সৌদি শ্রমবাজারে নজর দিন

মানবকণ্ঠ
সৌদি শ্রমবাজারে নজর দিন

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৪ মার্চ ২০২০, ১২:০০

প্রবাসে যারা শ্রম বিনিয়োগে যেতে চান তাদের অনেকেরই আগ্রহ রয়েছে সৌদি আরবের দিকে। কারণ এটি একটি মুসলিম ও আধুনিক রাষ্ট্র এবং সরকারের সঙ্গে সৌদির সম্পর্কও বেশ ভালো। অন্তত আমরা সেটাই জানি। এছাড়া উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশি নাগরিক সে দেশে কাজ করে। ফলে নতুন করে যারা যায় বা যেতে আগ্রহী তারা দেশ ছাড়লেও সেখানে গিয়ে দেশি মানুষের সাক্ষাৎ পাবে এবং বিপদে-আপদে তারা এগিয়ে আসবে এই ভাবনাটিও কাজ করে। কিন্তু বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য সৌদি আরবের শ্রমবাজার দিন দিন ছোট হয়ে আসছে।

সৌদি সরকার আরোপিত অস্বাভাবিক কর প্রদান, আকামা নবায়নের খরচ বৃদ্ধি, শ্রমিকের বেতন কমে যাওয়া, প্রত্যাশিত কাজ না পাওয়া, পুলিশের ধরপাকড় আতঙ্ক- সর্বোপরি দেশটির অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। উদ্ভ‚ত পরিস্থিতিতে দেশে ফিরে আসার সংখ্যাও বেড়েই চলেছে। অনেকে পলাতক জীবনযাপন করছেন। কেউবা পরিবারের সদস্যদের দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। এছাড়া সেখানকার পরিবর্তিত রাষ্ট্রীয় নীতি এবং কর্মক্ষেত্রে অটোমেশনের (স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতির ব্যবহার) কারণে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এই শ্রমবাজারের দ্বারও হচ্ছে সঙ্কুচিত। বর্তমানে ক্লিনার ও গৃহকর্মীর ভিসা ছাড়া অন্য পেশায় সৌদি আরবে কাজের সুযোগ নেই বললেই চলে। ফ্রি ভিসার নামে দালালদের খপ্পরে পড়ে কিছু লোক সৌদি আরব গেলেও কাজ না পাওয়া এবং অবৈধভাবে কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়ায় দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। গৃহকর্মী হিসেবে যাওয়া নারী শ্রমিকরা সেখানে নানা নির্যাতনের শিকার হওয়ায় অনেকে দেশে ফিরে আসার খবরে এই পেশায়ও গমনের হার অনেক কমে গেছে।

প্রবাসীরা শুধু তাদের পরিবারের জন্যই সেখানে কাজ করছেন তা নয়। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশীয় অর্থনীতির জন্যও একটি বড় নিয়ামক শক্তি। দেশের নানা সংকটে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে, করেছে এমন উদাহরণ কম নেই। তা সত্তে¡ও যেসব কারণে সৌদি শ্রম বাজারটি সঙ্কুচিত হয়ে আসছে তা পর্যবেক্ষণ করা এবং সে অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। অনেক এজেন্সির প্রতারণার কারণে অনেক সৌদি প্রবাসী বিদেশের মাটিতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন। তারা না পারেন খরচের টাকা তুলতে, পরিবারের কাছে টাকা পাঠাতে আবার সব ফেলে দেশে ঠিরে আসতে। এসব এজেন্সিকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই। অসহায় মানুষদের অর্থ আত্মসাৎ করে তাদের বিপদে ফেলার মতো অপরাধ যারা করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নিলে বারবার একই ধরনের অপরাধ তারা করতেই থাকবে। এটি হতে পারে না। যারা এ ধরনের প্রতারণা করে তারা এদেশেরই নাগরিক।

সুতরাং এদের চিহ্নিত করা এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া কঠিন কিছু নয়। কিন্তু এমনটি হতে দেখা যায় না। এটি দুঃখজনক। সৌদি আরবসহ বিশ্বে যে কোনো দেশে গমন করতে হলে সরকারি তদারকিতে যাওয়াটাই উচিত। এতে সরকারের নজরদারিতে থাকা যায় এবং সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে। সৌদি সরকারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো। তা সত্তে¡ও কেন তারা এদেশের শ্রমিকদের ওপর অমানবিক হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা দরকার। যেহেতু সৌদি সরকার দক্ষ শ্রমিকের ওপর জোর দিচ্ছে। তাই যারা সে দেশে যাবেন এবং যারা পাঠাবেন তারা সেভাবে প্রশিক্ষণ নিয়ে গেলে পরিস্থিতি অনুক‚লেই থাকবে বলে মনে করি।




Loading...
ads






Loading...