মুজিববর্ষ নিয়ে বাড়াবাড়ি বন্ধ করুন

মানবকণ্ঠ
সম্পাদকীয় - মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • সম্পাদকীয়
  • ০৫ মার্চ ২০২০, ১৩:১৬

বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিন উপলক্ষে এ বছরকে মুজিববর্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন বছর শুরু হতেই চলছে ক্ষণগণনা। পরিকল্পনা অনুযায়ী বছরজুড়ে চলবে নানা অনুষ্ঠান। সেসব অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জীবনালেখ্য নানা আঙ্গিকে তুলে ধরা হবে। এতে নতুন প্রজন্ম যারা বেড়ে উঠছে তারা মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধুর অবদান, ভূমিকা সম্পর্কে বিশদ জানতে পারবে। তাদের মধ্যে দেশপ্রেমের বীজ রোপিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার করে বলছেন মুজিববর্ষ উপলক্ষে যেন কোনো রকম বাড়াবাড়ির আশ্রয় নেয়া না হয়।

এমনকি যেন কোনো চাঁদাবাজি না হয় সেটি সম্পর্কেও সতর্ক করেছেন। মুজিববর্ষ পালন মানে সব স্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। সেই অংশগ্রহণ হবে স্বপ্রনোদিত, স্বেচ্ছায়। কারো ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দিয়ে আন্তরিকতা বা শ্রদ্ধা আদায় করা যায় না। এই সহজ সত্যটি দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীলরা জানেন না এমন হওয়ার নয়। কিন্তু তারা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে, চিঠি পাঠিয়ে এমনকি বাড়ি বাড়ি গিয়ে সড়কের পাশে যেসব বাড়ি রয়েছে তাদের রং ও সংস্কারের তাগাদা দিচ্ছে। এটি হতে পারে না। এর মাধ্যমে তারা হয়তো বঙ্গবন্ধুর প্রতি তাদের অতিভক্তি প্রদর্শন করে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি পেতে চাইছে। কিন্তু তারা ভুলে গেছেন, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বাড়াবাড়ি না করার নির্দেশ দিয়েছেন।

মুজিববর্ষ পালনে বাড়িঘর রং করা ও সংস্কার করার কোনো যুক্তি নেই। তাও আবার সড়কের সম্মুখ সারিরে বাড়িগুলোতে। যদি কেউ করে তবে তা নিজ প্রয়োজনে। প্রশাসনের নির্দেশে করতে বাধ্য নয়। কারণ অনেক বাড়ি হয়তো কিছুদিন আগেই রং করা হয়েছে বা সংস্কার করার মতো ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তাহলে বাড়ির মালিকদের ওপর এই দায় চাপিয়ে দেয়া কেন? বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা, ভক্তি, ভালোবাসা প্রদর্শন মানে জন হয়রানি বৃদ্ধি নয়। স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ দ্বারা রং করতে বাধ্য করার ঘটনা খুব বিরল। যদিও এর আগে ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ চলার সময় যানবাহন ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সব বাড়িতে নতুন রং করার নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। সে সময় বলা হয়েছিল, গাড়িতে রং করা না হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করবে।

আর বাড়িতে রং করা না হলে সিটি কর্পোরেশন রং করে দেবে, তবে খরচ বহন করতে হবে বাড়ির মালিককে। যদিও সংশ্লিষ্টরা বলছেন স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯-এ এ ধরনের ক্ষমতা দেয়া রয়েছে। নগরের সৌন্দর্য রক্ষায় কর্পোরেশন ভবন মালিকদের চুনকাম ও মেরামত করার নির্দেশ দিতে পারেন। স্থানীয় সরকার আইনে আছে যে, যদি কোনো ভবন বিপজ্জনক হয়, জনজীবনের জন্য হুমকি হয়, ক্ষতিকর মনে হয়, তাহলে সেটার সংস্কার করার জন্য তারা আদেশ দিতে পারবে।

কিন্তু শুধু সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য বাড়ির মালিকদের রং করতে, সংস্কার করতে বাধ্য করার নজির বাংলাদেশে নেই। কর্পোরেশন অনুরোধ করতে পারে, কিন্তু বাধ্য করতে পারে না। উন্নত দেশগুলোয় ভবনের নকশা অনুমোদন থেকে সবকিছুই সিটি কর্পোরেশন করে। ফলে তারা ভবন সংক্রান্ত অনেক আদেশ দিতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে তো এই কাজটি বিভিন্ন সংস্থা আলাদাভাবে করে। আমরা মনে করি, নগরে সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিতে কর্পোরেশনের আরো অনেককিছু করণীয় রয়েছে। সেসব দিকে তারা নজর দিক। জনহয়রানি বাড়িয়ে সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিতে বাধ্য করার উদ্যোগ মুজিববর্ষের মূল উদ্দেশ্যকেই বরং ম্লান করবে।

মানবকণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads






Loading...