মশা নিধন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে হবে

মশা নিধন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে হবে
মশা নিধন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে হবে

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০১ মার্চ ২০২০, ১১:১৮

মেগা সিটি ঢাকাবাসীর কাছে সিটি কর্পোরেশনের দায়বদ্ধতা অনেক। নাগরিকসেবা ও দায়বদ্ধতা নিয়েই প্রতিষ্ঠানটির সৃষ্টি। স্বাভাবিকভাবে এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জনশক্তিও এই দায়বদ্ধতার আওতামুক্ত নয়। বরং বলা যায়, কর্মসূত্রে আবদ্ধ এই প্রতিষ্ঠানের সব স্তরের কর্মী নাগরিকদের কাছে দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবেই নিয়োজিত। তাদের কোনো অংশের কাজে অবহেলার কারণে যদি নাগরিক ভোগান্তি চরমে ওঠে, তাহলে এর সব দায় কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায়।

মানবকণ্ঠে প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই ডিএনসিসিতে কেনা হয়েছে জার্মানির তৈরি ২০০ ফগার মেশিন ও পাঁচটি ভেহিক্যাল মাউন্টেন্ড ফগার মেশিন। কিন্তু মেশিনগুলো সফলভাবে ব্যবহার করতে পারছে না ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা। মেশিনগুলো চালুর পর আগুন ধরে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। যার ফলে ব্যয় করা চার কোটি ৫০ লাখ টাকা গচ্চা যাচ্ছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, নাগরিকদের সেবার জন্য কেনা হলো মশক নিধন মেশিন। সেই মেশিন যদি কাজ না করে তাহলে নাগরিক জীবন যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠবে-এটা অস্বাভাবিক নয়। এখানে অর্থ তো গচ্চা গেলই, সেই সঙ্গে নাগরিক সেবার মানও নিচে নেমে গেল। এই দায় সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে কি?

সচেতন নাগরিকরা কম-বেশি সবাই জানেন, সরকারি হোক আর স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানই, হোক বড় বড় ক্রয়ের ক্ষেত্রে যাবতীয় দায় তাদের ওপর বর্তায়, যদি কর্তব্যে নিয়োজিতরা স্বচ্ছভাবে দায়িত্ব পালন না করেন, কৌশলের আশ্রয় নিয়ে কেনাকাটায় দুর্নীতি করেন, অধিক মূল্য দেখিয়ে নি¤œমানের সামগ্রী ক্রয়ে সহায়তা করেন, একপর্যায়ে সব টাকাই গচ্চা যায়। ফগার মেশিন কেনার ক্ষেত্রে অনেকটাই তা-ই হয়েছে বলে ধারণা অনেকের। তা না হলে আগে থেকে প্রচলিত মেশিন বাদ দিয়ে কেন নতুন ধরনের মেশিন কেনা হলো?

গত মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ব্যাপক ছিল। এ কারণে জরুরি ভিত্তিতে কিছু মশা নিধন যন্ত্রপাতি কেনা হয়। এজন্য কোনো টেন্ডার আহŸান করা হয়নি। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়েই পুরো কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বিষয়টা না হয় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সঠিক ছিল। তাই বলে কি নি¤œমানের দ্রব্য ক্রয় করতে হবে?

গত বছর ডেঙ্গু মৌসুমে ৫০ কোটি টাকার মশা নিধনের ওষুধ ক্রয়ের কথা গণমাধ্যমে বেশ চাউর হয়েছিল। সিটিতে সর্বত্রই ওষুধ ছিটানোর পর সন্তোষজনক মশা নিধন করা যায়নি। বরং এই সুযোগে মশার উপদ্রব আরো বৃদ্ধি পেয়েছিল। ডেঙ্গু মশার প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক মাত্রায় বেড়ে গিয়েছিল। এই জনদুর্ভোগের জন্য তখন নি¤œমানের ওষুধকে দায়ী করা হয়েছিল। মশা মারার ওষুধ কেনা এবং মেশিন কেনা নিয়ে এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে নাগরিক জীবনের সুরক্ষা হবে কি করে?

শহর জীবনের অনেক সমস্যার মধ্যে মশার উপদ্রব এক প্রধান সমস্যা। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে মশা নির্মূলের সবটুকু দায়িত্ব পালন করাও সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে অনেক প্রাইভেট কোম্পানি মশা মারার সামগ্রী বাজারে সরবরাহ করে। সাধারণ নাগরিকরা খোলা বাজার থেকে এই সব সামগ্রী সংগ্রহ করে মশা নিয়ন্ত্রণ করে। মশা নিধনের ব্যর্থতার পেছনে নাকি সিটি কর্পোরেশনের অনেক কর্তাব্যক্তির সঙ্গে কিছু কোম্পানির গোপন যোগসূত্র ও লেনদেন রয়েছে। এমন ধারণা সচেতন নাগরিকদের একটা অংশের।

কারণ আর যা-ই হোক, মশা মারার ব্যর্থতার দায় কিন্তু সিটি কর্পোরেশন কিছুতেই এড়িয়ে যেতে পারে না। মশা নিধনের মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কখনোই অবহেলা করাও উচিত নয়। মশা মারার মেশিন কেনাই হোক আর ওষুধ কেনাই হোক-সবক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সঠিক তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।




Loading...
ads






Loading...