জনসচেতনতার বিকল্প নেই

মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • সম্পাদকীয়
  • ০১ নভেম্বর ২০১৯, ১১:৩৭

শিশুদের জন্য আনন্দ করার সুযোগ ধীরে ধীরে সীমিত হয়ে আসছে। বাড়ির পাশে, স্কুল প্রাঙ্গণে খেলার মাঠ নেই বললেই চলে। ফলে শিশু-কিশোরদের নিত্যদিন কাটে অনেকটা বন্দিদশায়। বিশেষ করে ঢাকা শহর শিশুদের জন্য বন্দি এক কারাগার। এখানে বুক ভরে নিঃশ্বাস নেয়ারও সুযোগ নেই। বাতাসে বিষাক্ত ধোঁয়া। ধনীর আদরের দুলাল-দুলালী ছাড়া তাদের জন্য অভিভাবকরা হয়তো বিকল্প অনেক ব্যবস্থা করে দিতে পারেন। কিন্তু যারা বস্তিবাসী- জন্মই যাদের বঞ্চনায়, জীবন কাটে নানা অবহেলায়, আনন্দের খোঁজে তারা বেলুনওয়ালার কাছে ছুটে যাবে-এটি খুব স্বাভাবিক। যদি কেউ কিনতে না পারে দেখে চোখজুড়ানোর আনন্দটুকুও তাদের জন্য কম নয়। কিন্তু তা যে এভাবে হরিষে বিষাদ হবে তা কে জানত?

দু’তিন দিন পর পর নিয়ম করে আসা বেলুনওয়ালাই যে মৃত্যুর দূত হয়ে উঠবে কে বা ভেবেছিল? তবু মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। অকালেই ঝরে গেল কতগুলো প্রাণ! আহতদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

বেলুন সিলিন্ডার বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা এই প্রথম নয়, এর আগের এধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট মহল থেকে কোথাও গ্যাস সিলিন্ডারে বেলুন ফুলিয়ে বিক্রি করতে দেখলে পুলিশকে জানানোর কথাও বলা হয়েছে কিন্তু বিষয়টি তেমন কেউ গুরুত্বে নেয়নি। আমাদের নাগরিকদের মধ্যে একটি বিষয় খুব প্রসিদ্ধ হয়ে গেছে যে, কোনো একটি ঘটনা ঘটার পর আমরা সবাই খুব হইচই করি। এরপর সব ভুলে যাই। যার ফলে এধরনের মর্মান্তিক প্রত্যক্ষ করতে হয়।

শুধু যে বেলুন সিলিন্ডার বিষয়ে সবার এই অবহেলা, উদাসীনতা তা নয়, বাসাবাড়ি, বাসগাড়ি, হোটেল রেস্টুরেন্টে যে সব সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয় সেগুলোর ঝুঁকিও কম নয় কিন্তু বাজার ঘুরলে মানহীন সিলিন্ডারের অভাব নেই। লোকে বিশ্বাস করে তা কিনছে এবং নিজ বাসগৃহকে বোমের আওতায় নিয়ে আসছে অথচ এগুলো তদারকি করার জন্য প্রশাসনিক তৎপরতা খুব জরুরি। কারণ সাধারণ মানুষের পক্ষে মান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে পণ্য ক্রয় করা সম্ভব নয় কিন্তু এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের খুব মাথাব্যথা রয়েছে তা বলার সুযোগ নেই। সর্বত্র প্রায় সব পণ্য নিয়ে অসৎ বাণিজ্য চলছে। ঝুঁকির মুখে পড়ছে সাধারণ অসহায় মানুষ।

বেলুন ফোলাতে যে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব সিলিন্ডার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জনস্বার্থে এমন ঝুঁকিপূর্ণ সিলিন্ডার অবিলম্বে বন্ধ করে দেয়া উচিত বলে মনে করেন তারা। এ জাতীয় সিলিন্ডারে অতিরিক্ত প্রেসার দিয়ে গ্যাস ভরা হয়। তাছাড়া এগুলোর মেয়াদ ঠিকমতো চেক করা হয় না। যে কারণে প্রায়ই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটছে। বারবার একই ধরনের দুর্ঘটনা ঠেকাতে জনসাধারণকে সচেতন হতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতকে গুরুত্ব দিতে হবে।

শুধু বেলুন গ্যাস সিলিন্ডারই নয়, সব ধরনের গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের আগে যাচাই-বাছাই করে নিতে হবে। নিশ্চিত হওয়া যায় এমন সোর্স থেকেই তথ্য যাচাই করতে হবে। সিলিন্ডার বিক্রির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি নিরাপত্তার বিষয়ে লিখিত নিশ্চয়তা যাতে দেয় সেই উদ্যোগ নিতে হবে। জনসচেতনতা ছাড়া এধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সম্ভব নয় বলেই মনে করি।

মানবকণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads





Loading...