বাংলা বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান হবে।’ আদেশে আরো বলা হয়, জাতীয় দিবসগুলোয় উপযুক্ত ক্ষেত্রে সাংবিধানিক

পদাধিকারী ও রাষ্ট্রীয় সব কর্মকর্তা সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্য শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান যাতে উচ্চারণ করেন, সে জন্য বিবাদীরা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। আদেশে আরো বলা হয়, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অ্যাসেম্বলি শেষে ছাত্র-শিক্ষকরা যাতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান উচ্চারণ করেন, সে জন্য বিবাদীরা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে আগামী তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে আফসোসের বিষয়, এ বিষয়ে আদালতকে আদেশ দিতে হলো। অথচ প্রাকৃতিকভাবেই বাংলার সব মানুষের হৃদয়ে স্লোগানটি গ্রথিত থাকার কথা।

কারণ দেশ মায়ের জন্য অকাতরে প্রাণ দিয়ে যারা আমাদের একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়ে গেছে তাদের রক্তের ঋণ রয়ে গেছে এই স্লোগানে। তাই হৃদয়ের গভীর থেকে প্রবল আবেগে এটি উচ্চারিত হওয়ার কথা। কিন্তু আমরা বড় অকৃতজ্ঞ জাতি। যে কারণে এই স্লোগানটিরও রাজনীতিকীকরণ করা হয়েছে, ধর্মীয় লেবাস পরানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু যারা এই অপচেষ্টা করেছে বা করছে তারা জানে না, দেশ মায়ের প্রশ্নে এদেশের মানুষ কখনো বিভ্রান্ত হয় না।

পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে এদেশে যে কয়টি শব্দ অলিখিতভাবে নিষিদ্ধের তালিকায় ছিল ‘জয় বাংলা’ তার মধ্যে অন্যতম একটি। একইসঙ্গে উচ্চারণ করা যেত না বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, নৌকাসহ মুক্তিযুদ্ধের আবেগের সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জাড়িত অনেক শব্দ। পাকিস্তানি প্রেমে মত্ত সেসব শাসক পকিস্তানি হানাদার, রাজাকার, আল বদর, আল শামস শব্দগুলো আড়াল করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করেছে যাতে এদেশের মানুষ ভুলে যায় মুক্তিযুদ্ধকালীন নৃশংসতা ও এর সঙ্গে জড়িতদের কথা।

স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি দ্বারা দীর্ঘ একুশ বছরের শাসনামলে মুক্তিযুদ্ধের অনেক ইতিহাসের বিকৃত উপস্থাপনা হয়েছে। চেষ্টা হয়েছে অনেক কিছু আড়াল করার। তবে ‘জয় বাংলা’ তার তেজদীপ্ত উচ্চারণে প্রজন্ম পরাম্পরায় দেশমাতৃকার প্রেমে বলীন করে রাখবে এই প্রত্যাশাই আমাদের। তবে এর জন্য প্রত্যেককে নিজ নিজ ভূমিকায় সক্রিয় থাকতে হবে যাতে আদালতের আদেশ যথাযথভাবে পালন করা সহজ হয়।

মানবকণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads






Loading...