দৃষ্টিশক্তি হ্রাস প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই

মানবকণ্ঠ
সম্পাদকীয় - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • সম্পাদকীয়
  • ০৬ নভেম্বর ২০১৯, ১০:২০

চোখ অমূল্য এক সম্পদ। সৃষ্টিকর্তার অশেষ নেয়ামত। অর্থকড়ি, ধন সম্পদ সবই বিফলে যাবে যদি দৃষ্টিশক্তি ঠিক না থাকে। এর অভাবে বা স্বল্পতায় দৈনন্দিন জীবনযাপন, কর্মসম্পাদনসহ প্রতি পদক্ষেপে বিড়ম্বনার শিকার হতে হবে। যদিও দৃষ্টিহীনদের জন্য বর্তমানে সর্বাধুনিক চিকিৎসা ও ব্যবস্থা রয়েছে। তবে তা একেবারে অপারগ হলেই কেবল গ্রহণীয়।

কিন্তু যারা পারিপার্শ্বিক নানা অব্যবস্থাপনার জন্য দৃষ্টি হারাচ্ছেন বা একেবারেই হারানোর শঙ্কা রয়েছে তাদের সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই। ৫ নভেম্বর দৈনিক মানবকণ্ঠে প্রকাশিত একটি সংবাদে প্রতি বছর চল্লিশ হাজার মানুষ দৃষ্টি হারাচ্ছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক খবর।

প্রতিনিয়ত আমরা ভেজাল খাবার খাচ্ছি। বদ্ধ পরিবেশে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছি। পড়াশোনা কিংবা কর্মক্ষেত্রে ইলেক্ট্রনিক সরঞ্জামের সামনে বসে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হচ্ছে। শিশুদের হাতে অনায়াসে মোবাইল, ট্যাব তুলে দিচ্ছি। খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রেও আমরা সবুজ শাক সবজি, ছোট মাছ বাদ দিয়ে রিচ ফুড বা ফাস্ট ফুড গ্রহণ করছি। আর এসবের যোগফল হলো দৃষ্টি হারানো।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে চক্ষু চিকিৎসায় চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির কোনো ঘাটতি নেই। শুধু প্রয়োজন সচেতনতা। অনেকে চোখের ডাক্তারের কাছে যেতে চান না। আবার চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চশমা ব্যবহার করেন না। এটি অত্যন্ত ভুল একটি আচরণ বা সিদ্ধান্ত। চিকিৎসক প্রয়োজন ছাড়া চশমা ব্যবহারের পরামর্শ দেবেন না, দেন না এটি মাথায় রাখতে হবে।

বাংলাদেশে অন্ধ মানুষ রয়েছে প্রায় ১৪ লাখ। শহরের ধুলোময় পরিবেশ, পর্যাপ্ত সবুজ গাছপালা না থাকা, অপরিশোধিত পানি ও কল-কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়াসহ নানা কারণে মানুষের দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পাচ্ছে। এ ছাড়া দীর্ঘসময় ধরে শিশু-কিশোর ও যুবকদের কম্পিউটার, মোবাইলে ইন্টারনেটসহ ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্র ব্যবহারের আসক্তি, খোলা পরিবেশ না থাকায় প্রতিবছর আশঙ্কাজনক হারে অন্ধ হওয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বর্তমানে আমরা সবাই ব্যস্তময় সময় পার করছি এটা ঠিক। যারা শিক্ষার্থী তারাও সারাক্ষণ বইয়ে মুখ গুঁজে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে চোখ প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পাচ্ছে না। মনে রাখতে হবে চোখেরও চাপ নেয়ার ক্ষেত্রে সহনীয় সীমা রয়েছে। এর বাইরে অতিরিক্ত চাপ নিতে গেলে চোখের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বেই।

বাংলাদেশে চক্ষু চিকিৎসক রয়েছেন ৮শ’ জন। প্রায় ৬শ’ চিকিৎসক সানি অপারেশন করতে পারেন। এর মধ্যে ১৬ জন পেডিয়েট্রক্স, ২০ জন বিট্রিও রেটিনা, ২০ জন গ্লকোমা, ১৫ জন অকুয়োস্ট্রিক, ৬ জন নিউরো অর্থোমোলোজি, ৪ জন ল ভিশন, ১২ জন ক্রোমা, ১০ জন রিপ্রেক্টিভ সার্জন ও ১০ জন কমিউনিটি অর্থোমোলোজি বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। সুতরাং নিজ দৃষ্টিশক্তি নিয়ে সচেতন হলে এদের সহযোগিতা নেয়া যেতে পারে।

জন্মগত যেসব দৃষ্টিত্রুটি রয়েছে সেখানে হয়তো কারো কিছু করার না থাকতেই পারে। কিন্তু নিজ অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে দৃষ্টিশক্তির বিপদ ডেকে আনলে তা ক্ষমার যোগ্য হবে না। ছোটকাল থেকেই সন্তানকে শাক সবজি ও ছোট মাছ খাওয়ায় অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘুরতে যান। দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করুন।

মানব্কণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads





Loading...