বঙ্গোপসাগরে মাছ রক্ষায় উদ্যোগ নিন

মানবকণ্ঠ
দৈনিক মানবকণ্ঠ - ছবি : সংগৃহীত

poisha bazar

  • মানবকণ্ঠ ডেস্ক
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০১:০১

মাছে-ভাতে বাঙালির পাতে মাছ না থাকলে তা বিপদের কথাই বটে। যদিও উচ্চমূল্যের কারণে দেশি অনেক মাছ পাতে তোলা সবার জন্য সহজ নয়। তবুও অন্তত সাগরের মাছ তুলনামূলক কম দাম হওয়ায় মাছের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়। কিন্তু সাগরে যদি মাছের অভাব হয় বা সাগর মাছশূন্য হয়ে পড়ার শঙ্কা প্রবল হয় তবে তা উদ্বেগেরই কারণ।

১৬ ফেব্রুয়ারি দৈনিক মানবকণ্ঠে প্রকাশিত একটি সংবাদে নির্বিচারে সামুদ্রিক মাছ শিকার এবং অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধ মাছ ধরা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগর মৎস্যশূন্য হয়ে যেতে পারে-এমন শঙ্কা করা হয়েছে। সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা ও জরিপের মাধ্যমে এ মূল্যায়ন করছেন গবেষকরা।

আমিষের প্রধান জোগানদাতা হচ্ছে মাছ। গভীর সমুদ্রে নানা ধরনের মাছ শিকার করে সেই চাহিদা পূরণ করতে সহায়তা করেন জেলেরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা বছরের পর বছর আমিষের চাহিদা পূরণে ভ‚মিকা রেখে যাচ্ছেন। এর সঙ্গে তাদের জীবন ও জীবিকার সম্পর্কও জড়িত। কিন্তু সমুদ্রের বুকে কী পরিমাণ মাছ রয়েছে বা কী পরিমাণ মাছ শিকার করা যাবে বা কোন মৌসুমে কোন ধরনের মাছ শিকার বন্ধ রাখতে হবে তা তারা জানেন না। ফলে সারাবছরই নির্বিচারে সব ধরনের মাছ তারা শিকার করেন।

বঙ্গোপসাগরে মাছ কমে যাওয়ার এটি একটি কারণ। আবার বড় ধরনের যে ট্রলারগুলো গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যায় তারা জালে আটকে পড়া সব মাছ আনেন না। বাজারের চাহিদার কথা মাথায় রেখে বা যে সব মাছের ভালো দাম পাওয়া যাবে সেগুলোই শুধু বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসেন। বাকিগুলো জালে আটকা পড়ে অকালে প্রাণ হারায়।

এছাড়া সমুদ্রে মাছ শিকারে ব্যবহৃত জালের একটি নির্দিষ্ট মাপ রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই মাপের জাল ব্যবহার করা হয় না। ফলে ছোট বড় মাঝারি সব ধরনের মাছ জালে আটকা পড়ে। এতে ছোট মাছ, মা মাছও প্রাণ হারায়। এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে। কী পরিমাণ মাছ বঙ্গোপসাগরে রয়েছে এবং এর বিপরীতে কী পরিমাণ মাছ শিকার করা যাবে সে সম্পর্কে কোনো ধারণা বা বার্তা না থাকায় জেলেরা নিজেদের ইচ্ছামতো মাছ শিকার করে যাচ্ছে।

ফলে মা মাছ নতুন করে মাছের বংশ বৃদ্ধি করতে পারছে না। সে ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল সব মহলকে উদ্যোগী হতে হবে। যারা সমুদ্রে মাছ নিয়ে গবেষণা করেন তাদের সঠিক তথ্যটি সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করতে হবে। অন্যদিকে সরকারকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। কারণ এর সঙ্গে জাতির আমিষের চাহিদা পূরণ এবং একটি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জীবিকার প্রশ্ন জড়িয়ে আছে।

সুতরাং বিষয়টি হেলা করার নয়। অভিযোগ রয়েছে, দক্ষিণ দিকে সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ অংশে মিয়ানমার এবং পশ্চিমে চালনার দিকে ভারতীয় জাহাজ প্রায়ই অবৈধ মাছ শিকার করে। অনেক সময় একাধিক জাহাজ নিয়ে মিয়ানমার ও ভারতীয় জাহাজ সাগরে মাছ ধরতে আসে বলেও স্থানীয় জেলেদের নজরে পড়েছে।

যে কারণে বাংলাদেশের লাক্ষা মাছের মতো অন্যতম প্রধান অর্থকরী ও মূল্যবান মাছ মারাত্মকভাবে আহরিত হয়ে প্রায় নিঃশেষ হওয়ার পথে। মাত্রাতিরিক্ত আহরণের ফলে পৃথিবীর অন্যান্য সমুদ্রের যেমন গালফ অফ থাইল্যান্ড অনেকটা মৎস্যশূন্য হয়ে গেছে। আমরা চাই না আমাদের বে অফ বেঙ্গল সেরকম মৎস্যশূন্য হয়ে যাক।

সে ক্ষেত্রে সম্মিলিত উদ্যোগ ও সচেতনতার বিকল্প নেই। সরকার, প্রশাসন, জেলে এবং কোস্টগার্ডদের সমন্বিত সতর্কতা, উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে কার্যকরী ফল বয়ে আনতে পারে। এছাড়া প্রজনন সময় চিহ্নিত করে সে সময় নির্দিষ্ট জাতের মাছ ধরা বন্ধ রাখতে হবে। জেলেরা সঠিক মাপের জাল ব্যবহার করছে কিনা, না করলে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। অবৈধ মাছ শিকারিদের বিরুদ্ধেও কঠোরতা জরুরি হয়ে পড়েছে। যে কোনো মূল্যে সাগরে মৎস্য সম্পদ রক্ষার উদ্যোগ নিতেই হবে।




Loading...
ads






Loading...