রাজধানীর বায়ুদূষণ রোধ করতে হবে

মানবকণ্ঠ
সম্পাদকীয় - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • সম্পাদকীয়
  • ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:৫৩

এই পৃথিবীর ভূ-ভাগ অক্সিজেনে ভরা। বায়ু বলতে আমরা এই অক্সিজেনকে বুঝি। শুধু মানুষ নয়, সমস্ত প্রাণিকুল বায়ুর সমুদ্রে সাঁতার কাটছে। আমাদের প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসে বায়ুপ্রবাহের সঙ্গে অক্সিজেন ঢুকছে। এই অক্সিজেন বাঁচিয়ে রাখে জীবন। বিশুদ্ধ বায়ু না হলে প্রাণিকুলের বেঁচে থাকা দুরূহ। এই বায়ু যদি দূষিত হয়ে যায়, তাহলে সমস্ত প্রাণিকুলের সুস্থভাবে বেঁচে থাকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

বিবিসির উদ্ধৃতি দিয়ে মানবকণ্ঠে প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়েছে, বায়ুদূষণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায়। এর মধ্যে ভারতের দিল্লি, বাংলাদেশের ঢাকা, আফগানিস্তানের কাবুল বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর। দিল্লির বাতাসে প্রতিঘন মিটারে সূক্ষ্ম বস্তুকণার (পার্টিকেল ম্যাটার বা পিএম-২.৫) পরিমাণ ১১৩.৫, ঢাকায় ৯৭.১ আর কাবুলে ৬১.১, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই হুমকিস্বরূপ। কারণ, প্রতি ঘনমিটারে পিএমের স্বাভাবিক মাত্রা ১ থেকে ১২ পর্যন্ত।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক দূষণ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউ এয়ারভিজুয়্যালের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসি এ তথ্য প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ৩০টি শহরের মধ্যে ২২টি ভারতের। বাকি ৮টি শহর পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও চীনে অবস্থিত। আর দেশের দিক থেকে বিশ্বে বায়ুদূষণে বাংলাদেশ প্রথম স্থানে আছে।

আমাদের রাজধানী শহর ঢাকা বায়ুদূষণের কারণে অনেক আগে থেকে আলোচনায় আছে। বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ, সিসার উপস্থিতি ও অন্যান্য ক্ষতিকারক উপাদান এত বেশি মাত্রায় যে, মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য এই শহরের বাতাস ক্রমেই অনুপযুক্ত হয়ে পড়ছে।

এই শহরের হাজারীবাগ এলাকার একটি নির্দিষ্ট জায়গা চামড়াশিল্পের আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছেছিল। বিশ্বের দূষিত ১০টি জায়গার মধ্যে তালিকায় এই হাজারীবাগের নাম উঠে আসে। প্রায় ২০০ চামড়া কারখানার আবর্জনা এখানে জমা হতো। আবার এই চামড়াশিল্পের তরল বর্জ্য সরাসরি গিয়ে পড়ত রাজধানীঘেঁষা নদী বুড়িগঙ্গায়। চামড়া প্রক্রিয়াকরণের ফলে বায়ুদূষণ ও পানিদূষণ বাড়তি মাত্রা যোগ করত এই নগরীর আবহাওয়ায়। নদীঘেঁষা যে নগরীর বাতাস সতেজ ও স্বাস্থ্যকর হওয়ার কথা, সেখানে শিল্প-কারখানাসহ নানা কারণ দিনের পর দিন নগরীর বাতাসকে নিয়ে গেছে দূষিত মাত্রার নিম্ন পর্যায়ে। যদিও সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপে চামড়াশিল্পকে নগরীর বাইরে নেয়া হয়েছে। তার পরও বুড়িগঙ্গা নদীর পানি এবং মহানগরীর একাংশ হাজারীবাগের পরিবেশ এখনো বিশুদ্ধ মাত্রায় আসতে পারেনি।

এই নগরীর বাতাস দূষিত হওয়ার অনেক কারণের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, ঘনবসতি, মাত্রাতিরিক্ত আবাসন নির্মাণকাজ এবং জন চাহিদার কারণে অধিক যানবাহনের চলাচল। প্রধানত এসব কারণে বাতাতে ধূলিকণার মাত্রা বাড়ছে। ‘শহর হবে গ্রাম’, ‘একটি বাড়ি একটি খামার’, এমন সব গ্রামমুখী প্রকল্পের মাধ্যমে শহরমুখী কর্মসন্ধানী জনস্রোতকে পুনরায় গ্রামমুখী করার কথা এখন থেকে ভাবতে হবে। তাছাড়া পরিকল্পিত নগরায়নের কথা ভাবতে হবে, পাশাপাশি মহানগরীর ভেতরের শিল্প-কারখানাগুলো বাইরে নেয়ার পরিকল্পনাও হাতে নিতে হবে। এতে করে নগরীর বাতাসে দূষণের মাত্রা কমে আসতে পারে।

প্রধানত কী কী কারণে নগরীর বায়ু ভয়াবহ দূষণে আক্রান্ত, তা অবশ্য ওই সংবাদে বলা হয়নি। তবে দক্ষিণ এশিয়ায় যেহেতু বায়ু দূষণের তালিকায় ঢাকার নাম উঠে এসেছে, সেহেতু কী কী কারণে বায়ু দূষিত হচ্ছে তা উদ্ঘাটনে নিজস্ব গবেষণা থাকা দরকার এবং সেই অনুযায়ী শহরের বায়ুর বিশুদ্ধতা নিশ্চিতকরণে বহুমুখী পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবা যেতে পারে। দেশে পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রণালয় আছে, পরিবেশবাদী নানা সংগঠনও পরিবেশবিষয়ক নানা গবেষণা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়ে থাকে। বায়ুদূষণের বিষয়ে সব মহলকে ভাবতে হবে কী করে এ অবস্থার উত্তরণ ঘটানো যায়।

ঢাকার বায়ুদূষণের এই মাত্রাকে আর অবহেলা করার সুযোগ নেই। জনস্বাস্থ্যের হুমকিস্বরূপ এই দূষণমাত্রাকে প্রতিরোধে এখনই এগিয়ে আসতে হবে। আমরা আশা করি, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি ভেবে দেখবে।

মানবকণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads





Loading...