কারাগারগুলোয় চিকিৎসক সঙ্কট

মানবকণ্ঠ
সম্পাদকীয় - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • সম্পাদকীয়
  • ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ১০:১৯

চিকিৎসা সব মানুষের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু নানা সীমাবদ্ধতার কারণে রাষ্ট্রের পক্ষে সব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুনিশ্চিত করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। ক্ষেত্রবিশেষে সঙ্কট থেকেই যায়। তার পরও দেশের হাসপাতালগুলো সঙ্কটের মাঝে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণযোগ্য মাত্রায় দিয়ে যাচ্ছে। তবে দেশের কারাগারগুলোয় বন্দিদের চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে যে সঙ্কট চলছে, এই সঙ্কটকে শুধু সঙ্কট বলে অভিহিত করলে তা পূর্ণতা পায় না, এই সঙ্কটকে বলতে হবে মাত্রাবিহীন তীব্র সঙ্কট।

মানবকণ্ঠে প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়েছে, ‘দেশের কারাগারগুলোতে কারা-চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ১৪১টি। এর বিপরীতে কর্মরত চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র ১০ জন। অন্যদিকে সারাদেশের কারাগারগুলোর বন্দি ধারণক্ষমতা ৪০ হাজার ৬৬৪ জন। তবে ওই পরিসরে বন্দি আছে ৮৬ হাজার ৯৯৮ জন। কারা অধিদফতরের পক্ষে আদালতে দাখিল করা এক প্রতিবেদনে এ সব তথ্য উঠে এসেছে।

এক কথায়, দেশের কারাগারগুলোতে চিকিৎসক সঙ্কট চরমে। যেখানে কারাগারগুলোতে ৪০ হাজার ৬৬৪ বন্দির বিপরীতে চিকিৎসক থাকার কথা ১৪১ জন, সেখানে বন্দির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৮৬ হাজার ৯৯৮ জন। এই মাত্রা ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি। সেই হিসেবে চিকিৎসকের পদ থাকা উচিত দ্বিগুণ অর্থাৎ ২৮২ জনের বেশি। ভাববার বিষয়, সেখানে মাত্র ১০ জন চিকিৎসক দিয়ে ২৮২ জন চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন কিভাবে সম্ভব? এ কারণে সবার অগোচরে দেশের কারাগারগুলোয় চিকিৎসা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে চলছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ।

দেশের বন্দিদের আবাসন সঙ্কটের কারণে স্বল্প পরিসরে অনেক বন্দিকে কারাগারগুলোয় গাদাগাদি করে থাকতে হয়। পান-আহার থেকে শুরু করে, গোসল ও শৌচাগারের কাজ, সবই করতে হয় সিরিয়াল মেনে। উপযুক্ত পরিবেশে রাতের ঘুম ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবে বন্দিদের অহরহ স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি হচ্ছে। যেন বিচার হওয়ার আগে আরেক অবিচার, রায় হওয়ার আগে আরেক শাস্তি।

সঙ্কীর্ণ আবাসে অধিক মানুষের অবস্থান পরিবেশকে অতি মাত্রায় দূষিত করে তোলে। যার ফলে কারাগারগুলোয় রোগ-ব্যাধির মাত্রা আশঙ্কাজন হারে বেড়ে যায়। ঠিক এই পরিস্থিতিতে অল্পসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে কারাবন্দিদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা কখনোই সম্ভব নয়। বন্দিদের এত বড় একটা সমস্যা তার পরও দিনের পর দিন কর্তৃপক্ষের অগোচরে রয়ে যাচ্ছে।

কারাবন্দিদের উপযুক্ত চিকিৎসা পাওয়া নাগরিক অধিকার। এটা এক ধরনের মানবিক অধিকারও বটে। এই অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। যারা বন্দি, তাদের সরকারের দেয়া চিকিৎসা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ নেই। নিরুপায় এই মানুষগুলোকে তাই বাধ্য হয়ে রোগ-ব্যাধি নিয়েই জীবন কাটাতে হয়। দিনের পর দিন কারাবন্দিরা তাদের এই মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষ উদাসীন হয়ে থাকবে, তা হতে পারে না। এতে বন্দি মানুষগুলোর প্রতি একধরনের অবহেলা করা হয়।

কারাগারে চিকিৎসক সঙ্কট নিঃসন্দেহে বন্দিদের জন্য একটি বড় সমস্যা। এত অল্প সংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে এত অধিক সংখ্যক বন্দির স্বাস্থ্য সুরক্ষা করা মোটেই সম্ভব নয়। আমরা মনে করি, এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিতে সরকারের দ্রুত নজর দেয়া দরকার। দূর করা দরকার চলমান এই চিকিৎসক সঙ্কট।

মানবকণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads





Loading...