দুগ্ধ প্রকল্পের অনিয়ম তদন্ত করতে হবে

মানবকণ্ঠ
সম্পাদকীয় - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • সম্পাদকীয়
  • ০৫ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৪৩

দুধ পুষ্টির আধার। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পুষ্টির চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করে দুধ। কিন্তু দুধ উৎপাদনে দেশ স্বনির্ভর না হয়ে এখনো আমদানিনির্ভর। তাই দুগ্ধ উৎপাদনকে স্বয়ংসম্পন্ন করতে সরকার উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সেই উন্নয়ন প্রকল্প যদি শুরুতেই অনিয়মে ভরে যায়, তাহলে সরকারের লক্ষ্য অর্জন যে ব্যাহত হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। দুগ্ধ প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে এমনই একটি সংবাদ মানবকণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদে বলা হয়েছে, প্রকল্পে সরকারের গচ্চা যাচ্ছে ২৩ কোটি টাকা। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ৫ শতাংশ বেশি সার্ভিস চার্জ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। এতে প্রকল্পের লোকসানের মাত্রা বাড়ছে।

দুগ্ধ শিল্পের উন্নয়নে সরকার বিগত কয়েক বছর থেকে নানাভাবে পদক্ষেপ নিয়ে আসছে। ব্যাংক ঋণ থেকে শুরু করে প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শ তৃণমূলের মানুষকে পশুপালনে উৎসাহিত করছে। যার ফলে ঘরে ঘরে চলছে পশু পালনের কার্যক্রম। অনেকে আবার ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় গাভি পালন করে দুগ্ধ উৎপাদনে অবদান রাখছে। উৎপাদিত এসব দুধ কোনো কোনো খামারি বাজারজাতকারী দুগ্ধ প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করলেও বেশির ভাগ উৎপাদিত দুধ গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে পৌঁচ্ছে যায় চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে।

আর দুগ্ধ উৎপাদনকারী পরিবারগুলো কিছুটা হলেও স্বাবলম্বী হচ্ছে দুধ বিক্রি করে উপার্জিত অর্থ থেকে। দেশে যে পরিমাণ দুগ্ধ উৎপাদন হয় তা চাহিদা নিবারণে যথেষ্ট নয়। এ কারণে প্রতি বছরই বিদেশ থেকে গুঁড়ো দুধ আমদানি করতে হয়। একশ্রেণীর কোম্পানি এসব গুঁড়ো দুধ আকর্ষণীয় মোড়কে প্যাকেটজাত করে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে শিশুখাদ্য হিসেবে উচ্চ মূল্যে বাজারে বিক্রি করে। গুঁড়ো দুধ এভাবে নির্ভরতা বাড়িয়ে দিয়েছে ক্রেতাদের মাঝে। মানুষ নিরুপায় হয়ে কিনছে এসব গুঁড়ো দুধ। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে দুগ্ধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পন্নতা অর্জন করা।

সেই সঙ্গে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করা। এই লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেয়া হলেও নানা রকম সীমাবদ্ধতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, অনিয়ম, দুর্নীতি সরকারের শুভ ইচ্ছাগুলোকে ভেস্তে দিচ্ছে। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে দুগ্ধ শিল্পের উন্নয়ন প্রকল্পে অনেকটা তাই হতে চলেছে।

প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ৪ হাজার ২০০ কোটি টাকায় দুগ্ধ খাতের উন্নয়নে দেশে ৪৬৫টি উপজেলায় সরকারের প্রাণিসম্পদ বিভাগ এ প্রকল্প গ্রহণ করে। সেই প্রকল্পে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করে দেয়া কিছু পদে সরকারি প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী জনবল নিয়োগ করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ অনিয়ম করে প্রকল্প পরিচালক থেকে শুরু করে বিভিন্ন জনবল নিয়োগে বড় ধরনের অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন, যা সংবাদে সবিস্তারে প্রকাশিত হয়েছে।

এই সংবাদে বলা হয়েছে, এতে সরকারের ২৩ কোটি টাকা গচ্চা গেছে। দেশে দুগ্ধ খাতের উন্নয়ন জরুরি বিধায় বিশ্বব্যাংক ও দেশের নীতিনির্ধারণী কর্তৃপক্ষ চিন্তাভাবনা করে প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্প যদি অনিয়মের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে সরকারের সুদূরপ্রসারি লক্ষ্য ব্যাহত হবে। পুষ্টির আধার দুধ উৎপাদনে দেশের জনগণ পিছিয়ে থাকবে। দেশও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে গুঁড়ো দুধ আমদানির মাধ্যমে চাহিদা নিবারণ করে যাবে। গুটি কয়েক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কাছে এত বড় সুচিন্তিত প্রকল্পের চলমানতা বিঘ্নিত হতে পারে না।

সব বাধা পেরিয়ে দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে যেতে হবে। এজন্য সরকার ঘোষিত দুর্নীতির জিরো টলারেন্স নীতির প্রতি লক্ষ্য রেখে দুগ্ধ প্রকল্পের সব অনিয়ম অচীরেই তদন্ত করে দেখতে হবে। সংবাদে প্রকাশিত তথ্যের সত্যাসত্য যাচাই করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপরাধের মাত্রার প্রমাণসাপেক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। দুগ্ধ প্রকল্পের মতো জনগুরুত্বসম্পন্ন একটি প্রকল্পে অনিয়ম কখনোই বরদাস্ত করা উচিত হবে না। আমরা মনে করি সরকার বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দেখবে।

মানবকণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads





Loading...