করোনা: সার্বিক পরিস্থিতি আমলে রাখুন

মানবকণ্ঠ
সম্পাদকীয় - মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • সম্পাদকীয়
  • ১১ মার্চ ২০২০, ১০:৪৮

সাম্প্র্রতিককালের ভয়াবহ উদ্বেগের নাম ‘করোনা’। একশ’টিরও বেশি দেশ আক্রান্ত হলেও এতদিন সেখানে বাংলাদেশের নাম ছিল না। কিন্তু এখন বাংলাদেশও যুক্ত হয়েছে। তবে ইতালি ভ্রমণের পর দেশে ফিরে আসলে তাদের মধ্যেই করোনার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। তাদের থেকে আরো একজনের শরীরে তা সংক্রমণ হয়েছে। এরা তিনজনই ভালো আছেন। দ্রুত আরোগ্য লাভ করছেন। অন্যদিকে এই তিনজনের সংস্পর্শে এসেছেন সম্ভাব্য এ রকম চল্লিশজনকেও নজরে রাখা হয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে এদেশের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ঢুকে গেছে। বাজার থেকে হাওয়া হয়ে গেছে সেনিটাইজার, হেক্সোজল ও মাস্ক। যাদের কাছে ছিল তারা কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করেছেন।

আমাদের দেশে কিছু চরম অসৎ ও সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ী রয়েছেন যারা বিপদের সময়ে ব্যবসায়িক লাভালাভ খোঁজেন। যে কোনো মূল্যে তা আদায় করেও নেন। এ ক্ষেত্রে তারা কোনো ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের ধার ধারেন না। নিজেদের মধ্যে সামান্য নীতি নৈতিকতাও তারা অবশিষ্ট রাখেন না। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, এদেশে করোনা যদি ভয়াবহ থাবা বসাতে সমক্ষম হয় তবে এই সিন্ডিকেট গোষ্ঠী কাফনের কাপড়েরও উচ্চমূল্য নির্ধারণ করে দেবে। এ রকম নৃশংস সিদ্ধান্ত যে এরা নিতে পারে তা অসম্ভব কিছু নয়। সরকারের উচিত, সময় থাকতেই এদের অপতৎপরতা নিবৃত্তে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া। করোনার মতো একটি স্পর্শকাতর ইস্যুকে যারা ব্যবসায়িক মহোৎসব হিসেবে গ্রহণ করে তাদের প্রতি করুণা করার কোনো কারণ থাকতে পারে না।

নিঃসন্দেহে করোনা বিষয়ে উদ্বেগের কারণ আছে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। প্রয়োজন সতর্কতা, সচেতনতা। কিন্তু ইতোমধ্যে হুজুগে বাঙালি মরিয়া উঠেছে স্বার্থপরের মতো নিজেকে বাঁচাতে, নিজেকে রক্ষা করতে। এই সুযোগটিই নিচ্ছে অসৎ ব্যবসায়ীরা। করোনা শুধু যে প্রাণহানির জন্য শঙ্কার তা নয়। এর সঙ্গে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার বিষয়টিও রয়েছে। বাংলাদেশের এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বেই। সেসব বিষয় কিভাবে সামাল দেয়া যাবে তা নিয়ে ভাবতে হবে এখনই। দৈনিক মানবকণ্ঠের ১০ মার্চ সংখ্যায় ‘শেয়ার বাজারে ‘মহাধস’, ‘ধস নেমেছে এশিয়াসহ বিশ্ব এভিয়েশন শিল্পে’, ‘দেশে কর্মসংস্থান কমে যেতে পারে ৯ লাখ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে এসব করোনার নেতিবাচক প্রভাব বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সুতরাং এখানে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

শেয়ারবাজারে এ রকম ধস এর আগে কখনো ঘটেনি। করোনা আতঙ্কে দেশি-বিদেশি সব ধরনের বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়েছেন। বিমান খাতে যে স্থবিরতা শুরু হয়েছে তা আগামী বছর পর্যন্ত প্রভাব ফেলার শঙ্কাও রয়েছে। অন্যদিকে আমাদের দেশে বেকার সংখ্যা এমনিতেই হতাশাজনক। প্রতিনিয়ত শিক্ষিত, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়েও চাকরির বাজারে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করতে পারছে না। সেখানে আরো নয় লাখ বেকার যুক্ত হলে পরিস্থিতি কোথায় দাঁড়াবে তা অনুমান করা কঠিন নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমকে সর্বোচ্চ ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে যাতে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক না ছড়ায়, গুজবের ডালপালা বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি না হয়।

আক্রান্ত তিনজন বাংলাদেশে ছিলেন না। তারা ইতালি থেকে দেশে প্রবেশ করেছেন এবং তাদের মধ্যে করোনার সংক্রমণ পাওয়া গেছে, এই সংবাদটি ‘বাংলাদেশে তিনজন করোনা রোগী শণাক্ত’ বা এ ধরনের শিরোনাম যথাযথ নয়। এছাড়া নানা অনুমোদিত সূত্র যেভাবে পারছে এ সংক্রান্ত গুজব ছড়িয়ে দিচ্ছে। সরকার ও দায়িত্বশীল মহলের উচিত হবে, এসব বিষয়গুলো গভীর পর্যবেক্ষণে রাখা এবং তাৎক্ষণিক বার্তা দিয়ে দেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখা।

মানবকণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads






Loading...