শোক ও কলঙ্ক দিবস আজ

মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • সম্পাদকীয়
  • ০৩ নভেম্বর ২০১৯, ১০:২৯

শোকাবহ জেলহত্যা দিবস আজ। বাঙালি জাতি তো বটেই যে কোনো সভ্য সমাজের জন্য আজকের দিনটি কলঙ্কময় একটি দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন রাজনৈতিক সহচর ও মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতা স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকারী উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থমন্ত্রী এম মনসুর আলী এবং খাদ্য ও ত্রাণমন্ত্রী এএইচএম কামারুজ্জামানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

কারাগারের মতো নিরাপত্তা বলয়ে বন্দি থাকা এসব রাজনৈতিক নেতার নির্মম হত্যাকাণ্ড জাতিকে শুধু মর্মাহতই করে না, একইসঙ্গে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেয়। কারণ একজন সাধারণ অপরাধীরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কারা কর্তৃপক্ষের প্রথম ও প্রধান কর্তব্য। কিন্তু সেই সময়ে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা তা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এমন কি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রার্থনার পথও তৎকালীন সরকার রুদ্ধ করে রেখেছিল। অথচ এসব সন্তানরা দেশের সূর্যসন্তান ছিলেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পরও খুনি মোশতাক ও জিয়াচক্র নিশ্চিত হতে পারেননি। তারা জানতেন বঙ্গবন্ধু নেই, কিন্তু তার সহচর এই চার নেতা জীবিত থাকলে তাদের অপউদ্দেশ্য সফল হবে না। তাই তারা কারান্তরালে এই জাতীয় চার নেতাকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে। তাদের হত্যা করার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় ও চেতনাকে নির্মূল করা। কিন্তু সময় তার আপন গতিতে চলে। বঙ্গবন্ধু এবং চার নেতাকে হত্যার পর বাংলাদেশ তার স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে বাধাগ্রস্ত হয়েছে ঠিকই। কিন্তু থেমে যায়নি, হেরে যায়নি।

কারণ বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষ ঘুরে দাঁড়াতে জানে। এদেশের মানুষ শুধু সঠিক নির্দেশনা চায়, আক্ষরিক অর্থেই একজন দেশপ্রেমিক নেতা চায়। দীর্ঘ একুশ বছর পর বাংলার জনগণ তাদের কাক্সিক্ষত নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় পেয়েছে। বলা যায়, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাওয়ার পথযাত্রা সেই থেকে শুরু। আজ জনগণ আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সব ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে ঐক্যবদ্ধভাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে এগিয়ে চলেছে দুর্বার। কুচক্রীমহলের কুচক্রের বিরুদ্ধে এটিই মোক্ষম জবাব।

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার ক্ষমতায় আসার কারণেই এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্ভব হয়েছে। ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এ মামলার রায়ে আসামি তিন জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং এবং ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ২০০৮ সালে হাইকোর্ট রিসালদার মোসলেম উদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেও মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্য দুই আসামি মারফত আলী ও হাশেম মৃধাকে খালাস দেন। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ফারুক, শাহরিয়ার রশিদ, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন আহমেদকেও খালাস দেয়া হয়।

কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০১৩ সালের ১৫ এপ্রিল সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ রায়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের দেয়া তিন জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখে। খুনিদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি মধ্য রাতে সৈয়দ ফারুক রহমান, শাহরিয়ার রশীদ খান, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় এখনও ১০ জন আসামি পলাতক রয়েছে।

স্বাভাবিকভাবেই তাদের কাছে সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা তারা জেলহত্যা মামলার আসামি যারা পলাতক রয়েছে তাদেরও দেশে এনে বিচারের সম্মুখীন করবে। আজ বিভিন্ন পরিসরে জেলহত্যা দিবস পালিত হবে। নিহতদের স্মরণ করা হবে এবং দেশের প্রতি তাদের অসামান্য অবদান বারংবার উচ্চারিত হবে। এসবের পাশাপাশি তাদের সম্পর্কে সারা বছরই প্রচার প্রচারনার প্রয়োজন রয়েছে মনে করি। কারণ এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম তাদের সম্পর্কে আরো বেশি জানার সুযোগ পাবে।

মানবকণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads





Loading...