পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে

মানবকণ্ঠ
সম্পাদকীয় - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • সম্পাদকীয়
  • ০৪ নভেম্বর ২০১৯, ১৪:৪৮

বাঙালির খাদ্য-সংস্কৃতিতে রন্ধনশিল্পের অনুষঙ্গ পেঁয়াজ। পেঁয়াজ তরিতরকারি রান্নার আবশ্যকীয় উপকরণ হিসেবে সমাদৃত। বিশেষ করে শাক-সবজি, মাছ, মাংস রান্নায় প্রধান উপাদানের একটি হচ্ছে পেঁয়াজ। এই পেঁয়াজ নিয়ে চলছে সঙ্কটজনক অবস্থা। গত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে হঠাৎ ভারত পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর আমদানিনির্ভর এই দেশে পেঁয়াজের মূল্য ঊর্ধ্বগতি ধারণ করে।

মানবকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, ভারত থেকে আমদানি বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত পেঁয়াজের দাম ছিল ৪০ টাকা। রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারির পর দাম বেড়ে হয় ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এরপর বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানির উদ্যোগ নেয়া হলেও সব উদ্যোগকে ব্যর্থ করে দিয়ে এখন এই পেঁয়াজ প্রায় তিন গুণ দামে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় উঠে এসেছে। যদিও পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা কমার সংবাদ পাওয়া গেছে কিন্তু এর প্রভাব খুচরা বাজারে এখনো পড়েনি। প্রশ্ন হচ্ছে, এত চেষ্টা ও আমদানি তৎপরতার পরও কেন পেঁয়াজের দাম নেমে আসছে না?

ভারত হঠাৎ করে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়ার পর বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে তুরস্ক ও মিসর থেকে আমদানি করা হয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমার থেকে যে পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে, তাতে বাজার স্থিতিশীল হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এতে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল তো হয়ইনি বরং লাফিয়ে লাফিয়ে আরো বেড়েছে। ৪০ টাকার পেঁয়াজ ৫০-৬০ টাকা থেকে পর্যায়ক্রমে ১০০ টাকায় এসে কিছুটা থিতু হয়েছিল। ভোক্তা সাধারণ ভেবেছিলেন এখান থেকেই বুঝি পেঁয়াজের দাম নিম্নমুখী হবে। কিন্তু না, সর্বসাধারণের আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে পেঁয়াজের দাম এখন ১৫০ টাকায় এসে ঠেকেছে।

এই দাম বাড়ার পেছনে ওঁৎপেতে থাকা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন সচেতন মহল। আগে যারা ভোজ্যতেল আমদানি করতেন, এখন তাদেরই কেউ কেউ নিশ্চিত মুনাফা অর্জনের নতুন পণ্য হিসেবে পেঁয়াজকে বেছে নিয়েছেন। অভিজ্ঞ মহলের ধারণা, শুধু গুটিকয়েক সিন্ডিকেটের দুরভিসন্ধিমূলক অপতৎপরতার কারণে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানির পরও দাম কমিয়ে আনা যায়নি।
সঙ্কটকালীন এই কয়েক মাসে টিসিবি ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছিল। বিধি মেনে যথারীতি পেঁয়াজ ট্রাকে করে বিভিন্ন স্পটে বিক্রিও করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও পেঁয়াজের দাম অনিয়ন্ত্রিত থেকে যাচ্ছে। তড়িঘড়ি করে এত আমদানি করার পরও বাজারে প্রভাব পড়েনি। এক কথায়, পেঁয়াজের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রকৃত ব্যবসায়ীদের হাতে না থেকে একশ্রেণির সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীর হাতে চলে গেছে।

বাজারে এমন টালমাটাল অবস্থায় স্বল্প আয়ের বা মধ্যবিত্ত শ্রেণির অনেক পরিবার পেঁয়াজের ব্যবহার অনেক কমিয়ে দিয়েছে। তারা মাছ, মাংস ছাড়া সাধারণ তরিতরকারিতে পেঁয়াজের ব্যবহার একবারেই করছেন না। অনেক মজুর শ্রেণির পরিবার শাকসবজিতেও পেঁয়াজ ব্যবহার করছে না। এভাবেই তারা পেঁয়াজের উচ্চ মূল্য থেকে নিজেদের অর্থ সাশ্রয় করার চেষ্টা করছেন।

একটি নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য থেকে বাঁচতে এই যে পরিবারগুলোর নিজস্ব প্রচেষ্টা- এটা কোনো সমাধানে পথ হতে পারে না। যেখানে দেশ আছে, প্রশাসন আছে- সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পেঁয়াজের মতো একটা নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না- তা কী করে হয়? দেশের অভ্যন্তরে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক শক্তি ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থা উদ্ঘাটন করতে পারে না- এমন কোনো অনিয়ম নেই।

আমরা মনে করি, পেঁয়াজের উচ্চমূল্যের সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেট ও মজুতদারদের অচিরেই চিহ্নিত করা দরকার। সেই সঙ্গে দেশবাসীর সামনে পেঁয়াজ কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের মুখোশ উন্মোচন করা দরকার। অভিযান চালানো দরকার তাদের গোপন গোডাউনগুলোয় এবং এই পেঁয়াজের উচ্চমূল্যের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার কথাও ভাবা দরকার। তাহলেই কেবল এসব মুনাফাখোরদের প্রতিরোধ করা যেতে পারে।

মানবকণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads





Loading...